সকাল ৭ টা থেকে ৭:৩০ টার মধ্যে ভোটদান শুরু হওয়ার আগে, দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী কেন্দ্রের বাইরে দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছে। ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচন ও রেফারেন্ডামের প্রথম দিনই ভোটাররা তাড়াতাড়ি পৌঁছে, ভোটের জন্য প্রস্তুত হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা উপস্থিত ছিল, শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর বেশ কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শনকালে দেখা যায়, ভোটাররা ফজরের নামাজ শেষ করে, তৎক্ষণাৎ ভোটের ঘরে গিয়ে লাইন গঠন করে। গোষ্ঠীভুক্ত ভোটারদের মুখে হাসি, আলাপচারিতা এবং দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অংশগ্রহণের উচ্ছ্বাস স্পষ্ট।
সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের সংখ্যা বাড়তে থাকে, বিশেষ করে নারীর অংশগ্রহণের হার বেশ উচ্চ। বহু কেন্দ্রে নারীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যা এই নির্বাচনে লিঙ্গ সমতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
ঢাকা-১৫ নির্বাচনী এলাকার শেরওয়াপারার মানিপুর হাই স্কুলের আশেপাশে, সূর্যোদয়ের আগে থেকেই শত শত মানুষ, যার মধ্যে রাজনৈতিক দলের কর্মীও অন্তর্ভুক্ত, জমায়েত হয়। তারা সক্রিয়ভাবে ভোটারদের উৎসাহিত করে এবং ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে।
একজন ভোটার লাইন গঠনের সময় বলেন, “আমি ফজরের নামাজের জন্য মসজিদে গিয়েছিলাম, তারপর সরাসরি কেন্দ্রে এসেছি, কারণ আমি আগে ভোট দিতে চেয়েছিলাম।” তার এই মন্তব্য ভোটারদের সময়মতো ভোটদান করার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
ঢাকার বাইরে, বগুড়ার শেরপুর উপজেলা খন্দকার তোলা সরকারি প্রাইমারি স্কুলে, প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন ইউসুফ আলি। তিনি বলেন, “আমি প্রথমবার ভোট দিচ্ছি, খুবই উত্তেজিত, তাই তাড়াতাড়ি উঠে কেন্দ্রে এসেছি।” তার মত নতুন ভোটারদের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনের বৈধতা ও প্রতিনিধিত্ব বাড়বে বলে আশা করা যায়।
বহু কেন্দ্রে দেখা যায়, রাজনৈতিক দলের কর্মীরা সক্রিয়ভাবে ভোটারদের সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন, যা ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা ও অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়তা করছে। তবে কোনো বড় অস্বাভাবিকতা বা বিশৃঙ্খলা রিপোর্ট করা হয়নি।
নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, বেশিরভাগ কেন্দ্রেই সময়মতো ভোটদান শুরু হয়েছে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো উল্লেখযোগ্য সমস্যার মুখোমুখি হয়নি। নিরাপত্তা কর্মীরা ভোটারদের নিরাপদে ভোটদান নিশ্চিত করতে সতর্কতা অবলম্বন করছেন।
দিবসের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিকালের পর সময়মতো ভোটদান শেষ করার জন্য অপেক্ষা করা ভোটারদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।
এই প্রথম দিনটি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল সূচনা নির্দেশ করে। ভোটারদের উচ্ছ্বাস এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে গৃহীত নীতিগুলোর বৈধতা ও জনমত প্রতিফলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অধিকাংশ বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই ধরনের প্রাথমিক উচ্ছ্বাস এবং উচ্চ নারী অংশগ্রহণের প্রবণতা ভবিষ্যৎ নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত যখন রাজনৈতিক দলগুলো ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করছে।
সামগ্রিকভাবে, দেশের ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচন ও রেফারেন্ডামের প্রথম দিনটি ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, নিরাপদ পরিবেশ এবং সময়মতো ভোটদান নিশ্চিত করে একটি মসৃণ সূচনা পেয়েছে। পরবর্তী সময়ে ভোটার উপস্থিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



