গোপালগঞ্জে বৃহস্পতিবার সকাল ৭:৩০ টা থেকে বিকেল ৯:৩০ টা পর্যন্ত ছয়টি ভোটকেন্দ্রে ভোটদান শান্তিপূর্ণভাবে চালু হয়েছে। সকালবেলায় ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেল, তবে সময়ের সাথে সঙ্গে মানুষ কেন্দ্রে জমা দিতে শুরু করে। গোপালগঞ্জ সদর ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলার মোট ছয়টি কেন্দ্রের মধ্যে দুটি সদর এবং চারটি টুঙ্গিপাড়া এলাকায় অবস্থিত।
ভোরে ভোটকেন্দ্রগুলোতে কোনো ভোটার না থাকলেও, প্রার্থীর পোলিং এজেন্টরা ইতিমধ্যে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ করে গোপালগঞ্জ সদরতে বীণাপানি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সকাল ৭:৩০ টায় কোনো ভোটার দেখা যায়নি, তবে এজেন্টদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
সকাল ৮টার দিকে ভোটারদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী, মনীষা অর্থি, প্রথমবারের মতো ভোট দেন এবং বলেন, “আমরা তরুণ প্রজন্ম, যারা স্বৈরাচারকে বিদায় জানিয়ে দেশের ভবিষ্যতে আশা জাগিয়ে তুলতে চাই।” তিনি আরও যোগ করেন, “পরিবেশ নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ মনে হয়েছে।”
টুঙ্গিপাড়া জিএসই (জিএসই) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দিকে গিয়ে দেখা যায়, নারীরা ভোটদান শেষে বেরিয়ে আসছেন। সেখানে উপস্থিত এক ভোটার, খাদিজা পারভীন, জানান, “চাকরির কারণে আগে কখনো ভোট দিতে পারিনি, এবার এলাকার মধ্যে থাকায় প্রথম ভোট দিলাম।” তিনি ছোট সন্তানদের সঙ্গে ভোটের পরিবেশ উপভোগ করতে দেখানো হয়।
টুঙ্গিপাড়া সরকারি কলেজের কেন্দ্রে উপস্থিত দীপালী রানী সাহা বলেন, “প্রতিবারের মতো এবারও সবাই মিলে ভোট দিতে এসেছেন।” তিনি ভোটের সময়ের উচ্ছ্বাসকে উল্লেখ করে বলেন, “এখানে ভোটের সংখ্যা বাড়ছে এবং মানুষজনের অংশগ্রহণের মনোভাব দৃঢ়।”
গোপালগঞ্জ সদরতে গিমাডাঙ্গা মুন্সিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৯৩৬। প্রথম দেড় ঘণ্টায় ১৩০টি ভোট নথিভুক্ত হয়েছে। গিমাডাঙ্গা টুঙ্গিপাড়া (জিটি) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ভোটার সংখ্যা ২,৫৪০, যার মধ্যে প্রথম দুই ঘণ্টায় ১১৪টি ভোট নথিভুক্ত হয়েছে। এই দুই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা, রাকিবুল ইসলাম এবং কে এম শাহনেওয়াজ, উল্লেখ করেন, “সকালবেলায় উপস্থিতি কম হলেও বিকেলে ভোটার সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করা যায়।”
সকাল ৯:৩০ টায় গিমাডাঙ্গা টুঙ্গিপাড়া (জিটি) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো ভোটার দেখা যায়নি, যদিও এই বিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শিক্ষার ইতিহাস রয়েছে। টুঙ্গিপাড়া সরকারি কলেজের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া জানান, “সকালবেলায় ভোটার সংখ্যা কম, তবে বিকেলে অংশগ্রহণ বাড়বে বলে পূর্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমরা আশাবাদী।”
গত রাতের ঘটনাও ভোটের পরিবেশকে প্রভাবিত করেছে। বুধবার রাতের দিকে জেলা সদর ও টুঙ্গিপাড়া এলাকায় নূন্যতম নয়টি ককটেল বোমা বিস্ফোরণ ঘটার পরেও, আজকের দিনটি নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ বলে ভোটকেন্দ্রের কর্মীরা মন্তব্য করেন।
প্রতিটি কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতি এবং প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের তদারকি নিশ্চিত করেছে যে, ভোটদান প্রক্রিয়া স্বচ্ছ এবং আইনানুগভাবে চলছে। কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, বিকেল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের আগমন বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত ভোটের সংখ্যা প্রত্যাশিত স্তরে পৌঁছাবে।
গোপালগঞ্জে আজকের ভোটদান প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায়, নির্বাচনী কমিশনের দৃষ্টিতে এই অঞ্চলটি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত বলে ধরা যায়। ভোটের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে, স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলো ভোটারদের অংশগ্রহণের হার বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ করবে।



