ঢাকার হাতিরঝিল এলাকায় দলনেতা একজনের অবৈধ কাজের ফলে ৩৩০ অপ্রশিক্ষিত আনসার ও গ্রাম রক্ষা বাহিনীর সদস্যকে নির্বাচন দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি টাকা গ্রহণ করে এই সদস্যদের অনুপযুক্তভাবে তালিকাভুক্ত করছিলেন। ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আনসার-ভিডিপি দপ্তর আজ একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে, যেকোনো ব্যক্তি যদি দুর্নীতি বা অনিয়মে জড়িত পাওয়া যায়, তাকে সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ব থেকে মুক্ত করা হবে। এই নীতি অনুসারে ৩৩০ জন অপ্রশিক্ষিত সদস্যের দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, একটি অভিযোগ পাওয়ার পর দপ্তর দ্রুত তদন্ত করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অভিযোগকারী জানিয়েছিলেন যে, হাতিরঝিলের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের টাউন ডিফেন্স পার্টির নেতা মমুন, নকল সার্টিফিকেট তৈরি করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছিলেন।
মমুনের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তিনি প্রতি ব্যক্তি ৪০০ টাকা দিয়ে নকল প্রশিক্ষণ সনদ তৈরি করাতেন এবং অতিরিক্ত ১১০০ টাকা গ্রহণ করে তাদেরকে নির্বাচন দায়িত্বে নিয়োগের অনুমতি দিতেন। এই ধরনের আর্থিক লেনদেনের ফলে অনুপযুক্ত ব্যক্তিরা ভোটার তালিকা যাচাই, পোলিং স্টেশন রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্বে আসতে পারত।
দপ্তর অবিলম্বে সিদ্ধান্ত নেয় যে, এই প্রক্রিয়ায় জড়িত সকলকে দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়া হবে। ফলে ৩৩০ জন অপ্রশিক্ষিত সদস্যের নির্বাচন দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছে এবং তাদেরকে পুনরায় প্রশিক্ষণ বা অন্য কোনো দায়িত্বে নিয়োগ করা হবে না।
মমুনের whereabouts সম্পর্কে জানানো হয়েছে যে, অভিযোগ প্রকাশের পর তিনি গায়েব হয়ে গেছেন। তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য স্থানীয় থানা স্টেশনে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দাখিল করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার গ্রেফতার নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে।
একই সময়ে চট্টগ্রামের কোতওয়ালি থানা থেকে আরেকটি ঘটনা প্রকাশ পায়। সেখানে ১৩ জন ব্যক্তি নির্বাচন দায়িত্বে নিয়োগ পেয়েছিলেন, যদিও তাদের প্রশিক্ষণ সনদ যাচাই করা হয়নি। প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যাওয়ায় এই ১৩ জনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
দপ্তর আরও জানায় যে, গুলশানের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের দলনেত্রী মোসাম্মত শাহনাজ সুলতানা এবং ভাটারার ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের শামসুন্নাহারকে তাদের রাজনৈতিক পার্টির সঙ্গে সংযোগের প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতে দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানিকভাবে দপ্তর জোর দিয়ে বলেছে যে, নির্বাচন দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা শারীরিকভাবে সক্ষম, বৈধ প্রশিক্ষণ সনদধারী এবং প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। কোনো অনুপযুক্ততা বা নকল সনদ পাওয়া গেলে তা তৎক্ষণাৎ বাতিল করা হবে।
দপ্তর এই বিষয়টি উল্লেখ করে জানিয়েছে যে, নকল সনদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে নজরদারি ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে। নতুন পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এমন কোনো অনিয়ম ধরা পড়ে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
পরিচালক জেনারেলও পুনরায় জোর দিয়ে বলেছেন যে, দুর্নীতিতে জড়িত যে কেউ কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হবে। এই নীতি অনুসারে দপ্তর সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অখণ্ডতা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এই ঘটনাগুলো দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা সকল সংস্থাকে এখন থেকে কঠোর মানদণ্ড মেনে চলতে হবে এবং কোনো ধরনের অনিয়মের ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।



