ঢাকা, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – জামাতের বিশিষ্ট নেতা ডা. মাহমুদা মিতু রাষ্ট্রীয় নির্বাচনের পূর্বে এক সাক্ষাৎকারে জানান যে, জামাতের বহু নেতা ধারাবাহিকভাবে ফোন চেকের মুখোমুখি হচ্ছেন এবং এ প্রক্রিয়ার ফলে কয়েকজনের মৃত্যু ঘটেছে। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা বাহিনীর এই কার্যক্রমের পরিধি বাড়ছে এবং তা রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।
ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, “আমাদের নেতাদের ফোনে বারবার চেক করা হচ্ছে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে তা মৃত্যুর কারণও হতে পারে।” তিনি এই মন্তব্যের সঙ্গে যুক্ত করেন যে, ফোন চেকের উদ্দেশ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলেও, তা অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের রূপ নেয়। তার মতে, এই ধরনের চাপের ফলে জামাতের সংগঠনগত কাঠামো ও নির্বাচনী প্রস্তুতিতে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
মিতু এই বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত করে জানান, ফোন চেকের সময় প্রায়ই গোপনীয়তা লঙ্ঘন হয় এবং নেতাদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তিনি দাবি করেন, এই প্রক্রিয়ার ফলে কিছু নেতা স্বাস্থ্যগত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, যা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর দিকে নিয়ে গেছে। তিনি এ বিষয়ে কোনো সরকারি নথি প্রকাশ না করলেও, ঘটনাগুলোর বাস্তবতা তিনি দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত করেন।
মিতুর মন্তব্যের পর, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের একজন প্রতিনিধি পূর্বে বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করে থাকায়, মিতু তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো বিদেশি মন্তব্যের ভিত্তি নেই এবং তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।” মিতু যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের মন্তব্যকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখেন এবং তা দেশীয় বিষয়ের স্বাধীনতা হ্রাসের ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
প্রতিবাদী দলগুলোর পক্ষ থেকে এই অভিযোগের প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন, ফোন চেকের ব্যাপকতা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিনিধিরা এখনও কোনো মন্তব্য করেননি, তবে তারা বলেছে যে, আইনগত প্রক্রিয়ার অধীনে সকল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এই ঘটনার ফলে জামাতের নির্বাচনী কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হতে পারে। মিতু উল্লেখ করেন, “যদি আমাদের নেতাদের ওপর এই ধরনের চাপ অব্যাহত থাকে, তবে আমাদের প্রচার কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা আসবে এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে বাধা সৃষ্টি হবে।” তিনি এও জানান, জামাতের নেতৃত্বের মধ্যে এই পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে কিভাবে মোকাবিলা করা হবে তা নির্ধারণের জন্য জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হবে।
অধিকন্তু, মিতু উল্লেখ করেন যে, ফোন চেকের ফলে কিছু নেতার পরিবারে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং তা সামাজিক মেলামেশাকে প্রভাবিত করছে। তিনি পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে বলেন, “আমরা তাদের পাশে আছি এবং এই কঠিন সময়ে সমর্থন প্রদান করছি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, যদি ফোন চেকের মতো নিরাপত্তা ব্যবস্থা অতিরিক্ত হয়ে যায়, তবে তা ভোটারদের মধ্যে অবিশ্বাসের সৃষ্টি করতে পারে এবং নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে, নিরাপত্তা সংস্থার দৃষ্টিকোণ থেকে, তারা বলবে যে, দেশের নিরাপত্তা বজায় রাখতে এসব ব্যবস্থা অপরিহার্য।
ডা. মাহমুদা মিতুর এই মন্তব্যের পর, জামাতের অন্যান্য নেতাদের কাছ থেকেও সমর্থনমূলক বক্তব্য শোনা যায়। তারা একত্রে নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে, ফোন চেকের স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গততা নিশ্চিত করার দাবি রাখে। একই সঙ্গে, তারা ভোটারদের কাছে আশ্বাস দেয় যে, জামাতের প্রচার কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাবে এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করবে।
এই বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে জামাতের নেতাদের সংলাপের ফলাফল কী হবে, তা আগামী দিনগুলোতে স্পষ্ট হবে। নির্বাচনের দিন নিকটবর্তী হওয়ায়, সকল পক্ষের জন্য এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হিসেবে রয়ে গেছে।



