খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার আমতলী উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনরত সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার মাহমুদুল হাসানকে জামাত নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনসাধারণের তীব্র প্রতিবাদ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মাহমুদুল হাসান নামাজের অজুহাতে মসজিদে গিয়ে জামাত নেতাদের সঙ্গে ভোট সংগ্রহের কৌশল নিয়ে আলোচনা করায় অভিযোগ উঠায় তাকে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তাকে সরিয়ে নেন।
ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, ‘নামাজের অজুহাতে মসজিদে গিয়ে জামাত নেতাদের সঙ্গে কীভাবে বেশি ভোট আদায় করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় জনতা তাদের ঘেরাও করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাঁকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করেন।’
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ শোনার পর দ্রুত সমাবেশ করে অফিসারকে ঘেরাও করে, তার কর্মকাণ্ডের প্রতি নিন্দা জানায়। কিছুজনের মতে, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের নামে রাজনৈতিক গঠন করা অনৈতিক এবং আইনবিরুদ্ধ। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপ স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেন। তারা অফিসারকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে, তার কাজের অস্থায়ী বন্ধের নির্দেশ দেন এবং বিষয়টি উঁচু পর্যায়ে পাঠান।
প্রিজাইডিং অফিসার হুমায়ুন কবির জানান, ‘আমি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছিলাম। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার মাহমুদুল হাসান নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন। পরে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় তাঁকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।’
হুমায়ুন কবিরের মতে, তিনি ভোটকেন্দ্রে তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছিলেন এবং কোনো রাজনৈতিক গঠন বা বৈঠকে অংশগ্রহণের তথ্য তার জানা নেই। তিনি উল্লেখ করেন, অফিসারকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া প্রক্রিয়াটি দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
প্রশাসনিক দিক থেকে ঘটনাটির ব্যাপারে তাত্ক্ষণিক কোনো বিশদ জানানো হয়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
নির্বাচন সংক্রান্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগের প্রকৃত সত্য যাচাই করার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা উল্লেখ করেন, তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হবে।
এই ঘটনার ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে জামাতের সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক গোষ্ঠী এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ স্পষ্টভাবে এই পদক্ষেপকে সমর্থন বা সমালোচনা করেনি।
ভবিষ্যতে নির্বাচনের প্রস্তুতি চলতে থাকায়, এই ধরনের অভিযোগের সমাধান এবং দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত কাজের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে আশা করা যায়।



