বাংলাদেশের জামায়াত-এ-ইসলামি দলের আমির শফিকুর রহমান বুধবার রাত ১১টার পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট প্রকাশ করেন। পোস্টে তিনি দেশের নাগরিকদের লাইলাতুল গুজবের ব্যাপারে সতর্ক করেন এবং গুজবকে ছড়িয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি শেষ বাক্যে উল্লেখ করেন, সত্যের বিজয় অবশ্যম্ভাবী হবে।
এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে, নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে থাকুরগাঁও জেলার জামায়াত-এ-ইসলামি আমির বেলাল উদ্দিনকে বড় পরিমাণ নগদসহ গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকালে বেলাল উদ্দিনের কাছ থেকে সাত কোটি চৌদ্দ লাখ টাকা (৭৪ লাখ টাকা) বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
জামায়াত-এ-ইসলামি এই গ্রেফতারকে রাজনৈতিক নাটক সাজানোর অভিযোগে তোলেন। দলের মুখপাত্র দাবি করেন, বেলাল উদ্দিনের ওপর আরোপিত অভিযোগগুলোকে দলের নেতাদের প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। দলটি বলেন, এই ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে জামায়াত-এ-ইসলামি নেতাদের দুর্নীতির চিত্র তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, শারিয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভার দক্ষিণ বৈশাখীপাড়া এলাকায় জামায়াত-এ-ইসলামি নির্বাচনী কার্যালয় থেকে সাত লাখ বিশ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়। এই কাজটি যৌথ বাহিনীর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়।
বাজেয়াপ্ত নগদের পাশাপাশি, ঐ এলাকার ভোট গ্রহণের দায়িত্বে থাকা এক পোলিং কর্মকর্তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আদালত তার দোষী সাব্যস্ত করে, তিনি ভোট সংগ্রহে অনিয়ম চালিয়েছেন বলে রায় দেয়।
পোলিং কর্মকর্তার দোষারোপের সঙ্গে সঙ্গে, পূর্বে জামায়াত-এ-ইসলামি নেতৃবৃন্দের মধ্যে ব্যালট খোলার অভিযোগ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। এই বিষয়টি ঘটনার পর এক ঘণ্টা আগে স্থানীয় মিডিয়ায় প্রকাশ পায়।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গ্রেফতার এবং নগদ বাজেয়াপ্তি সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, কোনো রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়াই প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। তারা উল্লেখ করে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আইন লঙ্ঘন করে অপরাধমূলক অর্থ গ্রহণের অভিযোগে দায়ী।
জামায়াত-এ-ইসলামি দল এই ঘটনাগুলোকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কৌশল বলে দাবি করে এবং গ্রেফতার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দলটি দাবি করে, এই ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর, শফিকুর রহমানের গুজব বিরোধী আহ্বান দেশের বিভিন্ন অংশে সামাজিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়। তিনি নাগরিকদেরকে গুজবের শিকার না হতে এবং তথ্য যাচাই করে শেয়ার করতে নির্দেশ দেন।
বেলাল উদ্দিনের গ্রেফতার এবং নগদ বাজেয়াপ্তি দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ আইন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অপরিহার্য।
এই ঘটনাগুলো দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, জামায়াত-এ-ইসলামি দলের নেতাদের ওপর আরোপিত এই অভিযোগগুলো দলীয় গঠন ও জনমত গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ হল, এই সব ঘটনা ঘটার সময় দেশের বিভিন্ন অংশে নির্বাচনী প্রস্তুতি চলছে। তাই, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং রাজনৈতিক দল উভয়েরই স্বচ্ছতা বজায় রেখে প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
শফিকুর রহমানের গুজব বিরোধী বার্তা এবং বেলাল উদ্দিনের নগদধারী গ্রেফতার একসাথে দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা পরবর্তী সময়ে কীভাবে বিকশিত হবে তা সময়ই বলবে।



