দ্বিতীয় ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এ সকাল ৭:৩০ টা থেকে বিকাল ৪:৩০ টা পর্যন্ত ২৯৯টি নির্বাচন এলাকার মধ্যে একসাথে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভোটদান প্রক্রিয়া কোনো বিরতি ছাড়াই চলমান, এবং ভোটারদের মধ্যে প্রথমবারের ভোটার ও নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ বিশেষভাবে উঁচু।
বিএনপি চেয়ারপার্সন ও ধারা-১৭, বগুড়া-৬ নির্বাচনী প্রার্থী তারেক রহমান গুলশান মডেল স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রের গুলশান-২ এলাকায় ভোট দিয়েছেন। ভোটের পরে তিনি দেশের আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেবার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, “সরকার গঠন করলে মানুষ নিরাপদ বোধ করবে।”
চিফ ইলেকশন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন আজ সকাল প্রায় ৯:৩০ টায় এসকাটন গার্ডেন হাই স্কুলে ভোট দিয়েছেন। তিনি ভোটদান প্রক্রিয়াকে মুক্ত ও ন্যায়সঙ্গত বলে উল্লেখ করে জানান, “এখন পর্যন্ত কিছু ছোটখাটো ঘটনা ঘটেছে, তবে তা মোটের ওপর প্রভাব ফেলছে না।”
বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বাধীন প্রার্থী রুমিন ফারহানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ থেকে শাহবাজপুর উত্তর সরকারি প্রাইমারি স্কুলে ভোট দিয়েছেন। তিনি ভোটদান শেষে কোনো সমস্যার উল্লেখ করেননি।
প্রথমবারের ভোটারদের সংখ্যা প্রারম্ভিক ভোটে সর্বোচ্চ শেয়ার নিয়ে এসেছে, যা যুবকদের উত্সাহের ইঙ্গিত দেয়। ভোটকেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোনো বিশৃঙ্খলা বা বাধা দেখা যায়নি।
বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলাম এর আমীর শফিকুর রহমান সকাল ৮:৩০ টায় মানিপুর হাই স্কুল কেন্দ্রের ভোটকেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। তিনি ভোটদান প্রক্রিয়ার শান্তিপূর্ণ পরিবেশের প্রশংসা করেছেন।
ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশন (আইএবি) এর সিনিয়র নায়েব-এ-আমীর সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়েজুল করিম বারিশাল শহরের রুপাতলি লালার দিঘির পার সরকারী প্রাইমারি স্কুলে ভোট দিয়েছেন। তিনি ভোটের সময় কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা লক্ষ্য করেননি।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর সদস্য সচিব ও ১১ পার্টির জোটের প্রার্থী রংপুর-৪ থেকে আকতার হোসেন ভায়েরহাট ভোটকেন্দ্র, কাউনিয়ায় তার মায়ের সঙ্গে ভোট দিয়েছেন। তিনি ভোটের সময় কোনো বাধা না পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এনসিপি কনভেনার নাহিদ ইসলাম নিজের প্রথম ভোটের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, “কোনো জটিলতা ছাড়াই ভোট দিয়েছি, সবাইকে ভোট দিতে উৎসাহিত করছি।” তার এই মন্তব্য প্রথমবারের ভোটারদের উৎসাহ বাড়াতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, ভোটদান প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা কোনো বড় সমস্যার রিপোর্ট পাননি। কিছু ভোটকেন্দ্রের বাইরে ছোটখাটো ঘটনা ঘটলেও তা মোট ভোটের স্বচ্ছতায় প্রভাব ফেলছে না বলে ধরা হচ্ছে।
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা ভোটারদের সুষ্ঠু প্রবেশ নিশ্চিত করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। ভোটের শেষে ভোটগণনা শুরু হবে এবং ফলাফল প্রকাশের মাধ্যমে পরবর্তী রাজনৈতিক গতি নির্ধারিত হবে।
এই নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের নতুন দিক নির্ধারণ করবে, বিশেষত শাসন গঠনের সম্ভাবনা ও জোট গঠনের প্রেক্ষাপটে। ভোটের পরবর্তী পর্যায়ে সরকার গঠন ও নীতি নির্ধারণের দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হবে।



