18 C
Dhaka
Thursday, February 12, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিআওয়ামী লীগের 'নো বোট, নো ভোট' আহ্বান, কিছু সমর্থক ভোটে অংশ নেবে...

আওয়ামী লীগের ‘নো বোট, নো ভোট’ আহ্বান, কিছু সমর্থক ভোটে অংশ নেবে বলে অনুমান

আওয়ামী লীগ ২০২৬ সালের সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ‘নো বোট, নো ভোট’ নীতি ঘোষণা করেছে। দলটি ভোট দমন বা ভোটারকে কেন্দ্র থেকে দূরে সরানোর কোনো পরিকল্পনা না রাখলেও, কর্মী ও সমর্থকদের একটি অংশ এখনও ভোট দেবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই অবস্থান নির্বাচনের আগে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।

‘নো বোট, নো ভোট’ মানে ভোটের দিনে কোনো ভোটারকে ভোট কেন্দ্রে পৌঁছাতে নৌকা বা অন্য কোনো পরিবহন ব্যবস্থা না দেওয়া। তবে দলটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে ভোট বন্ধ করার কোনো প্রচেষ্টা করবে না। ভোটার উপস্থিতি কমে যাওয়া স্বাভাবিক বলে দলটি এটিকে স্বীকার করেছে এবং তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দলটির ভোট প্রতিহত না করার দুইটি মূল কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমটি হল ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ভোট বর্জন ও প্রতিহত করে সফলতা অর্জনের পরেও, বর্তমান সময়ে সংগঠনিক নেতৃত্বের ঘাটতি রয়েছে। দ্বিতীয়টি হল অতীতের মতো সমর্থক দল বা জোটের অভাব, যা ভোট দমন আন্দোলনকে কার্যকর করে তুলতে পারত।

১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ভোট বর্জনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সুবিধা পেয়েছিল, তবে সেই সময়ের তুলনায় এখন দলটির কাঠামোগত শক্তি হ্রাস পেয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অভাবের ফলে বৃহৎ মাত্রার ভোটবর্জন আন্দোলন চালানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া, ঐতিহাসিকভাবে ভোটবর্জনকে সমর্থনকারী অন্যান্য রাজনৈতিক দলও বর্তমানে দূরত্ব বজায় রাখছে।

বহিরাগত শুভাকাঙ্ক্ষীদের পরামর্শও দলটির কৌশলে প্রভাব ফেলেছে। ২০১৪ এবং ২০২৪ সালের ভোটবর্জন প্রচেষ্টায় জ্বালাও-পোড়া ঘটনার ফলে বিরোধী দলগুলো আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিখে, আওয়ামী লীগ এখন বিদেশে বসবাসকারী সমর্থকদের পরামর্শ মেনে, সহিংসতা না করে শান্তিপূর্ণ পদ্ধতি অনুসরণ করতে চায়।

আওয়ামী লীগের সরকার ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতিত হওয়ার পর, ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। এরপর ১২ মে (২০২৫) পর্যন্ত দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও, বিভিন্ন সময়ে গোপন তৎপরতা ও বিচ্ছিন্ন মিছিলের প্রচেষ্টা দেখা যায়।

প্রধানত রাজধানী ও কয়েকটি বড় শহরে ছোট মিছিলের আয়োজন করা হয়, যেখানে কখনো কখনো পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। হরতাল, ঢাকা লকডাউন ইত্যাদি কর্মসূচি ঘোষিত হলেও, মাঠে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি সীমিত ছিল। তদুপরি, শীঘ্রই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর শীঘ্রই শীখ হাসিনা অনলাইন মাধ্যমে সরকারকে সমালোচনা করেন।

দলটির বর্তমান কৌশল হল ধৈর্য ধরে উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষা করা। সংগঠনিক দুর্বলতা, জোটের অভাব এবং আন্তর্জাতিক সমালোচনার ঝুঁকি বিবেচনা করে, আওয়ামী লীগ এখন বড় আকারের ভোটবর্জন আন্দোলন চালানোর পরিবর্তে নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে এমন সূক্ষ্ম পদক্ষেপে মনোনিবেশ করেছে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ভোটার উপস্থিতি কমে যাওয়া ফলে নির্বাচনের বৈধতা ও ফলাফলে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে দলটি এখনও ভোটের দিন পর্যন্ত কোনো সরাসরি হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্তে অটল। ভবিষ্যতে ভোটের পরিসংখ্যান কেমন হবে, তা নির্ভর করবে সমর্থকদের ভোটদান প্রবণতা ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কৌশলের উপর।

সারসংক্ষেপে, আওয়ামী লীগ ‘নো বোট, নো ভোট’ নীতি মেনে ভোটবর্জন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে সংগঠনিক সীমাবদ্ধতা ও আন্তর্জাতিক পরামর্শের কারণে কিছু সমর্থক ভোটে অংশ নিতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। দলটি এখন ধৈর্য ধরে উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষা করে, যাতে রাজনৈতিক প্রভাব সর্বোচ্চ করা যায়।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments