‘দ্য উগলি স্টেপসিস্টার’ নামের পিরিয়ড বডি-হরর কমেডি চলচ্চিত্রটি সেরা মেকআপ ও হেয়ারস্টাইলিং বিভাগে অস্কার মনোনয়ন পেয়েছে। ছবিটি ক্লাসিক সিন্দেরেলা গল্পকে আধুনিক রক‑সাংস্কৃতিক রঙে রাঙিয়ে উপস্থাপন করেছে, যার সৃষ্টিকর্তা হলেন এমিলি ব্লিচফেল্ড।
চলচ্চিত্রের কাহিনী ১৮৮০‑এর শেষের সময়ের পটভূমিতে গড়ে উঠেছে, যেখানে প্রিন্স জুলিয়ান (আইসাক কালমরথ) একটি ভোজে সম্ভাব্য বধূ নির্বাচন করার জন্য অতিথিদের আমন্ত্রণ জানায়। এই দৃশ্যে গ্ল্যামার এবং ভয়াবহতার মিশ্রণ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, যা পুরো ছবির স্যাটায়ারিক স্বরকে সমর্থন করে।
মেকআপ ও হেয়ার ডিজাইন দায়িত্বে ছিলেন অ্যান ক্যাথরিন সাউরবার্গ, যিনি টমাস ফোল্ডবার্গের সঙ্গে মিলিয়ে প্রোস্থেটিক মেকআপের কাজ করেছেন। উভয়ই সেরা মেকআপ ও হেয়ারস্টাইলিং ক্যাটেগরিতে মনোনীত, যেখানে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’, ‘দ্য স্ম্যাশিং মেশিন’, ‘সিনার্স’ এবং ‘কোকুহো’।
সাউরবার্গের মতে, ছবির চোখের মেকআপে ঐতিহ্যবাহী আধুনিক ল্যাশের বদলে ‘স্পাইডারি’ ধাঁচের চোখ ব্যবহার করা হয়েছে, যা ১৯৭০‑এর চেরের স্টাইলের অনুকরণ। এই পদ্ধতি আধুনিক তরুণীদের ল্যাশের রূপকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন না করে, বরং ঐ সময়ের গ্ল্যামারকে পুনরায় সৃষ্টি করে।
রঙের ব্যবহারেও ঐতিহ্যবাহী পিরিয়ড ফিল্মের তুলনায় বেশি সাহসী রঙের প্যালেট দেখা যায়। সাউরবার্গ উল্লেখ করেন যে তিনি টি. রেক্সের গায়ক মার্ক বোলান এবং অন্যান্য গ্ল্যাম রক আইকনদের স্টাইল থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছেন, যা ছবির ভিজ্যুয়ালকে সমৃদ্ধ ও অতিরঞ্জিত করেছে।
ডেভিড বোয়ি, ভেলভেট অন্ডারগ্রাউন্ডের সুরের মতো রক‑ইতিহাসের সঙ্গীতশিল্পীও সাউরবার্গের সৃজনশীল প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলেছে। তিনি বলেন, ছোটবেলায় যে শিল্পীকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা হয়, তা পরবর্তী কাজের রঙ ও নকশায় দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলে।
চিত্রের প্রধান চরিত্র এলিভেরা (লিয়া মায়ারেন) সিন্দেরেলার মতোই রাজপুত্রকে পপ স্টার হিসেবে পূজায়। তার চরিত্রের গঠন ও মেকআপে এই আদর্শিক নায়কের ছাপ স্পষ্ট, যা দর্শকের কাছে তার আত্মবিশ্বাস ও আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে।
ব্লিচফেল্ডের বিশদ স্টোরিবোর্ডিং প্রক্রিয়া মেকআপ টিমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা সরবরাহ করেছে, বিশেষ করে ছবির প্রথম ‘গ্রস‑আউট’ দৃশ্যের পরিকল্পনায়। এই দৃশ্যে এলিভেরা, যাকে ‘উগলি স্টেপসিস্টার’ বলা হয়, তার শারীরিক রূপান্তরকে নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
অস্কার মনোনয়নটি ‘দ্য উগলি স্টেপসিস্টার’কে আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃতি এনে দিয়েছে এবং বাংলা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচন করেছে। গ্ল্যাম রক ও ক্লাসিক ন্যায়ের মিশ্রণ এই চলচ্চিত্রকে আধুনিক দর্শকের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে, যা ভবিষ্যতে আরও সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গির পথ প্রশস্ত করবে।



