ওপেনএআই সম্প্রতি জানিয়েছে যে, সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ গঠিত তার অ্যালাইনমেন্ট দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। দলটি মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সিস্টেমকে “নিরাপদ, বিশ্বাসযোগ্য এবং মানব মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ” রাখার জন্য কাজ করত। এই পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দলের প্রাক্তন প্রধানকে নতুন পদে নিয়োগ করা হয়েছে।
অ্যালাইনমেন্ট দলটি ওপেনএআইয়ের অ্যালাইনমেন্ট রিসার্চ ব্লগে প্রকাশিত এক পোস্টে উল্লেখিত লক্ষ্য অনুসরণ করত: জটিল বাস্তব পরিস্থিতি ও প্রতিকূল শর্তে মানব ইচ্ছা অনুসরণ করা, বিপর্যয়কর আচরণ এড়ানো এবং সিস্টেমকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য, অডিটযোগ্য ও মানব মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা।
দলের কাজের বিবরণে উল্লেখ ছিল যে, গবেষকরা এমন পদ্ধতি বিকাশের চেষ্টা করবে যা এআইকে বিভিন্ন, কখনও কখনও উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ বা প্রতিকূল পরিবেশে মানব ইচ্ছা মেনে চলতে সক্ষম করবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে অ্যালাইনমেন্ট গবেষণা শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।
দলটির পূর্বতন প্রধান জোশ আছিয়াম এখন ওপেনএআইয়ের চিফ ফিউচারিস্ট হিসেবে কাজ করবেন। তিনি লিখেছেন যে, তার নতুন দায়িত্ব হল এআই, এজি আই এবং তার পরবর্তী প্রভাবের ফলে বিশ্ব কীভাবে পরিবর্তিত হবে তা বিশ্লেষণ করা, যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবজাতির জন্য উপকারী হয়।
চিফ ফিউচারিস্টের ভূমিকা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে আছিয়াম জেসন প্রুয়েটের সঙ্গে সহযোগিতা করবেন, যিনি ওপেনএআইয়ের প্রযুক্তিগত স্টাফের একজন পদার্থবিদ। দুজনের সমন্বয় ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি প্রবণতা ও নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ওপেনএআইয়ের একটি মুখপাত্র জানান যে, অ্যালাইনমেন্ট দলের ছয় থেকে সাতজন সদস্যকে এখন কোম্পানির বিভিন্ন বিভাগে পুনর্বিন্যস্ত করা হয়েছে। তবে নতুন দায়িত্বের সুনির্দিষ্ট বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।
দলটির পুনর্বিন্যাসের পরে, সদস্যরা কোন প্রকল্পে যুক্ত হবে তা স্পষ্ট না হলেও, তাদের দক্ষতা কোম্পানির বিস্তৃত গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যবহার করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অ্যালাইনমেন্ট কাজের গুরুত্বকে বিবেচনা করলে, এই পদক্ষেপটি শিল্পে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। নিরাপদ ও মানব-মুখী এআই নিশ্চিত করার জন্য বিশেষায়িত দলকে ভেঙে দেওয়া মানে কী, তা নিয়ে বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলছেন।
কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, দলটি ভেঙে দেওয়া মানে হতে পারে যে ওপেনএআই এখন অ্যালাইনমেন্ট কাজকে অন্যান্য বিভাগে একীভূত করে আরও সমন্বিতভাবে পরিচালনা করতে চায়। অন্যদিকে, এটি অ্যালাইনমেন্ট গবেষণার অগ্রাধিকার হ্রাসের ইঙ্গিতও হতে পারে।
ওপেনএআইয়ের মিশন হল কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা (এজি আই) সব মানুষের জন্য উপকারি করা। অ্যালাইনমেন্ট দলকে পুনর্গঠন করে নতুন কাঠামো গড়ে তোলা এই মিশনকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।
ভবিষ্যতে, চিফ ফিউচারিস্টের দৃষ্টিকোণ থেকে এআই প্রযুক্তির সামাজিক ও নৈতিক প্রভাবের বিশ্লেষণ কোম্পানির কৌশলগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এদিকে, পুনর্বিন্যস্ত অ্যালাইনমেন্ট কর্মীরা নতুন দলে কীভাবে অবদান রাখবে, তা নজরে থাকবে।
ওপেনএআই এই পরিবর্তনের মাধ্যমে এআই নিরাপত্তা ও মানব মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে কীভাবে নতুন পদ্ধতি গড়ে তুলবে, তা শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে থাকবে।



