প্রাইম ভিডিওতে সম্প্রচারিত ‘ক্রস’ সিরিজের দ্বিতীয় সিজন এই সপ্তাহে শুরু হয়েছে। শোটি জেমস প্যাটারসনের জনপ্রিয় উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে তৈরি এবং প্রধান চরিত্র হিসেবে ডিটেকটিভ অ্যালেক্স ক্রস (আলডিস হজ) ও তার প্রাক্তন সাথী জোন সাম্পসন (আইসাইয়া মুস্তাফা) পুনরায় দেখা যায়। নতুন সিজনে তারা মানব পাচার ও ধনী ব্যবসায়ীর সঙ্গে যুক্ত এক গোপন অপরাধের মুখোমুখি হয়।
প্রথম এপিসোডে দর্শকরা লুজ নামের এক তরুণ হিস্পানিক নারীর সঙ্গে পরিচিত হন, যাকে জিন মেসন অভিনয় করেছেন। লুজ একটি নৌকায় লুকিয়ে থাকে, যা ক্যারিবিয়ান সমুদ্রের কোনো দূরবর্তী দ্বীপে লিকুইড ডেলিভারির জন্য রিচার্ড হেলভিগ নামের ধনী ব্যবসায়ীর কাছে যায়। তার সঙ্গী ডনি (ওয়েস চ্যাথাম) নৌকাটি ছেড়ে হেলভিগের বাড়িতে সরবরাহ সম্পন্ন করে।
রিচার্ড হেলভিগের সম্পত্তি পাহাড়ের চূড়ায় বিশাল একটি ভিলা, যেখানে সমৃদ্ধ ব্যবসায়ী ও তার বন্ধুরা গোপন পার্টি আয়োজন করে। ডনি যখন ভিলার প্রবেশদ্বার পার করে, তখন তিনি দেখেন পুরুষদের সঙ্গে কম পোশাকের তরুণী নারীরা অশ্লীল কার্যকলাপে জড়িয়ে আছে। কিছু নারীকে তাড়া করা হচ্ছে, আবার অন্যরা বাধ্যতামূলকভাবে শারীরিক কাজ করাতে বাধ্য করা হচ্ছে।
লুজ নৌকায় থেকে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে হেলভিগের স্টুডিওতে প্রবেশ করে। সেখানে তিনি একটি কান্নাকাটি, শৃঙ্খলে বাঁধা তরুণী নারীর মুখোমুখি হন, যাকে হেলভিগ শারীরিক নির্যাতনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। লুজ দ্রুত গুলি চালিয়ে হেলভিগকে থামায় এবং শৃঙ্খল ভেঙে নারীর মুক্তি দেয়। এরপর তিনি হেলভিগকে গুলির হুমকি দিয়ে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফাঁকি দিয়ে সম্পদ হরণ করার পরিকল্পনা প্রকাশ করে।
ডনি ভিলার কেন্দ্রীয় গোলাকার কক্ষে পৌঁছায়, যেখানে একাধিক পুরুষ অর্গি অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছিল। তিনি স্বয়ংক্রিয় বন্দুক হাতে তুলে নারীদের নিরাপদে বের হতে নির্দেশ দেয় এবং পার্টি থামিয়ে দেয়। ডনি ও লুজের কাজের ফলে হেলভিগের অপরাধমূলক নেটওয়ার্কের কিছু অংশ উন্মোচিত হয়।
এই সিজনের মূল থিম হল ‘সচেতন ন্যায়বিচার’ বা ভিজিল্যান্টিজম, যেখানে প্রধান চরিত্রগুলো আইনগত সীমার বাইরে গিয়ে মানব পাচার বন্ধ করার চেষ্টা করে। সিরিজের নির্মাতা উল্লেখ করেছেন যে এই গল্পটি ২০২২-২০২৩ সালে রচিত হয়েছিল, তাই এটি বাস্তব সংবাদ শিরোনামের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও পূর্বে থেকেই পরিকল্পিত ছিল।
‘ক্রস’ সিজন ২-এ মানব পাচার, ধনী ব্যবসায়ীর ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ন্যায়বিচারের সন্ধানকে কেন্দ্র করে একটি তীব্র নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। শোটি দর্শকদেরকে আধুনিক সমাজের অন্ধকার দিকগুলোতে আলোকপাত করার পাশাপাশি ন্যায়বিচারের জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
প্রথম সিজনের সাফল্যের পর এই নতুন পর্বগুলো দর্শকদের মধ্যে উচ্চ প্রত্যাশা তৈরি করেছে। সিরিজের ভিজ্যুয়াল এফেক্ট, সাসপেন্স এবং চরিত্রের গভীরতা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। একই সঙ্গে, মানব পাচার সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা বাড়িয়েছে, যা সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।
‘ক্রস’ সিজন ২-এ অ্যালেক্স ক্রস ও জোন সাম্পসন দুজনই তাদের গোয়েন্দা দক্ষতা ও নৈতিক সংকল্পকে একত্রে ব্যবহার করে অপরাধের জাল ফাঁস করে। লুজ ও ডনি’র সাহসিকতা এবং হেলভিগের ধনী প্রভাবের মুখোমুখি হয়ে তারা মানবিক মূল্যবোধের রক্ষা করে।
সিরিজের নির্মাণে জেমস প্যাটারসনের মূল উপন্যাসের মূল কাঠামো বজায় রাখা হয়েছে, তবে নতুন চরিত্র ও আধুনিক সামাজিক সমস্যার সংযোজনের মাধ্যমে তা আরও সমসাময়িক করা হয়েছে। শোটি প্রাইম ভিডিওতে স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে সহজলভ্য, যা দর্শকদেরকে যেকোনো সময়ে দেখতে সুবিধা দেয়।
সারসংক্ষেপে, ‘ক্রস’ সিজন ২ মানব পাচার ও ধনী অপরাধীর বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের গল্পকে তীব্রভাবে উপস্থাপন করেছে। সিরিজটি কেবল বিনোদন নয়, সামাজিক বার্তা প্রদানেও সফল হয়েছে। যারা থ্রিলার ও ডিটেকটিভ ধারার ভক্ত, তারা এই নতুন সিজনে আকর্ষণীয় কাহিনী ও উত্তেজনাপূর্ণ দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন।



