বার্নলি এবং ক্রিস্টাল প্যালেসের মধ্যে লিগের ম্যাচে, বার্নলি ২-০ তে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় অর্ধেকের আগে ছয় মিনিটের মধ্যে তিনটি গোল করে ৩-২ স্কোরে জয়লাভ করে। ম্যাচটি লন্ডনের ক্রিস্টাল প্যালেসের ঘরে অনুষ্ঠিত হয় এবং ফলাফলটি বার্নলির সিজনের দ্বিতীয় বহিরঙ্গন জয় হিসেবে রেকর্ড হয়।
প্রথমার্ধের প্রায় ত্রিশ মিনিটে ক্রিস্টাল প্যালেসের নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ড জর্গেন স্ট্র্যান্ড লারসেন দুইটি গোল করে দলকে ২-০ অগ্রগতি দেয়। লারসেনের প্রথম গোলটি অ্যাডাম হোয়াটসনের থ্রু পাসের পরে জেফারসন লারমার ক্রস থেকে কাইল ওয়াকাররের ভুলের সুযোগে ডাইভিং হেডার দিয়ে হয়। দ্বিতীয় গোলটিও লারসেনেরই, যেখানে লারমার ক্রসের পরে লারসেনের ডাইভিং হেডার আবারও গোলপোস্টের পিছনে গিয়ে স্কোর বাড়ায়।
বার্নলির পালা আসে যখন হ্যানিবাল মেজব্রি ডিন হেন্ডারসনের ওপর এক চমৎকার শট দিয়ে প্রথম গোলের সমতা রক্ষা করে। মেজব্রির গোলের পর জেডন অ্যান্থনি দ্রুতই স্কোর বাড়ায়, ফলে অর্ধেকের শেষের দিকে বার্নলি ২-২ করে সমতা বজায় রাখে। অর্ধেকের শেষ মুহূর্তে জেফারসন লারমা নিজেরই গোল করে, যা বার্নলির তৃতীয় গোল হয়ে দলকে এক গোলের সুবিধা দেয়।
এই জয়টি বার্নলির জন্য ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। ক্লাবটি ১৮৯০ সাল থেকে লিগে ১৭ ম্যাচের ধারাবাহিক জয়হীনতা রেকর্ডে আটকে ছিল, যা এখন ভেঙে গেছে। স্কট পার্কার, বার্নলির কোচ, লন্ডনে দূরবর্তী ম্যানেজার হিসেবে প্রথম লিগ জয় অর্জন করেন। ম্যাচের আগে দলের বাস গাড়ি ট্রাফিক জ্যামে আটকে দশ মিনিটের দেরি হয়, যা শুরু সময়কে প্রভাবিত করে।
অন্যদিকে ক্রিস্টাল প্যালেসের জন্য এই পরাজয় একটি সতর্কবার্তা। দলটি সম্প্রতি ব্রাইটনের বিরুদ্ধে ১২ ম্যাচের জয়হীনতা শেষ করে একটি উচ্ছ্বাসজনক জয় পেয়েছিল, এবং এই ম্যাচে তৃতীয় হোম জয়ের পথে ছিল। তবে রক্ষার ক্ষেত্রে অবহেলা এবং লারমা ও কাইল ওয়াকাররের ভুলের ফলে বার্নলির দ্রুত প্রত্যাবর্তন সম্ভব হয়। ক্রিস্টাল প্যালেস ২০১৭ সাল থেকে প্রমোশন দলকে তাদের ঘরে হারায়নি, যখন সানডারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৪-০ পরাজয় ঘটেছিল; এই পরাজয় ঐ ধারাকে শেষ করে।
বার্নলির এই জয় তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বজায় রাখে, যদিও বেঁচে থাকার জন্য আরও অনুরূপ ফলাফল প্রয়োজন। সিজনের এখন পর্যন্ত মাত্র দুইটি বহিরঙ্গন জয় অর্জন করা দলটি, এই জয়ের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার করেছে এবং পরবর্তী ম্যাচগুলিতে একই রকম পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ক্রিস্টাল প্যালেসের জন্য এই পরাজয় রক্ষণাবেক্ষণ সমস্যার ইঙ্গিত দেয়, যা পরবর্তী ম্যাচে সমাধান করা প্রয়োজন।



