উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের ৭/সি রোডে বসবাসকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রী বীথি আক্তারের বাড়িতে ১১ বছর বয়সী এক মেয়ে নির্যাতনের শিকার হয়। ২ ফেব্রুয়ারি রাত ৩:৩০ টার কাছাকাছি গৃহকর্মী ও দম্পতির সঙ্গে গৃহে উপস্থিত পুলিশ দল তাকে গ্রেপ্তার করে, এবং পরের দিন আদালতের নির্দেশে দম্পতি ও দুই গৃহকর্মীকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মেয়েটি ৩১ জানুয়ারি রাত থেকে গাজীপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তার মতে, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ফলে মাথা ব্যথা, দেহের ক্ষত শুকিয়ে যাওয়া এবং খাবার গিলতে কষ্ট হচ্ছে। তবু রসমালাই খেতে তাকে বেশি আনন্দ দেয়। তিনি জানান, বাড়িতে “ম্যাডাম”ের কথা শোনার পরও তিনি রাগের মুখে বাথরুমে আটকে রাখা হতেন, গরম পানিতে ছিটিয়ে দিতেন এবং কান্না করলে মুখ চেপে ধরতেন। খাবার খুব কম দিতেন, এবং “স্যার” হাত দিয়ে মারতেন, যদিও বেশির ভাগ সময় “ম্যাডাম” স্যারের সামনে যেতে দিতেন না।
মেয়েটি বাড়ির গৃহকর্মীর কাজের পাশাপাশি দুই গৃহকর্মীর সন্তান দেখাশোনা করত। গৃহকর্মী রুপালী খাতুনের দুই বছর ছয় মাসের সন্তানও মায়ের সঙ্গে কারাগারে রয়েছে। শিশুটি আদালতে তার শারীরিক অবস্থা ও নির্যাতনের বিশদ বিবরণ তুলে ধরেছে, এবং রোববার হাসপাতালে থেকে আদালতে উপস্থিত হয়ে জবানবন্দি দিয়েছে।
বছরের শেষের দিকে শিশুর বাবা তার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। বাবা জানান, মেয়েটি এখনো শারীরিক কষ্টে ভুগছে, তবে তার স্বাস্থ্যের অবস্থা কিছুটা উন্নত হয়েছে। শিশুটি নিজে জানিয়েছে যে, তার দাঁত ভেঙে গিয়েছে এবং এখনো খাবার গিলতে কষ্ট হয়।
দম্পতি ও গৃহকর্মীদের গ্রেপ্তার করার পরে, ১ ফেব্রুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানা-প্রশাসন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০‑এর বিভিন্ন ধারায় মামলাটি দায়ের করে। আদালতে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন মামলাটি শোনান এবং দোষী সাব্যস্তদের শাস্তি নির্ধারণ করেন। সাফিকুর রহমানকে পাঁচ দিন, তার স্ত্রীর বীথি আক্তারকে সাত দিন, গৃহকর্মী রুপালী খাতুনকে পাঁচ দিন এবং গৃহকর্মী মোছা সুফিয়া বেগমকে ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
শাস্তি ঘোষণার পর, গৃহকর্মী রুপালী খাতুনের দুই বছর ছয় মাসের সন্তানকে মায়ের সঙ্গে একই কারাগারে রাখা হয়। এছাড়া, ৫ ফেব্রুয়ারি সাফিকুর রহমানের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয় এবং তার পদ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০‑এর অধীনে চলমান এবং তদন্তকারী পুলিশ দল অতিরিক্ত প্রমাণ সংগ্রহের জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আদালত ভবিষ্যতে অতিরিক্ত শোনানির তারিখ নির্ধারণের সম্ভাবনা রয়েছে, যাতে অপরাধের সম্পূর্ণ দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা যায়।
এই ঘটনার পর, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিশু সুরক্ষা ও মানসিক পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। শিশুর স্বাস্থ্যের উন্নতি ও মানসিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা ও পরামর্শ চালু রাখা হয়েছে।



