25 C
Dhaka
Thursday, February 12, 2026
Google search engine
Homeব্যবসামার্কিন দুগ্ধ‑মাংস‑পোল্ট্রি পণ্য বাংলাদেশে সহজ শর্তে প্রবেশের চুক্তি স্বাক্ষর

মার্কিন দুগ্ধ‑মাংস‑পোল্ট্রি পণ্য বাংলাদেশে সহজ শর্তে প্রবেশের চুক্তি স্বাক্ষর

২৯ ফেব্রুয়ারি, ঢাকা – বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে মার্কিন দুগ্ধ, মাংস ও পোল্ট্রি পণ্যের জন্য বাংলাদেশী বাজারে ব্যাপক প্রবেশের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। চুক্তিটি ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত এবং এতে দুগ্ধ‑সুরক্ষা ব্যবস্থা, মাংস‑পোল্ট্রি উৎপাদন সুবিধা এবং কৃষি বায়োটেক পণ্যের লেবেলিং ছাড়া আমদানি অনুমোদনের ধারা অন্তর্ভুক্ত।

গত বছর বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের গমের আটম শীর্ষ গন্তব্য হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছিল, যা দেশের কৃষি আমদানি কাঠামোর পরিবর্তনের সূচক। নতুন চুক্তি অনুসারে মার্কিন কৃষি বিভাগ (মার্কিন কৃষি বিভাগ) কর্তৃক স্বীকৃত নিরাপত্তা মানদণ্ডকে বাংলাদেশীয় মানদণ্ডের সমতুল্য হিসেবে গণ্য করা হবে, ফলে আমদানি প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত অনুমোদন বা নিবন্ধন প্রয়োজন হবে না।

দুগ্ধ পণ্যের ক্ষেত্রে, গরু, ভেড়া, ছাগল ও হরিণের দুধ থেকে উৎপাদিত পণ্যগুলোকে মার্কিন কৃষি বিভাগ (মার্কিন কৃষি বিভাগ) এর কৃষি বিপণন সেবা (AMS) শংসাপত্রের সঙ্গে বাংলাদেশে আনতে পারবে। শংসাপত্র ছাড়া কোনো সুবিধা নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হবে না, যা আমদানিকারকদের জন্য প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করবে।

মাংস ও পোল্ট্রি ক্ষেত্রে, কাঁচা মাংস, প্রক্রিয়াজাত পণ্য, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, ক্যাটফিশ এবং ডিমের পণ্যসহ বিস্তৃত শ্রেণীর পণ্যকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। মার্কিন কৃষি বিভাগ (মার্কিন কৃষি বিভাগ) এর ফুড সেফটি অ্যান্ড ইনস্পেকশন সার্ভিস (FSIS) এর তত্ত্বাবধানকে একমাত্র অনুমোদিত তালিকা হিসেবে গ্রহণ করা হবে, ফলে পৃথক বাংলাদেশী অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা বাদ পড়বে।

মার্কিন কৃষি বিভাগ (মার্কিন কৃষি বিভাগ) এর অ্যানিমাল অ্যান্ড প্ল্যান্ট হেলথ ইনস্পেকশন সার্ভিস (APHIS) কে রোগমুক্ত অবস্থার একমাত্র নির্ধারক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ কোনো অতিরিক্ত পণ্য নিবন্ধন বা সুবিধা নিবন্ধন চাহিদা আরোপ করবে না।

কৃষি মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভিদ পণ্যের জন্য বাজার প্রবেশের অনুরোধ দ্রুত প্রক্রিয়াকরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। ফলে আমদানি সময়সীমা কমে যাবে এবং মার্কিন কৃষি পণ্যের বাজারে প্রবেশের গতি ত্বরান্বিত হবে।

এই চুক্তি বাংলাদেশের খাদ্য‑আমদানি নিয়মের ব্যাপক শিথিলকরণ নির্দেশ করে। দেশীয় উৎপাদকরা, যারা ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় চাপের মুখে, নতুন শর্তে আমদানি পণ্যের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে দুগ্ধ ও মাংস শিল্পে দাম ও বাজার শেয়ার হ্রাসের ঝুঁকি উল্লেখ করা হয়েছে।

ফিশারিজ ও লিভস্টক উপদেষ্টা ফারিদা আখতার জোর দিয়ে বলেছেন, বায়োটেক পণ্যগুলোর জিএমও লেবেলিং না করা ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের প্রতি উদ্বেগ বাড়াতে পারে। চুক্তিতে জিএমও‑বিহীন লেবেলিং বাধ্যবাধকতা বাদ দেওয়া হয়েছে, যা কৃষি বায়োটেকনোলজি পণ্যের দ্রুত প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

বাজার বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, মার্কিন দুগ্ধ ও মাংস পণ্যের প্রবেশে বাংলাদেশের ভোক্তা মূল্যসীমা হ্রাস পেতে পারে, তবে একই সঙ্গে দেশীয় উৎপাদনের মার্জিন সংকুচিত হবে। রপ্তানি‑মুখী গমের চাহিদা বাড়ার ফলে গমের দাম স্থিতিশীল থাকতে পারে, তবে দুগ্ধ‑মাংস‑পোল্ট্রি বাজারে মূল্য প্রতিযোগিতা তীব্র হবে।

বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর মার্কিন কৃষি বিভাগ (মার্কিন কৃষি বিভাগ) ইতিমধ্যে বাংলাদেশে আমদানি করার জন্য প্রয়োজনীয় শংসাপত্র প্রস্তুত করেছে এবং সংশ্লিষ্ট সুবিধা তালিকা আপডেট করেছে। এই তালিকা অনুযায়ী বাংলাদেশি আমদানি সংস্থা দ্রুত অনুমোদন পেতে পারবে।

দীর্ঘমেয়াদে, বাংলাদেশ যদি এই শিথিলকৃত নিয়মের মাধ্যমে বিদেশি পণ্যের প্রবেশ বাড়ায়, তবে দেশীয় কৃষি উৎপাদনের আধুনিকীকরণ ও গুণগত মান উন্নয়নের চাপ বাড়বে। সরকারকে স্থানীয় উৎপাদনকারীদের সহায়তা ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নীতি সমন্বয় করতে হবে।

সারসংক্ষেপে, নতুন পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি মার্কিন দুগ্ধ‑মাংস‑পোল্ট্রি পণ্যের জন্য বাংলাদেশে সহজ শর্তে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করেছে, যা বাজারে মূল্য ও সরবরাহের গতিবিদ্যায় পরিবর্তন আনবে এবং দেশীয় উৎপাদনকারীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ উন্মুক্ত করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments