ঢাকা, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – জামাতের উর্ধ্বতন নেতা আসিফ মাহমুদ আজ একটি সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে টাকা উদ্ধারের নামে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা হস্তক্ষেপের ঘটনা বাড়ছে। তিনি বলেন, এই ধরনের কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হল রাজনৈতিক বিরোধী গোষ্ঠীর কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের ভোটদান থেকে বিরত রাখা।
মাহমুদের বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একজন কূটনীতিকের মন্তব্যকে খণ্ডন করেন, যিনি পূর্বে দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে মন্তব্য করে থাকেন। কূটনীতিকের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মাহমুদ জোর দিয়ে বলেন, বিদেশি মন্তব্যের ভিত্তিতে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
মাহমুদ উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভোট কেন্দ্রের আশেপাশে আতঙ্ক সৃষ্টির প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে। তিনি বলেন, নাহিদ নামের একজন ব্যক্তি ভোট কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় ফোন চেক, হুমকি এবং শারীরিক হিংসা সহ বিভিন্ন উপায়ে ভোটারদের উপস্থিতি কমাতে চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে, জামাতের কিছু নেতা ও কর্মীর ওপর আর্থিক অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে, যা তিনি ‘টাকা উদ্ধারের নামে’ করা হয়েছে বলে সমালোচনা করেন।
বিএনপির সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু ঘটনারও উল্লেখ করা হয়। সিলেটের একটি জামাত নেতার বাড়িতে দুইজন প্রিজাইডিং অফিসার উপস্থিত ছিলেন, যা নিরাপত্তা সংস্থার অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়। বগুড়ায় রাতের সময় ভোটকেন্দ্রের সামনে একটি ছাত্রদল নেতার ওপর ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে, যা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
মাহমুদের মতে, এই সব ঘটনা একত্রে ভোটের দিন নাগরিকদের স্বেচ্ছা ভোটদানকে বাধাগ্রস্ত করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, কিছু অঞ্চলে ভোট কেন্দ্রের বাইরে গিয়ে দুইজন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারকে ‘বিপাক’ করা হয়েছে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার অতিরিক্ত ব্যবহারকে নির্দেশ করে।
অধিকন্তু, তিনি উল্লেখ করেন, পটুয়াখালিতে ৫০ লাখ টাকার সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন নেতা গ্রেফতার হয়েছেন, যা আর্থিক দিক থেকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। একই সময়ে, রোহিঙ্গা যুবককে বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেফতার করা হয়েছে, যা নিরাপত্তা সংস্থার কার্যক্রমের ব্যাপ্তি বাড়িয়ে তুলেছে।
মাহমুদের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের কিছু সিদ্ধান্তও আলোচনায় আসে। তিনি জানান, ইলেকশন কমিশন নগদ টাকা বহনের সীমা নির্ধারণের পরিকল্পনা করছে, যা ভোটারদের আর্থিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করেন, এই ধরনের নিয়মের বাস্তবায়ন না হলে তা আবার নতুন ধরনের হস্তক্ষেপের জন্ম দিতে পারে।
মাহমুদের মতে, ভোটের দিন আকাশ মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া শুষ্ক, তবে রাজনৈতিক পরিবেশের অস্থিরতা ভোটারদের অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, জামাতের দুই নেতা গ্রেফতারের পর পার্টির মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে, যা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
শেষে, মাহমুদ জোর দিয়ে বলেন, দেশের গণতন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য সব রাজনৈতিক দলকে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে এবং টাকা উদ্ধারের নামে কোনো ব্যক্তিগত স্বাধীনতা হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। তিনি সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আহ্বান জানান, যেন তারা আইনগত প্রক্রিয়ার সীমা অতিক্রম না করে, এবং ভোটারদের স্বেচ্ছা ভোটদান নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।



