আজ জাতীয় নির্বাচন ও রেফারেন্ডাম অনুষ্ঠিত হওয়ায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার সূচনা করেছে। প্রায় দশ লক্ষ কর্মী সমন্বিত দলকে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মোতায়েন করা হয়েছে এবং শনিবার পর্যন্ত পূর্ণ সতর্কতায় থাকবে। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটদান নিশ্চিত করা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিরবচ্ছিন্ন রাখা।
মন্ত্রিপরিষদ ও অন্যান্য সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা পূর্বে কোনো নির্বাচনে দেখা যায়নি বলে বহু কর্মকর্তার মতে “অপ্রতিদ্বন্দ্বী” বলা হয়। নির্বাচনের দিন পর্যন্ত নিরাপত্তা কর্মীরা বিভিন্ন স্তরে কাজ করবে, যার মধ্যে রয়েছে ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে সরাসরি উপস্থিতি, বাড়তি গশ্বর এবং প্রযুক্তি-ভিত্তিক নজরদারি।
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের চারপাশে নির্দিষ্ট সংখ্যক পুলিশ ও সেনা সদস্য স্থাপন করা হয়েছে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা যায়। পাশাপাশি, সংবেদনশীল এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে ড্রোন এবং সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করে রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ চালু করা হয়েছে।
অতিরিক্ত বাহিনীকে প্রস্তুত অবস্থায় রাখা হয়েছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। এই ব্যবস্থা ভোটারদের নিরাপদে ভোটদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্বাচন প্রক্রিয়ার অখণ্ডতা রক্ষা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঢাকার রাস্তায় গতকাল থেকে ট্রাফিক তুলনামূলকভাবে হালকা ছিল, কারণ বহু বাসিন্দা গ্রামাঞ্চলে গিয়ে ভোট দিয়েছেন। যারা শহরে রইলেন, তাদের বেশিরভাগই বিভিন্ন চেকপয়েন্টে থামা ও পরিচয়পত্র যাচাইয়ের সম্মুখীন হয়েছেন। কয়েকটি বাস চলাচল করলেও অধিকাংশই শূন্যে চলাচল করছিল, আর সেনা গাড়ি ও পুলিশ গাড়ি প্রধান চৌরাস্তা ও মোড়ে স্থির অবস্থায় দেখা গিয়েছে।
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সেনা ও পুলিশ কর্মীরা গাড়ি থামিয়ে যাত্রীদের প্রশ্ন করে পরিচয়পত্র যাচাই করছিলেন। একই রকম চেকপয়েন্ট কাওরান বাজার, মিরপুর, উত্তরা, রামপুরা, বনানী ও বাদ্দায়ও গৃহীত হয়েছে, যেখানে গশ্বর দলগুলো নিয়মিত গমনাগমন পর্যবেক্ষণ করছে।
“Checkpoints have been set up and patrol teams deployed at key points to ensure security,” বলেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মোটিজিল বিভাগে ডেপুটি কমিশনার হারুন ওর রশিদ। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটকেন্দ্রের ভিত্তিতে নিয়োজিত পুলিশ বাহিনী পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশও মাঠে উপস্থিত থাকবে।
সেনা ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) সহ অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একত্রে কাজ করছে। তাদের সমন্বিত উপস্থিতি ভোটারদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
নির্বাচন দিবসে যদি কোনো নির্বাচন সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ উঠে, তবে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরা তাৎক্ষণিকভাবে সংক্ষিপ্ত ট্রায়াল পরিচালনা করে রিপোর্ট প্রস্তুত করবেন। এই রিপোর্ট নির্বাচনী কমিশনের আইন-১ উইংের ডেপুটি সেক্রেটারিকে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে পাঠানো হবে।
সামগ্রিকভাবে, নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র উপস্থিতি এবং প্রযুক্তিগত নজরদারির সমন্বয় আজকের ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কর্মকর্তারা শনিবার পর্যন্ত সতর্কতা বজায় রাখার কথা জানিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করেছেন।



