কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় গত রাত্রে মোবাইল কোর্টের আদেশে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আটজনকে প্রত্যেককে দুই দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট মামলাটি স্থানীয় জাতীয় নাগরিক দলের (জাতীয় নাগরিক দল) একজন নেতার উপর বিএনপি কর্মীদের দ্বারা অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ও এক ঘরে আটক করার পর উত্তেজনা বাড়ার ফলে উত্থাপিত হয়।
বুধবার রাতের দিকে গুনাইঘার ইউনিয়নের পদ্মকোট কেন্দ্রের কাছে ওই নেতা ভোটারকে প্রভাবিত করার সন্দেহে বিএনপি কর্মীরা তাকে ধরতে গিয়েছিলেন। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি কেন্দ্রের প্রেজিডিং অফিসারের ঘরে বন্দি রাখা হয়, যেখানে উপস্থিত বিএনপি কর্মী ও জাতীয় নাগরিক দল ও জামাতের সমর্থকরা মুখোমুখি হয়।
দুই দলই একে অপরকে উত্তেজিত করার অভিযোগে মুখোমুখি হয়ে তীব্র ঝগড়া শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না পারায় স্থানীয় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে গিয়ে সেনাবাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি শমনের চেষ্টা করেন।
ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে স্থানীয় পুলিশ ও সেনা বাহিনীর সহযোগিতায় আটজনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে গ্রেপ্তারকৃত নেতা সহ অন্যান্য সমর্থকও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যাদেরকে নির্বাচনী কোড লঙ্ঘনের অভিযোগে মোবাইল কোর্টে হাজির করা হয়।
মোবাইল কোর্টের রায়ে আটজনকে প্রত্যেককে দুই দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত কোনো শাস্তি আরোপ করা হয়নি। আদালত উল্লেখ করেছে যে, গ্রেপ্তার ও আটক করা কার্যক্রম নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে।
দেবিদ্বার থানা অফিসার‑ইন‑চার্জ মো. মনিরুজ্জামান ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেন, তবে আটকদের নাম প্রকাশে অস্বীকার করেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃত জাতীয় নাগরিক দলের নেতা দেবিদ্বার পৌরসভার ওলুপুর গ্রাম, ওয়ার্ড ৫ থেকে আসেন।
অফিসার‑ইন‑চার্জ আরও জানান, আটকদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক দল, জামাত এবং বিএনপি সমর্থকরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই ব্যক্তিরা সংঘাত বাড়ানোর উদ্দেশ্যে কাজ করছিলেন, ফলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে মামলাটি মোবাইল কোর্টে শোনা হয়।
নির্বাচনী সময়ে এমন ঘটনা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে, বিশেষত দু’দলই সমর্থক সংখ্যা বেশি থাকা এলাকায়। কর্তৃপক্ষের মতে, ভবিষ্যতে নির্বাচনী কোডের লঙ্ঘন রোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হবে এবং সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে আইন মেনে চলতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই রায়ের পর স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে সাময়িক শীতলতা দেখা গেছে, তবে নির্বাচন পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে সতর্কতা অব্যাহত থাকবে।



