25 C
Dhaka
Thursday, February 12, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিযুক্তরাষ্ট্রের হাউস ক্যানাডার উপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক বাতিলের ভোট পাস করেছে

যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ক্যানাডার উপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক বাতিলের ভোট পাস করেছে

সাম্প্রতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ক্যানাডার পণ্যের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। 219 ভোটের সমর্থনে, 211 ভোটের বিরোধে ভোটের ফলাফল নির্ধারিত হয়। এই সিদ্ধান্তে ছয়জন রিপাবলিকান পার্টি আইনপ্রণেতা গণতান্ত্রিক দলের সঙ্গে মিলিত হয়ে ভোট দিয়েছেন।

ভোটের ফলাফল 219‑211, যেখানে ছয়জন রিপাবলিকান পার্টি সদস্য গণতান্ত্রিক দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শুল্ক বাতিলের পক্ষে ভোট দেন। এই পার্টি-সীমা অতিক্রমকারী সমর্থন হাউসের সংখ্যালঘু সংখ্যাগরিষ্ঠতা পরিবর্তন করে প্রস্তাবকে গৃহীত করে।

যদিও হাউসের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি এখনও সিনেটের অনুমোদন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। উভয় ধাপ সম্পন্ন না হলে শুল্কের অবস্থা অপরিবর্তিত থাকবে, এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর পাওয়া সম্ভাবনা কম বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।

ভোটের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে একটি বার্তা পোস্ট করেন, যেখানে তিনি হাউস ও সিনেটের যেকোনো রিপাবলিকানকে শুল্কের বিরোধে ভোট দিলে নির্বাচনী সময়ে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করেন। তিনি শুল্ককে অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য বলে উল্লেখ করে, কোনো রিপাবলিকানকে এই সুবিধা নষ্ট করার অনুমতি না দেওয়ার আহ্বান জানান।

হাউস স্পিকার মাইক জনসন, যাকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হয়, পূর্বে শুল্ক সংক্রান্ত আলোচনাকে হাউসের মঞ্চে আনা থেকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে তার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে, আইনপ্রণেতারা শুল্ক বাতিলের প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক করতে সক্ষম হন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের পর থেকে তিনি ক্যানাডার ওপর ধারাবাহিকভাবে শুল্ক আরোপ করে আসছেন, যার মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ক্যানাডার চীন সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তির প্রতিক্রিয়ায় ১০০% পর্যন্ত আমদানি শুল্কের হুমকি অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই পদক্ষেপগুলো ক্যানাডার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ককে কঠিন করে তুলেছে।

শুল্ক বাতিলের প্রস্তাবটি গণতান্ত্রিক দলের আইনপ্রণেতা গ্রেগরি মিক্সের উদ্যোগে হাউসে উপস্থাপিত হয়। মিক্স উল্লেখ করেন যে ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ককে একটি রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করে তুলছেন।

মিক্সের মতে, শুল্কের ফলে ক্যানাডা চীনের দিকে ঝুঁকেছে এবং আমেরিকান ভোক্তাদের জন্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে শুল্কের প্রভাব কেবল আন্তর্জাতিক সম্পর্কেই নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও নেতিবাচক।

প্রস্তাবের সমর্থনে ছয়জন রিপাবলিকান পার্টি সদস্যের মধ্যে নেব্রাস্কার প্রতিনিধি ডন বেকনও ছিলেন। বেকন শুল্ককে “নেট নেগেটিভ” হিসেবে বর্ণনা করে, যুক্তি দেন যে এটি আমেরিকান গ্রাহক, উৎপাদক ও কৃষকদের উপর অতিরিক্ত করের মতো কাজ করে। তার বক্তব্যে শুল্কের অর্থনৈতিক ক্ষতি স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়।

হাউসের অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি এখন সিনেটের সামনে রয়েছে, যেখানে রিপাবলিকান পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠ। সিনেটের ভোট ফলাফল এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত স্বাক্ষরই শুল্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। যদি উভয় ধাপ সফল হয়, তবে ক্যানাডার পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক সম্পূর্ণভাবে বাতিল হবে; অন্যথায় বর্তমান শুল্ক ব্যবস্থা বজায় থাকবে।

এই ভোটের রাজনৈতিক প্রভাবও উল্লেখযোগ্য, কারণ এটি রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরে শুল্ক নীতি নিয়ে মতবিরোধের সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ক্যানাডা-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কের দিকনির্দেশনা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতি কীভাবে গড়ে উঠবে, তা এই প্রস্তাবের পরবর্তী অগ্রগতি নির্ধারণ করবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments