ব্রিটিশ কলম্বিয়ার টাম্বলার রিজে মঙ্গলবার বিকাল ১:৩০ টায় একটি গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ১৮ বছর বয়সী জেসি ভ্যান রুটসেলার আত্মহত্যা করে এবং মোট আটজনের মৃত্যু হয়, আর কমপক্ষে পঁচিশজনের শারীরিক আঘাত হয়। ঘটনাস্থল ছিল টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুল এবং তার নিকটবর্তী একটি পারিবারিক বাড়ি। গুলির উদ্দেশ্য ও প্রেরণা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
স্কুলের ভিতরে গুলি চালিয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৩৯ বছর বয়সী এক নারী শিক্ষক, তিনজন ১২ বছর বয়সী মেয়ে শিক্ষার্থী এবং দুইজন ছেলেও অন্তর্ভুক্ত; তাদের বয়স যথাক্রমে ১২ ও ১৩ বছর। গুলির ফলে আরও পঁচিশজনের ওপর আঘাতের খবর পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই গুলি চালানোর সময় স্কুলের বিভিন্ন ঘরে উপস্থিত ছিলেন।
স্কুলের নিকটবর্তী বাড়িতে গুলির প্রথম ধাপটি ঘটেছে, যেখানে সন্দেহভাজনের মা, ৩৯ বছর বয়সী, এবং তার স্টেপ-ভাই, ১১ বছর বয়সী, মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এই দুইজনের মৃত্যু গুলির মোট শিকারীর সংখ্যা বাড়িয়ে আটজন করে দিয়েছে।
সন্দেহভাজনের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে; তিনি জেসি ভ্যান রুটসেলার, যাকে পুলিশ ১৮ বছর বয়সী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। রুটসেলার জৈবিকভাবে পুরুষ হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন, তবে প্রায় ছয় বছর আগে থেকে নারী হিসেবে রূপান্তর শুরু করেন। রুটসেলারকে এই রূপান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নারী পরিচয় গ্রহণের কথা পুলিশ জানিয়েছে।
গণপ্রজাতন্ত্রী কানাডার রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (RCMP) এর ডেপুটি কমিশনার ডোয়েন ম্যাকডোনাল্ডের মতে, গুলি চালানোর প্রথম স্থান ছিল বাড়ি, এরপর সন্দেহভাজন স্কুলে প্রবেশ করে গুলি চালায়। গুলির সময়সূচি ও ক্রম সম্পর্কে আরও বিশদ তথ্য এখনো তদন্তের অধীনে রয়েছে।
পুলিশের মতে, ঘটনাস্থলে দুইটি অস্ত্র পাওয়া গেছে; একটি দীর্ঘ গুলি চালানো বন্দুক এবং একটি পরিবর্তিত হ্যান্ডগান। তবে এই দুইটি অস্ত্রের গুলিতে কী ভূমিকা ছিল তা স্পষ্ট করা এখনও বাকি। রুটসেলার পূর্বে বৈধ অস্ত্র লাইসেন্সধারী ছিলেন, তবে তা সম্প্রতি বাতিল হয়ে গিয়েছিল।
রুটসেলার চার বছর আগে টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুল থেকে বাদ পড়ে গিয়েছিলেন। অতিরিক্তভাবে, পুলিশ জানিয়েছে যে তারা গত কয়েক বছর ধরে রুটসেলারের পারিবারিক বাড়িতে বহুবার গিয়েছে, যেখানে মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত কল ও রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছিল। এই তথ্যগুলো গুলির পেছনের সম্ভাব্য প্রেরণা নির্ণয়ে সহায়ক হতে পারে।
মঙ্গলবার বিকাল ১:৩০ টায় গুলির খবর পাওয়ার পর পুলিশ দুই মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। গুলির শব্দ শোনার পর তারা স্কুলের ভেতরে প্রবেশ করে এবং আত্মহত্যা করা সন্দেহভাজনকে খুঁজে পায়। দ্রুত পদক্ষেপে গুলির শিকারদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয় এবং আহতদের চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
গণতান্ত্রিক কানাডার আইন অনুযায়ী, এই ধরনের ঘটনার পর তদন্তের দায়িত্ব RCMP-ই বহন করে। বর্তমানে তারা ফরেনসিক বিশ্লেষণ, গুলি চালানোর পদ্ধতি ও অস্ত্রের ব্যবহার সংক্রান্ত বিস্তারিত পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে ঘটনার সাথে সম্পর্কিত কোনো অতিরিক্ত সন্দেহভাজন বা সহায়ক প্রমাণ পাওয়া গেলে তা আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
এই গুলির পরিণতি নিয়ে স্থানীয় সম্প্রদায়ে শোকের ছায়া ছড়িয়ে পড়েছে, এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গুলির শিকার পরিবারকে সমর্থন প্রদান এবং মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য সহায়তা ব্যবস্থা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আরও স্পষ্ট তথ্য পাবার আশা করা হচ্ছে।



