খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া‑ফুলতলা) আসনের পশ্চিম শিরোমনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটদান শেষে জামায়াত-এ-ইসলামির সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার দেশের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, আজকের ভোটগ্রহণে মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করছে এবং এই প্রক্রিয়া দেশের নতুন দিগন্তের সূচনা হতে পারে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৭:৩০ টায় খুলনা-৫ সহ ছয়টি আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গণভোট শুরু হয়। ভোটকেন্দ্রের সামনে দীর্ঘ সারি গড়ে ওঠে, যেখানে পুরুষ, নারী, বয়স্ক ও তরুণ ভোটাররা একত্রে অংশ নিতে দেখা যায়। ভোটারদের হাতে ভোটার স্লিপ এবং মুখে উৎসবমুখর হাসি, যা ভোটের পরিবেশকে আনন্দময় করে তুলেছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার ভোটকেন্দ্রের প্রবেশের পর তৎক্ষণাৎ ভোটদান প্রক্রিয়া শুরু হয়। তিনি জানান, ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি একই কেন্দ্রে প্রার্থী ছিলেন, তবে তখন ফোনে জানানো হয়েছিল যে ভোট দিতে আসলে গ্রেপ্তার হতে পারেন। সেই সময়ের তুলনায় আজকের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন, মানুষ স্বচ্ছন্দে ভোট দিচ্ছে, যা তিনি “পরিবর্তিত বাংলাদেশ” হিসেবে বর্ণনা করেন।
ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী ছিল; পুলিশ ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি সামরিক টহল দলও উপস্থিত ছিল। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভোটারদের স্বাচ্ছন্দ্য বাড়িয়ে দেয় এবং ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। ভোটদান প্রক্রিয়ার সময় ভোটারদের মধ্যে পারস্পরিক সহানুভূতি ও উৎসাহের দৃশ্য দেখা যায়।
কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষমাণ ভোটারদের মধ্যে ৬০ বছর বয়সী মজিবর সরদার রহমানের মতো অভিজ্ঞ ভোটারও ছিলেন। তিনি জানান, ভোটকেন্দ্রের ঠিক পাশে তার বাড়ি থাকায় তিনি তাড়াতাড়ি পৌঁছাতে পেরেছেন এবং ভোট দিতে পেরে আনন্দিত। একই সময়ে ৩০ বছর বয়সী গৃহিণী নিগার সুলতানা তুলির জোড়া সঙ্গীর সঙ্গে ভোট দিতে গিয়ে উচ্ছ্বসিত বোধ করেন। উভয়ই ভোটের পরিবেশকে উৎসবমুখর বলে উল্লেখ করেন।
ভোটকেন্দ্রের ভিতরে ভোটার স্লিপ হাতে নিয়ে অপেক্ষা করা মানুষদের মুখে কৌতূহল ও উত্তেজনা স্পষ্ট। দীর্ঘ সারি সত্ত্বেও কোনো বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি; নিরাপত্তা বাহিনীর সঠিক তত্ত্বাবধানের ফলে প্রক্রিয়া মসৃণভাবে চলেছে। ভোটগ্রহণের সময় নারী ভোটারদের উপস্থিতি বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়, যা লিঙ্গ সমতা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ইতিবাচক সূচক।
মিয়া গোলাম পরওয়ার ভোটের পরের মন্তব্যে তিনি আশাবাদী যে, এই শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের পর দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন পরিবর্তন আসবে। তিনি উল্লেখ করেন, “ইনশাআল্লাহ, এই জাতি একটি উপহার পাবে” এবং দেশের উন্নয়নের জন্য ভোটের ফলাফলকে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষকরা এই ভোটগ্রহণকে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে মূল্যায়ন করছেন। শান্তিপূর্ণ ভোটদান এবং ব্যাপক অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচনের বৈধতা বৃদ্ধি পাবে, যা পরবর্তী রাজনৈতিক আলোচনার ভিত্তি গড়ে তুলবে। জামায়াত-এ-ইসলামির এই মন্তব্যের ফলে পার্টির ভোটার ভিত্তি ও ভবিষ্যৎ কৌশলেও প্রভাব পড়তে পারে।
সামগ্রিকভাবে, খুলনা-৫ আসনে ভোটগ্রহণের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং ভোটারদের উচ্ছ্বাস দেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উন্নয়নে ইতিবাচক সংকেত প্রদান করেছে। ভোটের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকে নতুন কৌশল গড়ে তুলতে হবে, যাতে দেশের পরিবর্তনের প্রত্যাশা পূরণ করা যায়।



