18 C
Dhaka
Thursday, February 12, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিচট্টগ্রাম‑৮ ভোটকেন্দ্রে জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থী ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে তর্কে সংঘর্ষ

চট্টগ্রাম‑৮ ভোটকেন্দ্রে জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থী ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে তর্কে সংঘর্ষ

চট্টগ্রাম‑৮ নির্বাচনী এলাকা, খালাশি পুকুরপার সরকারি প্রাইমারি স্কুল ভোটকেন্দ্রে বুধবার রাত ৮:৩০ টার দিকে জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থী ড. আবু নাসের ও তার সমর্থকরা উপস্থিত হলে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও কর্মীরা তাদের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানায়। আপত্তি দ্রুত তীব্র তর্কে রূপান্তরিত হয় এবং দু’পক্ষের মধ্যে শারীরিক সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

ড. নাসের ও তার সমর্থকরা ভোটকেন্দ্রের প্রবেশদ্বার থেকে প্রার্থীর প্রচারমূলক কার্যক্রম চালানোর উদ্দেশ্যে উপস্থিত ছিলেন, তবে স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা তাদের উপস্থিতি অবৈধ বলে বিবেচনা করে বাধা দিতে শুরু করে। উভয় পক্ষের মধ্যে শব্দবিনিময় দ্রুত উত্তেজনা বাড়ায় এবং শারীরিক ধাক্কা-ধাক্কির দিকে অগ্রসর হয়।

পাচলাইশ জোনের সিএমপি-র সহকারী কমিশনার বিদান আবিদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানিয়ে বলেন, ড. নাসের ভোটকেন্দ্রের সামনে উপস্থিত হওয়ার সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা ও কর্মীরা তাকে বাধা দেয় এবং আপত্তি জানায়। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

পুলিশ ও সেনাবাহিনীর দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে আলাদা করে এবং ড. নাসেরকে নিরাপদে বের করে আনে। নিরাপত্তা কর্মীরা প্রার্থী ও তার সমর্থকদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে সাময়িক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখে।

বিএনপি ভোটকেন্দ্রের সমন্বয়কারী মাহবুবুল আলাম জানান, ড. নাসের তার সমর্থকদের সঙ্গে ভোটকেন্দ্রের ভিতরে প্রবেশ করে টাকা বিতরণ করার চেষ্টা করছিল। তিনি এই দাবি করেন যে প্রার্থীর উপস্থিতি ভোটের স্বচ্ছতা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ছিল।

অন্যদিকে ড. নাসের দাবি করেন, তিনি ভোটকেন্দ্রের সামনে হেঁটে যাওয়ার সময় বিএনপি কর্মীদের দ্বারা শারীরিকভাবে আক্রমণের শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, তার ওপর হিংসাত্মক আচরণ করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপে তিনি নিরাপদে বেরিয়ে গেছেন।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম‑৮ নির্বাচনী এলাকা ইতিমধ্যে পূর্বে ব্যানার বিরোধ এবং ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্কের মুখে ছিল। পূর্বে এই সপ্তাহে নির্বাচনী ব্যানার সংক্রান্ত বিরোধে স্থানীয় দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা দেখা গিয়েছিল, যা নিরাপত্তা সংস্থার তত্ত্বাবধানে সমাধান করা হয়েছিল।

নির্বাচনের পূর্বে এই ধরনের সংঘর্ষের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল, এবং নিরাপত্তা দপ্তর ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে অতিরিক্ত সেনা ও পুলিশ মোতায়েনের প্রস্তুতি জানিয়েছিল। আজকের ঘটনা সেই প্রস্তুতিরই ফলাফল, যেখানে দ্রুত নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপে বৃহত্তর হিংসা রোধ করা সম্ভব হয়েছে।

প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো এই ঘটনাকে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। বিএনপি কর্মীরা ড. নাসেরকে ভোটকেন্দ্রের বাইরে বাধা দেওয়ার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষা করার দাবি করতে পারে, আর জামায়াত-এ-ইসলামি দল ড. নাসেরের ওপর আক্রমণকে রাজনৈতিক হিংসা হিসেবে তুলে ধরতে পারে।

নির্বাচন কমিশন এখনও ঘটনাটির কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ প্রকাশ করেনি, তবে নিরাপত্তা সংস্থার মতে ভোটের দিন পর্যন্ত সকল ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। উভয় দলই ভোটের দিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে, যদিও এই ঘটনার ফলে নির্বাচনী উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভোটের দিন নাগাদ উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো অতিরিক্ত সংঘর্ষ না ঘটার জন্য নিরাপত্তা দপ্তর অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণ ও তদারকি চালিয়ে যাবে। নির্বাচনের ফলাফল কীভাবে প্রভাবিত হবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে এই ধরনের ঘটনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতার ওপর প্রশ্ন তুলতে পারে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments