হাট ইয়াই শহরের নিকটবর্তী পাতং প্রথান কেরি ওয়াট স্কুলে বুধবার সন্ধ্যা ৫টায় এক তরুণ গুলিবাজ প্রবেশ করে গুলি চালায়। গুলিবাজের বয়স ১৮ বছর এবং তিনি হাতে বন্দুক নিয়ে স্কুলের ভিতরে প্রবেশ করেন। গুলিবাজের আক্রমণে অন্তত দুইজন আহত হয়, যার মধ্যে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত।
ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা দ্রুত পৌঁছায় এবং আহতদের নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। প্রধান শিক্ষককে গুলির আঘাতে গুলিবিদ্ধ বলে জানানো হয়েছে, আর একটি মেয়ে শিক্ষার্থীও গুলির শিকার হয়। অন্য একটি শিক্ষার্থী আতঙ্কে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে, ফলে তাকে অতিরিক্ত আঘাত হয়।
পুলিশ গুলিবাজকে আটক করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ দল স্কুলের চারপাশে ঘেরাও গঠন করে এবং গুলিবাজকে বন্দি করে। গুলিবাজকে স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, গুলিবাজের উদ্দেশ্য ও প্রেরণা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তকারী দল গুলিবাজের পটভূমি, তার সামাজিক ও মানসিক অবস্থা, এবং ঘটনার পূর্বে কোনো হুমকি বা সতর্কতা ছিল কিনা তা যাচাই করছে। গুলিবাজের পরিবার ও পরিচিতদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘটনাস্থলকে নিরাপদ করে তুলতে তৎপরতা প্রকাশ করেছে এবং স্কুলে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নিরাপত্তা প্রোটোকল পুনর্বিবেচনা করা হবে।
হাট ইয়াই জেলার পুলিশ প্রধান ঘটনাটির পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে, কোনো অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক না ছড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, গুলিবাজের গ্রেফতার দ্রুত ঘটেছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
আহত প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অবস্থা স্থিতিশীল, তবে চিকিৎসা চলমান। হাসপাতালের সূত্রে জানা যায়, উভয়ই গুরুতর আঘাতের মধ্যে রয়েছে, তবে জীবন-সংকটের অবস্থা নয়। পরিবার ও সহকর্মীরা তাদের দ্রুত আরোগ্যের জন্য প্রার্থনা করছেন।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, স্কুল প্রশাসন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বের করে নিয়ে যায়। গুলিবাজের আক্রমণের সময় কিছু শিক্ষক ও শিক্ষার্থী গুলিবাজের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও, তিনি গুলি চালিয়ে চলেন।
স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গুলিবাজের আক্রমণে আহতদের চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতি বাড়ানোর পরিকল্পনা জানিয়েছে।
আইনি দিক থেকে, গুলিবাজকে অস্ত্র ব্যবহার, সশস্ত্র গৃহহত্যা, এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হবে। আদালতে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুলিবাজের হাতে ব্যবহৃত বন্দুকের ধরন ও উৎস সম্পর্কে এখনও তদন্ত চলছে। পুলিশ গুলিবাজের সঙ্গে যুক্ত কোনো সহায়ক বা সহচর আছে কিনা তা জানার জন্য বিস্তৃত অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
এই ঘটনার পর, থাইল্যান্ডের শিক্ষা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি একত্রে কাজ করে স্কুলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও গুরুত্বারোপ করছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন আক্রমণ রোধ করা যায়।
সামগ্রিকভাবে, ঘটনাটি থাইল্যান্ডের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে এবং সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে। গুলিবাজের গ্রেফতার ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্কতা বজায় রাখবে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।



