আজ বাড্ডার একএম রহমানুল্লাহ কলেজে ভোটদান শেষে জাতীয় নাগরিক দলের কনভেনার নাহিদ ইসলাম ভোটারদেরকে ভয় ছাড়াই ভোট দিতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গত ষোলো বছর ধরে ন্যায়সঙ্গত ভোটের সুযোগ না থাকায় এখন গণতন্ত্রে ফিরে আসার সুযোগ এসেছে। তিনি নিজের ভোট কাস্টে রেখে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে দলের কর্মীদের ওপর বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রমণ ঘটেছে, তবে তিনি এসব ঘটনার ওপর মনোযোগ না দিয়ে ভোট কেন্দ্র রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, নিরাপদ ভোটদান নিশ্চিত করতে পার্টি কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা বাড়ানো হবে।
একই সময়ে তিনি ১১টি দল নিয়ে গঠিত জোটের কথা উল্লেখ করে, এই জোটের লক্ষ্য নির্বাচনে জয়লাভ করা বলে জানান। নাহিদের মতে, জোটের ঐক্য ও সমন্বয়ই ভোটারদের স্বেচ্ছা ও ন্যায়সঙ্গত ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠনের মূল চাবিকাঠি হবে।
নাহিদ ইসলাম আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, জনগণ যদি স্বাধীন ও ন্যায়সঙ্গতভাবে ভোট দেয়, তবে জাতীয় নাগরিক দল শীঘ্রই সরকার গঠনের প্রান্তে পৌঁছাবে। তিনি জোটের বিজয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী এবং জনগণের ম্যান্ডেট স্বীকার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ ভোটের আহ্বান জানিয়েছে, তবে আজকের অনুষ্ঠানে কোনো বিরোধী দলের সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এই পরিস্থিতি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি সকল পক্ষের সমান দায়িত্ববোধের ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি জাতীয় নাগরিক দল ও তার জোটের প্রস্তাবিত নীতি ও প্রতিশ্রুতি ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়, তবে এটি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে। সরকার গঠনের সম্ভাবনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নীতি নির্ধারণ, অর্থনৈতিক সংস্কার ও সামাজিক উন্নয়নের দিকনির্দেশনা পুনর্বিবেচনা করা হবে।
নাহিদের বক্তব্যের পর, ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হবে বলে জানানো হয়েছে। ভোটারদেরকে সময়মতো ভোটদান করতে উৎসাহিত করার জন্য অতিরিক্ত তথ্য ও সহায়তা প্রদান করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, জাতীয় নাগরিক দলের কনভেনার আজকের বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন গতিপথের সূচনা নির্দেশ করে। স্বাধীন, ন্যায়সঙ্গত ও নিরাপদ ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠনের সম্ভাবনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ নীতি ও দিকনির্দেশনা নির্ধারণে এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



