নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে জামায়াত-এ-ইসলামির প্রার্থী মো. ইলিয়াস মোল্লার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মাহাবুবুর রহমান (৩৫) বুধবার দুপুরে অচেনা পরিস্থিতিতে নিখোঁজ হন। তার পরিবার জানান, তিনি রাজধানীর কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ফোনে জানিয়ে ছিলেন কেউ তাকে তুলে নিয়েছে, এরপর তার সঙ্গে সংযোগ কেটে যায়।
মাহাবুবুর রহমান আড়াইহাজার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াত-এ-ইসলামির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে কাজ করতেন। নিখোঁজের পরপরই তার আত্মীয়স্বজন আড়াইহাজার থানা-তে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দাখিল করেন এবং মামলাটি তদন্তের অধীনে রাখার অনুরোধ করেন।
আড়াইহাজার থানা ওয়াইস কমিশনার মো. আলাউদ্দিন জানান, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে মাহাবুবুরের মোবাইল নম্বর ট্রেস করা হয়। ট্রেসের ফলাফল দেখায়, অভিযোগে উল্লেখিত সময়ে তিনি ঢাকা শহরে ছিলেন, আড়াইহাজারে নয়।
মাহাবুবুরের পরিবার জানান, তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে ইউনিয়নের জামায়াত-এ-ইসলামি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে কিছু বার্তা পাঠানো হয়। ঐ বার্তাগুলোতে তার উদ্বেগের প্রকাশ পাওয়া যায়, যা পরিবারকে আরও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে থানা ওয়াইস কমিশনার পরিবারকে ঢাকা শহরের সংশ্লিষ্ট থানা-তে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিখোঁজের ঘটনার তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
মাহাবুবুরের নিখোঁজের সময়কাল ও অবস্থান স্পষ্ট না হওয়ায় পরিবার ও স্থানীয় নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তারা দাবি করেন, প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যক্রমে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তাই দ্রুত অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়া দরকার।
থানা-র তদন্ত দল মোবাইল সিগন্যাল, কল রেকর্ড এবং হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য সূত্র খুঁজছে। বর্তমানে কোনো অপরাধমূলক কার্যকলাপের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে তদন্ত চলমান থাকায় অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
আড়াইহাজার থানা ওয়াইস কমিশনারের মতে, যদি অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া যায় বা সন্দেহজনক কোনো সূত্র উন্মোচিত হয়, তবে তা সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভাগে হস্তান্তর করা হবে। তিনি পরিবারকে ধৈর্য ধরতে এবং কোনো নতুন তথ্য দ্রুত জানাতে আহ্বান জানান।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় নিরাপত্তা সংস্থা এবং রাজনৈতিক সংগঠনগুলোও সতর্কতা প্রকাশ করেছে। তারা সকলকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিখোঁজের তদন্তে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে।
নিখোঁজের ঘটনা নির্বাচনী সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়, তবে এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত হলে তা জনসাধারণের কাছে জানানো হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলাটি গম্ভীরভাবে নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সকল প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুত সমাধানের দিকে অগ্রসর হবে। পরিবার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষকে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সময়ে সময়ে আপডেট দেওয়া হবে।



