মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে বুধবার রাতের টি২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩০ রানে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে সি গ্রুপের শীর্ষে উঠে আসে। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে রাশি করা দলটি দ্রুত স্কোর তৈরি করে, ফলে ইংল্যান্ডের জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ কঠিন হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ৩০ রানের পার্থক্য নিয়ে হেরে যাওয়া ইংল্যান্ডের পয়েন্টে প্রভাব পড়ে, আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় তাদের গ্রুপে অগ্রগতি নিশ্চিত করে।
টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে রশি করা শেরফান রাদারফোর্ড দ্রুত রানের ঝড় তুললেন। পাঁচ নম্বরে নেমে তিনি ৭টি ছক্কা এবং ২টি চতুর্থাংশের মাধ্যমে ৭৬ balls-এ ৪২ রান সংগ্রহ করেন, যার স্ট্রাইক রেট ৫৫.৩%। বাঁহাতি ব্যাটার রাদারফোর্ডের আক্রমণাত্মক শৈলী ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দুইশো রানের কাছাকাছি নিয়ে যায় এবং শুরুর পর্যায়ে শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করে। তার আউট হওয়ার পরেও দলটি রোলার কোস্টার চালিয়ে যায়।
রাদারফোর্ডের পর রস্টন চেজ ৩৪ balls-এ ২৯ রান যোগ করেন, যার মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চতুর্থাংশ রয়েছে যা স্কোরকে স্থিতিশীল করে। জেসন হোল্ডার ৩৩ balls-এ ১৭ রান এবং শিমরন হেটমায়ার ২৩ balls-এ ১২ রান যোগিয়ে দলকে সমর্থন করেন। এই অবদানগুলো মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মোট স্কোর ১৫০ রানের কাছাকাছি পৌঁছায়, যা ইংল্যান্ডের জন্য চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তৈরি করে।
ইংল্যান্ডের বলার জোড়া আদিল রশিদ ও জেমি ওভারটন প্রত্যেকে দুইটি করে উইকেট নেন, যা রাদারফোর্ডের প্রারম্ভিক অংশকে বাধাগ্রস্ত করে। রশিদের বামহাতি স্পিন এবং ওভারটনের দ্রুত গতি উভয়ই রাদারফোর্ডের আউট হওয়ার মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে রাদারফোর্ডের দ্রুত স্কোরের পরেও ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা বড় ইনিংস গড়ে তুলতে পারেনি, ফলে মোট স্কোরে ঘাটতি বাড়ে।
ইংল্যান্ডের শুরুর আক্রমণ পাওয়ারপ্লে-এ ৬৭ রান তৈরি করে, যা ম্যাচের গতি বাড়িয়ে দেয় এবং প্রথম ৬ ওভারে রিদম স্থাপন করে। তবু কোনো ব্যাটসম্যান ধারাবাহিকভাবে ৩০ রানের বেশি স্কোর করতে পারেনি, ফলে রানের প্রবাহ দ্রুত থেমে যায়। সাম কারান ৪৩ balls-এ ৩০ রান করে অপরাজিত থেকে শেষ করেন, তবে তার সঙ্গী জ্যাকব বেথেল, ফিল সল্ট এবং জস বাটলার প্রত্যেকে মাঝারি স্কোরে শেষ হন, যা মোট স্কোরকে সীমিত রাখে।
জ্যাকব বেথেল ৩৩ balls-এ ২৩ রান, ফিল সল্ট ৩০ balls-এ ১৪ রান এবং জস বাটলার ২১ balls-এ ১৪ রান যোগিয়ে ইংল্যান্ডের মোট স্কোরে অবদান রাখেন, তবে উইকেটের ঘাটতি তাদের রিকভারি কঠিন করে তোলে। গুদাকেশ মোতি সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন, যা ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপকে ভেঙে দেয়। রস্টন চেজের ঝুলিতে দুইটি করে উইকেট নেয়া যায়, যা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বলিং আক্রমণকে আরও শক্তিশালী করে।
এই জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সি গ্রুপে দুই ম্যাচে দুই জয় নিশ্চিত করে, ফলে তারা শীর্ষে অবস্থান করে এবং পরবর্তী রাউন্ডে সুবিধাজনক অবস্থান পায়। ইংল্যান্ডের এক জয় ও এক পরাজয় তাকে তৃতীয় স্থানে রাখে, যা পরবর্তী ম্যাচের গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয় এবং পয়েন্টের জন্য লড়াইকে তীব্র করে। উভয় দলই এখন গ্রুপের শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য পরবর্তী ম্যাচে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করতে প্রস্তুত।
দলগুলো এখন পরবর্তী রাউন্ডের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে; ওয়েস্ট ইন্ডিজের শীর্ষস্থান বজায় রাখতে হবে এবং ইংল্যান্ডকে গ্রুপের শীর্ষে উঠতে হবে। উভয় দলের কোচ ও খেলোয়াড়রা কৌশলগত পরিবর্তন এবং ফিল্ডিং শার্পনেসের মাধ্যমে পরবর্তী ম্যাচে সফলতা অর্জনের লক্ষ্য রাখছেন।



