চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ি বালক উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের জন্য অপেক্ষা করছিলেন ৫৫ বছর বয়সী মনু মিয়া। দীর্ঘ সময়ের জন্য ভোটারদের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকাকালীন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তিনি মাটিতে পতিত হন এবং স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে পৌঁছানোর পর মৃত ঘোষিত হন।
কাজীর দেউড়ি এলাকার ব্যাটারিগলি মোহল্লায় অবস্থিত এই ভোটকেন্দ্রটি নির্বাচনের দিন বিশাল ভোটার প্রবাহের মুখোমুখি হয়। ভোটারদের স্বাভাবিকভাবে ভোট দেওয়ার জন্য প্রি-সাইডিং সিস্টেমের অধীনে অপেক্ষা করতে হয়, যা প্রায়শই কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত টানা থাকে। এই পরিস্থিতিতে মনু মিয়া ভোটের জন্য সকালবেলা কেন্দ্রে পৌঁছান এবং দীর্ঘ লাইনে তার পালার অপেক্ষা করছিলেন।
মৃত্যুবার্তা পাওয়া যায় যে মনু মিয়া কাজীর দেউড়ি ব্যাটারিগলি এলাকার বাসিন্দা, যিনি স্থানীয় সমাজে পরিচিত ছিলেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রথম দিন ভোট দিতে উপস্থিত ছিলেন, তবে ভোটারদের দীর্ঘ সময়ের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা শারীরিক চাপ তার স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সকালবেলা ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং উপস্থিত কয়েকজন স্বাক্ষী জানান, মনু মিয়া লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের পালার অপেক্ষা করছিলেন। হঠাৎ তিনি শ্বাসকষ্টের লক্ষণ দেখিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার অবস্থা তৎক্ষণাৎ লক্ষ্য করা হয় এবং আশেপাশের লোকজন দ্রুত তার পাশে গিয়ে সাহায্য করার চেষ্টা করেন।
প্রথমে উপস্থিত কিছু স্বেচ্ছাসেবক এবং ভোটকেন্দ্রের কর্মীরা মনু মিয়াকে সোজা করে তুলতে এবং মৌলিক শ্বাসপ্রশ্বাস পরীক্ষা করতে সাহায্য করেন। তার শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়ে, তারা কাছাকাছি থাকা একটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করে জরুরি সেবা কল করেন। দ্রুতই স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে রেসকিউ টিম পৌঁছায় এবং তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর, সেখানে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকরা মনু মিয়ার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে জানিয়ে দেন যে তিনি মৃত। রোগীর হৃদয়বহির্ভূত কোনো কার্যকলাপ রেকর্ড করা যায়নি, ফলে মৃত্যুর কারণ হিসেবে হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ব্যর্থতা বা শ্বাসযন্ত্রের অচলতা অনুমান করা হচ্ছে। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণের জন্য পোস্ট-মর্টেম পরীক্ষা প্রয়োজন।
দীর্ঘ সময়ের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা, বিশেষ করে গরম আবহাওয়া এবং পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের অভাবের সঙ্গে মিলিয়ে, হঠাৎ হৃদযন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়ে থাকেন যে, ভোটের দিনগুলিতে ভোটারদের দীর্ঘ সময়ের জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, যা রক্তচাপের ওঠানামা, ডিহাইড্রেশন এবং হৃদযন্ত্রের অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক এবং পূর্বে কোনো হৃদরোগের ইতিহাস থাকা ব্যক্তিদের জন্য এই ধরনের পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
এই ধরনের ঘটনাকে প্রতিরোধের জন্য নির্বাচন কমিশন এবং স্থানীয় প্রশাসনকে ভোটকেন্দ্রগুলোতে মৌলিক প্রাথমিক চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা উচিত। জরুরি মেডিকেল কিট, রক্তচাপ মাপার যন্ত্র এবং প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের উপস্থিতি জরুরি অবস্থায় দ্রুত সাড়া দিতে সহায়তা করবে। এছাড়া, ভোটারদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা থেকে রক্ষা করার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা, যেমন অনলাইন ভোটিং বা আগাম ভোটদান, বিবেচনা করা যেতে পারে।
মৃত্যুজনিত এই দুঃখজনক ঘটনা ভোটারদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরেছে। ভোটের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি, ভোটারদের শারীরিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নেওয়া কতটা জরুরি, তা নিয়ে আপনার কী মতামত? আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, তা নিয়ে আলোচনা করুন।



