বুধবার রাত প্রায় ৮ টার দিকে হাটিয়া থানা অধিদক্ষিণ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, নোয়াখালী-৬ (হাটিয়া) আসনের একটি বিএনপি কর্মীকে ছুরি দিয়ে আক্রমণ করা হয়। ঘটনাস্থল ছিল চানন্দি ইউনিয়নের শিউলি একরাম বাজারের পার্শ্ববর্তী এলাকা।
আহত ব্যক্তি হলেন ৪৭ বছর বয়সী জসিম উদ্দিন, যিনি চানন্দি ইউনিয়নের শরিয়তপুর গ্রাম থেকে, ইসমাইল হোসেনের পুত্র এবং ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক। তার বুকে ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লেগে গিয়ে অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়ে।
আহতকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে জরুরি শল্যচিকিৎসা করা হয়। চিকিৎসকের মতে, জসিমের আঘাতের পরিমাণ বেশ তীব্র এবং তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় বাসিন্দা জসিমের বিবরণে বলা হয়েছে, সন্ধ্যা সময় শিউলি একরাম বাজারে কয়েকজন একত্রে বসে কথা বলছিলেন। নৌবাহিনীর টহল দল উপস্থিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবাই বাজার ত্যাগ করে। তখন দিদার হোসেন নামে এক ব্যক্তি, যাকে জসিমের মতে এনসিপি প্রার্থী হান্নান মাসউদের সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, জসিমকে ধাক্কা দিয়ে ছুরি মারেন।
আক্রমণের পর নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে জসিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। আহতের অবস্থা সম্পর্কে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার জানিয়েছেন, শল্যচিকিৎসার পরেও রোগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল নয় এবং তিনি তীব্র পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
এই ঘটনার পর হাটিয়ার সোনাদিয়া ইউনিয়নে হান্নান মাসউদের নির্বাচনি কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হান্নান মাসউদের ক্যাম্পাসে উপস্থিত দলীয় কর্মীরা অফিসের জানালা ও দরজা ভেঙে ফেলেছে এবং সামগ্রী নষ্ট করেছে।
হান্নান মাসউদের ক্যাম্পেইন অফিসে গৃহীত ক্ষতি সম্পর্কে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছেন, ভাঙচুরের সময় কিছু দলীয় কর্মী উপস্থিত ছিলেন এবং তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। অফিসের কাঠামোগত ক্ষতি এবং কিছু সামগ্রী চুরি হওয়ার কথা পাওয়া গেছে।
হাতিয়া থানা দফতর ঘটনাগুলো নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। সাইফুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন, উভয় ঘটনার জন্য অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রতিবাদী দলীয় কর্মীদের মধ্যে কিছুকে গৃহে আটক করা হয়েছে, তবে এখনও পর্যন্ত সব সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা যায়নি। তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন, গৃহীত শারীরিক প্রমাণ এবং সাক্ষ্য সংগ্রহের মাধ্যমে অপরাধীদের সনাক্ত করা হবে।
এদিকে, এনসিপি নেতাদের কাছ থেকে ঘটনাবলী সম্পর্কে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট পার্টি ও তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে, তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি।
স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত টহল দলে নির্দেশ দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ধরনের সহিংসতা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
বিএনপি কর্মীর আক্রমণ এবং হান্নান মাসউদের ক্যাম্পেইন অফিসে ভাঙচুর উভয়ই রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ঘটেছে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থির করে তুলতে পারে। আইনগত দিক থেকে অপরাধমূলক দায়িত্ব প্রয়োগের পাশাপাশি, রাজনৈতিক দলগুলোকে শান্তিপূর্ণ প্রচারণা বজায় রাখতে আহ্বান জানানো হয়েছে।



