ফরাসি নাগরিক জ্যাক ল্যুভ্যুগলকে নয়টি দেশে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে ৮৯ নাবালকের ওপর যৌন নিপীড়ন ও দু’জনের হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ফরাসি প্রসিকিউটর এতিেন মানতো এই মামলায় ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সামনে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
ল্যুভ্যুগল ১৯৪৬ সালে অ্যানেসিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৬৭ থেকে ২০২২ পর্যন্ত ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের ওপর যৌন অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন। এই সময়কালে তিনি বিভিন্ন দেশে ফ্রিল্যান্স শিক্ষক ও প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন।
প্রসিকিউটরের মতে, ল্যুভ্যুগল ভারত, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, মরক্কো, নাইজার, আলজেরিয়া, ফিলিপাইন, কলম্বিয়া এবং ফ্রান্সের ওভারসিজ টেরিটরি নিউ ক্যালিডোনিয়াতে কাজের সময় এই অপরাধগুলো সম্পন্ন করেছেন। তিনি গুহাবিজ্ঞান (স্পেলিওলজি) ও ফরাসি ভাষা সহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষকতা করতেন।
ল্যুভ্যুগল প্রায়ই গৃহশিক্ষক বা ব্যক্তিগত টিউটর হিসেবে কাজের সুযোগ গ্রহণ করতেন এবং যেখানে গিয়ে তার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এই সম্পর্কের মধ্যে তিনি যৌন শোষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন।
অভিযুক্তের বাড়িতে একটি ইউএসবি ড্রাইভ পাওয়া যায়, যেখানে ১৫টি অংশে নাবালকদের সঙ্গে তার যৌন সম্পর্কের বিশদ বিবরণ লিপিবদ্ধ ছিল। তদন্তকারী এই নথি বিশ্লেষণ করে ৮৯ জন ভুক্তভোগীর পরিচয় নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছেন।
২০২৪ সালে অভিযোগ উত্থাপনের পর থেকে ল্যুভ্যুগল হেফাজতে রয়েছেন। তিনি বর্তমানে ফরাসি আদালতে বিচারাধীন এবং প্রসিকিউটর মামলার সকল দিক দ্রুত সমাধান করার জন্য ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সহযোগিতা চেয়েছেন।
অভিযুক্তের অপরাধ তালিকায় আরও দু’টি হত্যাকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত। ল্যুভ্যুগল স্বীকার করেছেন যে তিনি ক্যান্সার আক্রান্ত তার মাকে বালিশ দিয়ে গিলিয়ে হত্যা করেছেন এবং একইভাবে ৯২ বছর বয়সী তার ফুফুকে ঘুমের অবস্থায় হত্যা করেছেন।
এই স্বীকারোক্তি মামলাকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং তদন্তে নতুন দিক যোগ করেছে। আইনগত প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও হত্যার জন্য আলাদা আলাদা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
প্রসিকিউটর মানতো উল্লেখ করেছেন যে, অভিযুক্তের নাম ও অপরাধের প্রকৃতি জনসাধারণের জানার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যাতে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সামনে আসতে পারে। বর্তমানে তদন্ত সংস্থা সকল প্রমাণের সত্যতা যাচাই করছে এবং অতিরিক্ত সাক্ষীর বিবৃতি সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও গোপনীয়তা রক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে আদালত থেকে কোনো চূড়ান্ত রায় না পাওয়া পর্যন্ত ল্যুভ্যুগল হেফাজতে থাকবে।
এই মামলায় বিচারিক প্রক্রিয়া এবং ভুক্তভোগীদের সমর্থন ব্যবস্থা উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে একই রকম অপরাধ রোধে কঠোর আইন প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।



