গুলশান‑২ নম্বরের গুলশান মডেল হাই স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রে আজ বৃহস্পতিবার বিকাল ভোট শেষ করার পর বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও দেশের ভবিষ্যৎ নীতিমালা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা প্রকাশ করেন। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন, যেখানে তিনি ভোটারদের অধিকার প্রয়োগের গুরুত্ব ও গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
গণভোটের সময় তারেক রহমান গুলশান‑২ নম্বরের কেন্দ্রে সকাল ৯:৩০ টার দিকে পৌঁছান এবং প্রায় দশটায় ভোটদান শেষ করে ভোটের ফলাফল জানার জন্য মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, “আজ দেশের মানুষ যদি সারা দিন বাইরে গিয়ে তাদের অধিকার ব্যবহার করে ভোট দেয়, তবে কোনো ষড়যন্ত্রকে বাধা দেওয়া সম্ভব হবে।”
তবে তিনি স্বীকার করেন যে, গত রাত থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, যা তিনি “কাম্য নয়” বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, “সারা দেশের খবর এখন পর্যন্ত আমার হাতে পৌঁছায়নি, তবে আমরা কিছু অপ্রিয় তথ্য পেয়েছি, যা আমাদের প্রত্যাশার বিপরীত।”
এই অপ্রত্যাশিত ঘটনাগুলোর মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের কথা তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোরভাবে হস্তক্ষেপ করেছে এবং আমরা টেলিভিশনে যে দৃশ্য দেখেছি, তা থেকে স্পষ্ট যে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছে।”
তাঁর মন্তব্যে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পায়। তিনি বলেন, “ভোটগ্রহণ এখনই শুরু হয়েছে, ফলাফল না জানলেও আমি আশাবাদী যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা যাবে এবং কোনো ষড়যন্ত্রকে রোধ করা সম্ভব হবে।”
বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, এ কথাও তিনি জোর দিয়ে বলেন। তিনি যোগ করেন, “সামগ্রিকভাবে জনগণ যেন নিরাপদ বোধ করে, সেটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
নারী অধিকার নিয়ে তারেক রহমানের বক্তব্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, তাদের পিছনে রেখে কোনো অগ্রগতি সম্ভব নয়। সরকার গঠন হলে নারীর মূল্যায়ন ও ক্ষমতায়নকে প্রথম দিন থেকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”
গুলশান‑২ নম্বরের গুলশান মডেল হাইস্কুল ও কলেজ কেন্দ্র ঢাকা‑১৭ সংসদীয় আসনের অধীন, এবং এই আসনের প্রার্থীও তারেক রহমান। ভোটদানকালে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে জাইমা ইসলাম, যারা তার রাজনৈতিক প্রচারণায় সমর্থন জানিয়েছেন।
এই নির্বাচনী দৌড়ে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তারেক রহমানকে সমর্থন জানিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তারা হলেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের এস এম আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. শামীম আহমদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মুহাম্মদ রাশেদুল হক এবং ইনসানিয়াতের প্রতিনিধিরা।
প্রতিদ্বন্দ্বীদের এই পদক্ষেপকে তারেক রহমান স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এটি আমাদের জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ মঞ্চ তৈরি করবে এবং ভোটারদের কাছে পরিষ্কার বার্তা পৌঁছাবে যে আমরা একসাথে দেশের উন্নয়নে কাজ করব।”
ভোটের পর তিনি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সংক্ষেপে জানান, আইনশৃঙ্খলা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “যদি আমরা ক্ষমতায় আসি, তবে প্রথম দিন থেকেই এই অগ্রাধিকারগুলো বাস্তবায়নে কাজ শুরু করব, যাতে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জীবনমান উন্নত হয়।”



