জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেতা জেমস ভ্যান ডার বীক, ৪৮ বছর বয়সে কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই শেষ করে ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ মারা গেছেন। তার স্ত্রী কিম্বার্লি ভ্যান ডার বীক ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত পোস্টে জানিয়েছেন, “আমাদের প্রিয় জেমস ডেভিড ভ্যান ডার বীক আজ সকালে শান্তভাবে প্রয়াণ করেছেন।” তিনি শেষ দিনগুলোকে সাহস, বিশ্বাস এবং শোভা দিয়ে কাটিয়েছেন এবং পরিবার এখন শোকের সময় গোপনীয়তা চাচ্ছেন।
জেমস ভ্যান ডার বীককে সবচেয়ে বেশি স্মরণ করা হয় দ্য ডব্লিউবি-র টিন ড্রামা সিরিজ “ডসনস ক্রিক”-এ ডসন লেরি চরিত্রে, যেখানে তিনি সংবেদনশীল ও অনিরাপদ কিশোরের ভূমিকায় দর্শকদের হৃদয় জয় করতেন। সিরিজটি ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত প্রচারিত হয় এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
কনেকটিকাটের স্থানীয় বাসিন্দা জেমস ২০ বছর বয়সে অভিনয় জগতে প্রবেশ করেন এবং ১৫ বছর বয়সের চরিত্রের ভূমিকায় অভিনয় করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। তার শৈশবের স্বাভাবিকতা ও আত্মবিশ্বাস তাকে দ্রুতই টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে স্বীকৃতি এনে দেয়।
১৯৯৯ সালে তিনি ব্রায়ান রবিন্স পরিচালিত “ভার্সিটি ব্লুজ” ছবিতে টেক্সাসের উচ্চ বিদ্যালয়ের কোয়ার্টারব্যাক জোনাথন “মক্স” মক্সন চরিত্রে অভিনয় করেন, যা তাকে ক্রীড়া জগতের দৃশ্যমানতা দেয়। দুই বছর পর, ২০০২ সালে “দ্য রুলস অফ অ্যাট্র্যাকশন” ছবিতে তিনি সিয়ন ব্যাটম্যানের রোলে অভিনয় করে বেড ইস্টন এলিসের উপন্যাসের গাঢ় দিকটি উপস্থাপন করেন।
জেমসের ক্যারিয়ারে নিজস্ব উপস্থিতি ও হাস্যরসের ছোঁয়া যোগ হয়েছে, যেমন ২০০১ সালের “জে অ্যান্ড সাইলেন্ট বব স্ট্রাইক ব্যাক” এবং ২০১৯ সালের “জে অ্যান্ড সাইলেন্ট বব রিবুট” ছবিতে তিনি নিজেকে চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। এই ক্যামিওগুলোতে তিনি চলচ্চিত্রের মধ্যে চলচ্চিত্রের স্বরূপে উপস্থিত হয়ে দর্শকদের হাসি ও স্মরণীয় মুহূর্ত প্রদান করেন।
টেলিভিশন সিরিজ “ডোন্ট ট্রাস্ট দ্য বি—- ইন অ্যাপার্টমেন্ট ২৩”-এ তিনি দুই সিজন (২০১২‑২০১৩) ধরে একটি পতনশীল অভিনেতার ভূমিকায় অভিনয় করেন, যেখানে তার আত্মবিশ্বাস ও আত্ম-সচেতনতা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। এই সিরিজে তার পারফরম্যান্স তাকে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে পরিচিত করিয়ে দেয়।
মঞ্চে তার অবদানও উল্লেখযোগ্য; নিউ ইয়র্কে এডওয়ার্ড আলবির পরিচালনায় তিনি অভিনয় করেন এবং ১৯৯৫ সালের “অ্যাংগাস” ছবিতে বুলি চরিত্রে অভিনয় করে তার বহুমুখী দক্ষতা প্রদর্শন করেন। এই অভিজ্ঞতাগুলো তাকে চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও থিয়েটার সব ক্ষেত্রেই সমৃদ্ধ করে তুলেছে।
ব্যক্তিগত জীবনে জেমস কিম্বার্লি ভ্যান ডার বীকের সঙ্গে বিবাহিত ছিলেন এবং ছয়টি সন্তান ছিলেন। পরিবারগত গোপনীয়তা রক্ষার জন্য তিনি প্রায়শই মিডিয়ার দৃষ্টির বাইরে থাকতেন, তবে তার পরিবার ও বন্ধুদের জন্য তিনি সর্বদা সমর্থন ও ভালোবাসার উৎস ছিলেন।
ক্যান্সার রোগের সঙ্গে তার লড়াই প্রথমবার প্রকাশিত হয় নভেম্বর ২০২৪-এ, যখন তিনি জানিয়ে দেন যে তিনি আগস্ট ২০২৩ থেকে স্টেজ‑৩ কোলোরেক্টাল ক্যান্সার নিয়ে গোপনে চিকিৎসা গ্রহণ করে আসছেন। রোগের অগ্রগতি সত্ত্বেও তিনি কাজ চালিয়ে গেছেন এবং তার ভক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন।
মৃত্যুর ঘোষণার পোস্টে তিনি শান্তিপূর্ণ প্রয়াণের কথা উল্লেখ করে পরিবারকে শোকের সময় গোপনীয়তা বজায় রাখতে অনুরোধ করেন। পোস্টে তার মানবিকতা, সময়ের পবিত্রতা এবং মানবজাতির প্রতি তার ভালোবাসা সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে, যা তার জীবনের গভীর দিকগুলোকে প্রকাশ করে।
জেমস ভ্যান ডার বীক তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি সাংস্কৃতিক আইকন হিসেবে রয়ে গেছেন; তার ডসন লেরি চরিত্রটি এখনও বহু তরুণের হৃদয়ে অনুপ্রেরণার উৎস। তার অভিনয় শৈলী, সংবেদনশীলতা ও সৎ স্বভাবের জন্য তিনি বহু বছর ধরে স্মরণীয় থাকবেন।
পরিবার বর্তমানে শোকের মধ্যে রয়েছে এবং গোপনীয়তা বজায় রাখতে অনুরোধ করেছে। ভবিষ্যতে কোনো আনুষ্ঠানিক সমাবেশ বা স্মরণসভা সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করা হবে না। এই কঠিন সময়ে পরিবার ও ভক্তদের সমবেদনা জানানো হচ্ছে।



