কেনেডি রক ব্যান্ডের বেসিস্ট জিন সিমন্স সম্প্রতি ‘লেজেন্ডস অ্যান্ড লিডারস’ পডকাস্টে টেইলর সুইফটের ভক্তদের বিশাল উত্সাহকে বিটলম্যানিয়ার সঙ্গে তুলনা করে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আজকের সুইফটের ভক্তগোষ্ঠী, যাকে ‘সুইফি’ বলা হয়, তা শুধুমাত্র গানের প্রতি প্রশংসা নয়, বরং একটি সমষ্টিগত অনুভূতি ও পরিচয়ের প্রকাশ। এই ধরনের সংযোগ শিল্পীর সাফল্যের প্রকৃত মাপকাঠি, তিনি যুক্তি দেন।
সিমন্সের মতে, টেইলর সুইফটের সঙ্গীতের জনপ্রিয়তা তার গানের গুণমানের পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে গড়ে ওঠা ‘গোষ্ঠী’ স্বভাবের ফল। তিনি উল্লেখ করেন, এই গোষ্ঠীটি একধরনের উপজাতীয় সংহতি গড়ে তুলেছে, যা বিটলসের সময়ের ‘বিটলম্যানিয়া’র স্মৃতি জাগিয়ে দেয়। উভয় ক্ষেত্রেই ভক্তরা শিল্পীর প্রতি একধরনের মিশ্র ভক্তি ও আনুগত্য প্রকাশ করে, যা কখনও কখনও ‘কাল্ট’ সমতুল্য অনুভূতি তৈরি করে।
২০০৯ সালে টেইলর সুইফট যখন কিক ইউরোপের কনসার্টে ওপেনার হিসেবে পারফর্ম করছিলেন, তখন তার ব্যান্ডের সদস্যরা কিককে ‘কিস’ ব্যান্ডের রূপে সাজিয়ে স্টেজে প্রবেশের একটি মজার পরিকল্পনা করেছিল। সেই সময় সুইফট ও তার ব্যান্ডের সদস্যরা কিসের আইকনিক মেকআপ ও পোশাক পরিধান করে কিক ইউরোপের পারফরম্যান্সে হঠাৎ উপস্থিত হয়। এই ঘটনার ফলে কিকের মুখে বিস্ময় ও হাস্যকর প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, যা সুইফটের ভক্তদের মধ্যে আজও স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে রয়ে গেছে।
সেই ঘটনার ভিডিও রেকর্ডিং ইন্টারনেটে সহজে পাওয়া যায়। অনুসন্ধান ইঞ্জিনে ‘Taylor Swift KISS band makeup’ লিখলে সংশ্লিষ্ট ক্লিপ ও ভ্লগ দেখা যায়, যেখানে সুইফট ও তার ব্যান্ডের সদস্যরা মেকআপ প্রক্রিয়া এবং কিক ইউরোপের প্রতিক্রিয়া রেকর্ড করে শেয়ার করেছেন। এই ভিডিওগুলো ভক্তদের মধ্যে পুনরায় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং সুইফটের সৃজনশীলতা ও হাস্যরসের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
টেইলর সুইফটের জনপ্রিয়তা নিয়ে রিংগো স্টারও একই রকম মন্তব্য করেন। তিনি জানান, বর্তমান সময়ে সুইফটের চারপাশের উন্মাদনা বিটলম্যানিয়ার সঙ্গে তুলনীয়, যা তিনি নিজে বিটলসের সময়ে অনুভব করেছিলেন। স্টার এই তুলনা দিয়ে সুইফটের প্রভাবের গভীরতা ও বিস্তৃতিকে স্বীকার করেন, যা নতুন প্রজন্মের সঙ্গীতপ্রেমীদের মধ্যে অনন্য সংযোগ গড়ে তুলেছে।
পডকাস্টে সিমন্সের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বক্তব্য ছিল রক অ্যান্ড রোল হল অফ ফেমের অন্তর্ভুক্তি নীতিমালা সম্পর্কে। তিনি উল্লেখ করেন, আইরন মেইডেনের মতো ব্যান্ডের বিশাল স্টেডিয়াম বিক্রয় সত্ত্বেও তারা হলের তালিকায় নেই, আর হিপ-হপের পায়োনিয়ার গ্র্যান্ডমাস্টার ফ্ল্যাশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সিমন্সের মতে, এই পার্থক্যটি সঙ্গীতের ধারার প্রতি ন্যায়সঙ্গত মূল্যায়নের অভাব নির্দেশ করে, যদিও তিনি নিজে হিপ-হপের ভক্ত নন।
সঙ্গীতের ভক্তসংস্কৃতি এবং শিল্পীর সাফল্যের মাপকাঠি নিয়ে এই আলোচনাগুলো পাঠকদের জন্য নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচন করে। টেইলর সুইফটের ভক্তগোষ্ঠীর উত্সাহ ও তার সৃষ্টিশীলতা কীভাবে আধুনিক সঙ্গীতের দৃশ্যপটকে প্রভাবিত করছে, তা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে সঙ্গীত শিল্পে ভক্তদের ভূমিকা ও শিল্পীর স্বীকৃতির মানদণ্ড নিয়ে আরও আলোচনা করা উচিত, যাতে সবার জন্য ন্যায়সঙ্গত ও সমন্বিত পরিবেশ গড়ে তোলা যায়।



