ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ আজ সকাল সাড়ে সাতটায় শুরু হয়েছে। থাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের দরজায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। তিনি থাকুরগাঁও‑১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মিডিয়ার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন।
মির্জা ফখরুল সকাল ৭:৩০ টার দিকে থাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পৌঁছান। ভোটকক্ষে প্রবেশের পর তিনি ভোটপত্রে চিহ্নিত করে ভোট দেন এবং পরে ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে কথা বলেন। তার উপস্থিতি স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে উচ্চ অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে মোবাইল আদালত চারজনকে প্রত্যেককে ৫০,০০০ টাকা জরিমানা করেছে। একই সময়ে একটি ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবুল খায়ের শেখের পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা নির্বাচনী শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য গৃহীত পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গাজীপুর‑২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৮,০৪,৩৩৩, যা এই নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোটার সংখ্যা। অন্যদিকে ঝালকাঠি‑১ আসনে মাত্র ২,২৮,৪৩১ ভোটার নিবন্ধিত, যা সর্বনিম্ন ভোটার সংখ্যা হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। এই পার্থক্য বিভিন্ন অঞ্চলের জনসংখ্যা ও নির্বাচনী প্রোফাইলের বৈচিত্র্যকে প্রতিফলিত করে।
ঢাকা-১১ আসনের রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারা ও হাতিরঝিলের কিছু অংশে ভোরবেলায় ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা গিয়েছে। ভোটের সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষমান ভোটারদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটগ্রহণের তীব্রতা নির্দেশ করে।
থাকুরগাঁও‑১ আসনে বিএনপি প্রার্থী এম এ কাইয়ুম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একই আসনে জাতীয় নাগরিক দল (এনসিপি) সমর্থিত নাহিদ ইসলাম শাপলা কলি প্রতীক দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শেখ ফজলে বারী মাসউদও অংশগ্রহণ করছেন। এই তিন প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্থানীয় রাজনৈতিক গতিবিধিকে উজ্জ্বল করেছে।
রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনে মোট ২১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে ১১ নারী প্রার্থী অন্তর্ভুক্ত। এই সংখ্যা অঞ্চলটির রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিস্তৃতি ও লিঙ্গ সমতা প্রচেষ্টার সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আজ মোট ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ চালু হয়েছে, তবে শেরপুর‑৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট গ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে সশস্ত্র বাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার উপস্থিতি নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
ভোটগ্রহণের শেষ সময় বিকেল সাড়ে চারটায় নির্ধারিত, তবে সাড়ে চারটায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদেরও ভোট নেওয়া হবে। এই ব্যবস্থা ভোটারদের সময়মতো ভোটদান নিশ্চিত করার জন্য গৃহীত হয়েছে।
প্রাথমিক ভোটগ্রহণের দৃশ্যপট এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয় আগামী দিনগুলোতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মসৃণ চলা নিশ্চিত করবে, এবং ফলাফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



