ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বুধবার হোয়াইট হাউসে এক বন্ধ দরজার বৈঠক করেন, যেখানে ইরান পারমাণবিক আলোচনার অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়। দু’জন নেতার সাক্ষাৎকারের পটভূমিতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং ইরান সরকারের পারমাণবিক অস্ত্র প্রোগ্রাম নিয়ন্ত্রণের জন্য আন্তর্জাতিক আলোচনার তীব্রতা উল্লেখযোগ্য। বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল ইরান সরকারকে পারমাণবিক কার্যক্রম সীমাবদ্ধ করতে এবং অতিরিক্ত শর্তে সম্মতি না দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করা।
বৈঠকটি হোয়াইট হাউসের পার্শ্ব প্রবেশদ্বার থেকে প্রবেশ করে, এবং শুধুমাত্র দুজন নেতার মধ্যে গোপনীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হয়। বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই সফরে যুক্তরাষ্ট্রে তার ষষ্ঠ বার সফর করেন, যা তার পূর্ববর্তী সফরের তুলনায় বেশি। বৈঠকের সময় উভয় পক্ষের নিরাপত্তা সংস্থা কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখে, এবং কোনো মিডিয়া উপস্থিতি অনুমোদিত ছিল না।
বৈঠকের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল-এ পোস্ট করে জানান যে আলোচনাটি “খুবই ফলপ্রসূ” ছিল, তবে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি অর্জিত হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন যে তিনি ইরান পারমাণবিক আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে জোর দিয়েছেন এবং একটি চুক্তি তার পছন্দ হলেও তা না হলে পরবর্তী ফলাফল দেখতে হবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানকে সম্পূর্ণভাবে সীমাবদ্ধ করার জন্য কোনো চূড়ান্ত শর্তে পৌঁছায়নি।
বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বৈঠকে ইরানকে শুধুমাত্র ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ বন্ধ করাই নয়, বরং তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রোগ্রাম এবং হামাস ও হেজবোল্লার মতো প্রক্সি গোষ্ঠীর সমর্থনও শেষ করার দাবি করেন। ইজরায়েলি সরকারের মতে, ইরান তার অস্ত্রশক্তি বৃদ্ধি করে ইজরায়েলি নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করছে। নেতানিয়াহু এই দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের প্রভাব কমাতে এবং পারমাণবিক হুমকি দূর করতে সহায়তা করার আহ্বান জানান।
ইরান সরকার পারমাণবিক প্রোগ্রাম সীমিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, তবে তা কেবলমাত্র আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা হ্রাসের বিনিময়ে। তবে ইরান পারমাণবিক সমঝোতার অন্যান্য শর্ত, যেমন ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রক্সি গোষ্ঠীর সমর্থন বন্ধ করা, প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বৈঠকের পূর্বে উল্লেখ করেন যে ইরান তার “অত্যধিক চাহিদা” মেনে নেবে না এবং নিজের স্বার্থ রক্ষা করবে। এই অবস্থান ইরানকে আলোচনার টেবিলে কঠিন অবস্থানে রাখে।
মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সাম্প্রতিক সপ্তাহে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যেখানে ইরান ও ইজরায়েলি সরকারের মধ্যে পারস্পরিক সন্দেহ বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই বৈঠককে অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও ইরানের শর্তে সমঝোতা এখনও দূরে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে, ইরান পারমাণবিক চুক্তি না হলে আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা ইরানের সঙ্গে প্রথম রাউন্ডের আলোচনার আপডেট প্রদান করেন এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার দিকনির্দেশনা নির্ধারণে সহায়তা করেন। এই সংযোগটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলি সরকারের মধ্যে কূটনৈতিক সমন্বয়কে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে এই বৈঠকের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের ইরান নীতি পুনর্বিবেচনার দিকে ধাবিত করতে পারে, বিশেষত যদি ইরান শর্তে সমঝোতা না করে। বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইরানকে “অস্তিত্বগত নিরাপত্তা হুমকি” হিসেবে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করছেন। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের “চুক্তি পছন্দ” প্রকাশের পরেও তিনি বিকল্প পরিকল্পনা গ্রহণের ইঙ্গিত দেন, যা ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক চালচিত্রকে প্রভাবিত করবে। সামগ্রিকভাবে, হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক ইরান পারমাণবিক আলোচনার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



