২৪ বছর বয়সী ক্যালেব ম্যাকলফ্লিন সম্প্রতি সনি পিকচার্স অ্যানিমেশনের নতুন চলচ্চিত্র ‘GOAT’‑এ শিরোনাম চরিত্রের কণ্ঠ দিয়েছেন। ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ সিরিজের শেষ পর্বের ছয় সপ্তাহ পরেই তিনি এই প্রকল্পে যুক্ত হয়েছেন। এই অ্যানিমেশনটি প্রাণী‑খেলায় ভিত্তিক একটি কল্পনাপ্রসূত ক্রীড়া গল্প উপস্থাপন করে।
‘GOAT’‑এর মূল নায়ক হল উইল হ্যারিস, যাকে একটি ছাগল হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছে। উইল ছোট দেহের কারণে পেশাদার রোয়ারবলে (একটি প্রাণী‑ভিত্তিক বাস্কেটবল) তার স্বপ্ন পূরণে বাধা অনুভব করে। তার স্বপ্নের পথে অপ্রত্যাশিত মোড় আসে যখন সে এক স্ট্রিটবল চ্যালেঞ্জে লিগের MVP ম্যান অ্যাট্র্যাকশনকে (আর্ন পিয়ের) লজ্জিত করে।
এই ঘটনার পর উইল ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে ওঠে এবং তার প্রিয় দল ভিনেল্যান্ড থর্নস তাকে সিজন‑শেষের চুক্তি দেয়। দলটি টিকিট বিক্রি বাড়াতে তার জনপ্রিয়তা কাজে লাগাতে চায়। চলচ্চিত্রে রোয়ারবলের নিয়ম ও প্রাণী‑বিশেষ পরিবেশের বর্ণনা দর্শকদের নতুন অভিজ্ঞতা দেয়।
সনি পিকচার্স অ্যানিমেশন এই প্রকল্পে পূর্বে অর্জিত সাফল্যকে ধারাবাহিক রাখছে। তারা ‘স্পাইডার‑ভার্স’ ত্রয়ী ও ‘কেপপপ ডেমন হান্টার্স’‑এর মতো পুরস্কারপ্রাপ্ত কাজের পর ‘GOAT’‑কে তাদের সর্বোচ্চ বাজেটের চলচ্চিত্র হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
‘GOAT’‑এর প্রযোজনা দলেও ক্রীড়া জগতের বিশিষ্ট নাম যুক্ত। লেব্রন জেমসের প্রযোজনা সংস্থা এই ছবিতে অংশগ্রহণ করেছে এবং তিনি নিজেও কণ্ঠে অবদান রেখেছেন। এছাড়া জেমসের সহকর্মী ও অলিম্পিক সহকর্মী স্টিফেন কারি ছবির প্রযোজক এবং কণ্ঠশিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন।
ম্যাকলফ্লিনের আগে ২০২৩ সালে ‘শুটিং স্টার্স’ ছবিতে তিনি লেব্রনের বন্ধু ও সহখেলোয়াড় ড্রু জয়েস III‑এর কণ্ঠ দিয়েছিলেন। এই চলচ্চিত্রটি জেমসের উচ্চ বিদ্যালয়ের বাস্কেটবল দলকে কেন্দ্র করে তৈরি, যা তার ক্রীড়া পটভূমি ও অনুপ্রেরণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অ্যানিমেশন ও ক্রীড়া-থিমের গল্পগুলো ম্যাকলফ্লিনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। তিনি পূর্বে ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’‑এ তার চরিত্রের মাধ্যমে তরুণ দর্শকদের হৃদয় জয় করেছেন, আর এখন ‘GOAT’‑এর মাধ্যমে অ্যানিমেটেড জগতে নিজের ছাপ রাখতে চান।
ম্যাকলফ্লিনের ক্যারিয়ারে একটি স্মরণীয় ঘটনা রয়েছে, যখন তিনি এবং অন্য এক শিশু অভিনেতা একই চরিত্রের জন্য দু’বার বুকিং পেয়েছিলেন। সেই সময় তাকে অভিনেতা না হয়ে নর্তকী হিসেবে কাজ করতে বলা হয়। যদিও তিনি প্রথমে হতবাক হন, তবু তিনি তা গর্বের সঙ্গে গ্রহণ করেন।
এই অভিজ্ঞতা তার জন্য মানসিকভাবে কঠিন ছিল; তিনি একা বাথরুমে গিয়ে কাঁদেছিলেন এবং ভবিষ্যতে এমন অবহেলা আর না পেতে দৃঢ় সংকল্প গঠন করেন। এই ঘটনা তার আত্মবিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে এবং পরবর্তী কাজের জন্য প্রেরণা যোগায়।
‘GOAT’‑এর রিলিজের সঙ্গে সঙ্গে ম্যাকলফ্লিনের ভক্তরা নতুন কণ্ঠশিল্পে তার পারফরম্যান্সের অপেক্ষা করছেন। তিনি অ্যানিমেশন জগতে নিজের উপস্থিতি শক্তিশালী করতে এবং ক্রীড়া‑থিমের গল্পে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগাতে চান।
সামগ্রিকভাবে, ‘GOAT’ ক্যালেব ম্যাকলফ্লিনের ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি অ্যানিমেটেড চরিত্রের মাধ্যমে তরুণ দর্শকদের অনুপ্রেরণা দিতে এবং নিজের শিল্পী দক্ষতা প্রসারিত করতে সক্ষম হচ্ছেন। এই প্রকল্পটি তার ভবিষ্যৎ কাজের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।



