ঢাকার একটি ভোট কেন্দ্রে গৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ভোটারদের গড়ে গৃহীত সময় প্রায় তিন মিনিটের কাছাকাছি। এই সময়সীমা ভোটের ধরণ, কাগজপত্রের সংখ্যা এবং গোপন কক্ষে প্রবেশের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে। কেন্দ্রের কর্মীরা ভোটের গতি পর্যবেক্ষণ করে ভোটারদের স্বচ্ছ ও দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
কেন্দ্রের মোট গড় সময়ের পাশাপাশি, ছয়জন ভোটারের ব্যক্তিগত সময়ও রেকর্ড করা হয়েছে। আমিনুলের গড় সময় ছিল ১ মিনিট ২৫ সেকেন্ড, হাশেমের ১ মিনিট ২১ সেকেন্ড, কালামের ১ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড, আরমানের ১ মিনিট ২৭ সেকেন্ড, আবুল হোসেনের ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ড এবং আজাদের ১ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড। এই সংখ্যা গুলো ভোটারদের গড় সময়ের তুলনায় সামান্য বেশি হলেও, মোট সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক সীমার মধ্যে পড়ে।
বিশেষ করে কালামের ক্ষেত্রে সময়ের পার্থক্য বেশি দেখা যায়। তিনি ভোট কেন্দ্রে পৌঁছে দুইটি সিল লাগাতে হয় এবং দু’টি কাগজ ভাজ করে জমা দিতে হয়, ফলে তার গড় সময় গড়ের চেয়ে কিছুটা বেশি হয়েছে। অন্য চারজন ভোটার তুলনামূলকভাবে দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পেরেছেন, যা ভোট কেন্দ্রে সুশৃঙ্খল প্রবাহের ইঙ্গিত দেয়।
কেন্দ্রের কিছু ভোটার গণভোট সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি প্রকাশ করেছেন। গোপন কক্ষে প্রবেশের আগে তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচনী কর্মকর্তার কাছ থেকে অথবা পাশের ভোটারদের কাছ থেকে ব্যালট পূরণ পদ্ধতি, ভোটের স্থান এবং নির্দিষ্ট চিহ্নের উপস্থিতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন। এই ধরনের প্রশ্নের মূল কারণ হল একই সময়ে জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট দুটোই অনুষ্ঠিত হওয়া।
কেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার গোপন কক্ষের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছিলেন, তবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে দুটি ভোট একসঙ্গে হওয়ায় প্রক্রিয়ায় কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগছে। তিনি জানান, ভোটারদের জন্য সুষ্ঠু সেবা নিশ্চিত করতে কর্মীরা অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করছে।
এই পর্যবেক্ষণগুলো নির্বাচনী কমিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত বহন করে। একাধিক ভোটার একই সময়ে দুইটি ভোটের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে সময়ের পার্থক্য দেখা যায়, যা ভবিষ্যতে ভোট কেন্দ্রের পরিকল্পনা ও কর্মী 배치 পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। সময়সীমা কমাতে কাগজপত্রের সংখ্যা হ্রাস, ডিজিটাল ব্যালটের ব্যবহার এবং ভোটারদের পূর্বে তথ্য প্রদান করা যেতে পারে।
অধিকন্তু, ভোটারদের গণভোট সংক্রান্ত প্রশ্নের সংখ্যা বাড়ার ফলে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু করার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। যদি ভোটাররা সঠিক তথ্য পেয়ে দ্রুত ভোট দেন, তবে ভোটের মোট সময় কমে যাবে এবং ভোটারদের সন্তুষ্টি বৃদ্ধি পাবে।
সারসংক্ষেপে, ঢাকা শহরের এই ভোট কেন্দ্রে গড়ে প্রায় তিন মিনিটের সময়ে ভোট সম্পন্ন হয়, যদিও কিছু ভোটার অতিরিক্ত কাগজপত্রের কারণে সামান্য বেশি সময় নেয়। দ্বিগুণ ভোটের সমন্বয় এবং ভোটারদের তথ্যের ঘাটতি সময় বাড়ানোর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। নির্বাচনী কমিশন এই তথ্যকে ভিত্তি করে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য প্রক্রিয়া সরলীকরণ, কর্মী প্রশিক্ষণ এবং ভোটার সচেতনতায় পদক্ষেপ নিতে পারে, যা দেশের সামগ্রিক নির্বাচন ব্যবস্থার দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বাড়াবে।



