১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনে ১২.৮ কোটি ভোটার অংশ নেবে এবং ফলাফল নির্ধারণে তিনটি মূল উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এসব উপাদান হল বিদ্রোহী প্রার্থী, তরুণ ভোটার এবং এখনও সিদ্ধান্তহীন ভোটার। এ তিনটি বিষয়ের সমন্বয়ই বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা বাড়াবে বা কমাবে।
ন্যারেটিভ কনসোর্টিয়ামের জরিপ ২৯৫টি আসনে মোট ২২,১৭৪ জন উত্তরদাতার উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে, যা নির্দিষ্ট সময়ের জনমতের চিত্র উপস্থাপন করে। অন্যদিকে ইনোভিশন পূর্বে সাক্ষাৎকার নেওয়া ৫,১৪৭ জনের সঙ্গে পুনঃযোগাযোগ করে মতামতের পরিবর্তন ট্র্যাক করেছে, যা সময়ের সঙ্গে জনমতের গতিবিধি বুঝতে সহায়ক। উভয় পদ্ধতির ফলাফল ভিন্ন হলেও নির্বাচনের গতিপথ বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে।
ঐতিহ্যগতভাবে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক মোট ভোটের ৩৫ থেকে ৪৮ শতাংশের মধ্যে ছিল। তবে এইবার দলটির কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা আরোপের ফলে প্রায় ৪ কোটি ভোটার নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেকের বেশি বিএনপির দিকে ঝুঁকছে, আর জামাতও এই পরিবর্তনের থেকে উপকৃত হতে পারে।
বাংলাদেশের ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট (এফপিটিপি) ব্যবস্থা ৩০০টি একক নির্বাচনী এলাকায় সর্বোচ্চ ভোট প্রাপ্ত প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করে, ফলে কেন্দ্রীয় সমর্থন বেশি থাকা দলকে সুবিধা দেয়। এই পদ্ধতি অনুসারে, জামাতের সামান্য ভোটে পিছিয়ে থেকেও আসনসংখ্যায় উল্লেখযোগ্য লাভ করতে পারে।
বিএনপির অভ্যন্তরে ৯২ জন নেতা স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই প্রার্থীরা ১৫ থেকে ৩০টি আসনে মূল দলের ভোট ভাগ করে নিতে পারে, যা সম্ভাব্যভাবে বিএনপির জয়কে হ্রাস করতে পারে। তাই বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রভাব নির্বাচনী ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ একটি অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
প্রথমবার ভোট দেওয়া তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ৩৭.৪ শতাংশ ভোট জামাতের দিকে ঝুঁকছে। যদি এই তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণের হার বেশি হয়, তবে জামাতের আসনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি তাই জামাতের জন্য একটি বড় সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সমীক্ষা দেখায় যে ১৫ থেকে ৩৫ শতাংশ ভোটার এখনও সিদ্ধান্তহীন। এই অনিশ্চিত ভোটারদের চূড়ান্ত পছন্দ নির্বাচনের ফলাফলকে সরাসরি প্রভাবিত করবে। তাদের সিদ্ধান্তই ভোটের মোট পার্থক্য নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি।
প্রথম সম্ভাব্য দৃশ্যপটে, যদি বিএনপি ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পায়, তবে তা ১৮৫ থেকে ২১৫টি আসন জয়ের সমতুল্য হবে। এই ক্ষেত্রে দলটি স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে।
দ্বিতীয় দৃশ্যপটে, যদি বিএনপি ২০ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পায়, তবে তা ১৫৫ থেকে ১৮৫টি আসন নিশ্চিত করতে পারে। যদিও সংখ্যাগরিষ্ঠতা না হলেও দলটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন পাবে।
তৃতীয় সম্ভাবনা হল সংসদে কোনো দল স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেয়ে সমতা বজায় থাকবে, যেখানে বিএনপি ১৩০ থেকে ১৫৫টি আসন অর্জন করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে জোট গঠন বা সমঝোতা প্রয়োজন হবে।
চতুর্থ দৃশ্যপটে, জামাতের নেতৃত্বে একটি জোট সরকার গঠন করতে পারে, যেখানে বিএনপি ১৩০টির কম আসন পাবে এবং জামাত ১৩০টির বেশি আসন অর্জন করবে। এ ক্ষেত্রে জামাতের জোটের প্রভাব সর্বোচ্চ হবে।
সারসংক্ষেপে, নির্বাচনের মূল প্রশ্ন এখন বিজয়ী দল নয়, বরং জয়ের পার্থক্য কতটা হবে। বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রভাব, তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি এবং অনিশ্চিত ভোটারদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই ফলাফলকে নির্ধারণ করবে।
এখন থেকে দলগুলো স্বতন্ত্র ভোটার এবং তরুণ প্রজন্মকে লক্ষ্য করে প্রচার বাড়াবে, বিশেষত swing voters-কে আকৃষ্ট করার জন্য। নির্বাচন কমিশন ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য তদারকি করবে।
গণনা শেষ হওয়ার পরই চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ পাবে, তবে বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যায় প্রতিযোগিতা তীব্র এবং ফলাফল কয়েকটি মূল উপাদানের ওপর নির্ভরশীল।



