বুধবার রাত ১১টার পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রকাশের পর, জাতীয় নাগরিক দলের উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক ও ১১ দলীয় জোটের শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী সারজিস আলম, পঞ্চগড়ের পৌর শাখার সদস্যসচিব আমিনুর রহমান নিলুর বাড়িতে গিয়ে অভিযোগ তুলে দেন। তিনি জানান, ভোটের সময় অর্থের লেনদেনের অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং প্রমাণ সংরক্ষণ করা আছে।
সারজিস আলমের বাড়ি পৌঁছানোর সময় কিছু স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন, যারা ভোট সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে নিলুর ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন। স্থানীয়দের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শীতল করার চেষ্টা করেন।
সারজিস আলম ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় স্পষ্ট করে বলেন, নিলু চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন এবং তিনি এই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানাবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তার হাতে প্রমাণের দলিল রয়েছে যা অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু পোস্ট ও মন্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে প্রচারিত অপপ্রচার সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উন্মোচিত হবে। তিনি মিডিয়াকে আহ্বান জানান, সঠিক তথ্য উপস্থাপন করে জনমতকে বিভ্রান্ত না করতে।
নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সতর্ক করেন, যদি ভোটের প্রক্রিয়া ন্যায়সঙ্গত না হয় তবে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে। স্বৈরাচারী প্রবণতা দেখা দিলে কোনো ব্যক্তির পিঠের চামড়া রক্ষা পাবে না, এমন তার মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক পরিবেশের সম্ভাব্য ঝুঁকি তুলে ধরেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও উপস্থিতদের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে, সকল পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হস্তক্ষেপ করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এই মুহূর্তে আমিনুর রহমান নিলুর কাছ থেকে কোনো মন্তব্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তার অনুপস্থিতি ঘটনাটিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে, বিশেষ করে ভোট সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে।
জাতীয় নাগরিক দল সম্প্রতি, দুই অন্যান্য দলের সঙ্গে মিলিয়ে, নির্বাচন কমিশন থেকে আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন পেয়েছে, যা তাদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়। নিবন্ধন প্রক্রিয়া পূর্বে জানুয়ারি মাসে রিপোর্ট করা নির্বাচন-সংক্রান্ত সহিংসতার পর বিশেষ নজরে ছিল।
এই ঘটনা পঞ্চগড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে, যেখানে বহু দলই ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে চায়। নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় সিভিল সোসাইটি গোষ্ঠীও তদারকি বাড়াতে আহ্বান জানিয়েছে, যা ভবিষ্যতে ভোটারদের আস্থা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।



