ইংল্যান্ড জুনের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুইটি প্রি-ওয়ার্ল্ড কাপ ফ্রেন্ডলি ম্যাচের জন্য প্রস্তুত। প্রথম ম্যাচটি ৬ জুন নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এবং চার দিন পর, ১০ জুন কোস্টা রিকার সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। এই দুইটি টেস্ট ম্যাচের পর দলটি ক্যানসাস সিটিতে ভিত্তি স্থাপন করবে, যেখানে টুর্নামেন্টের পুরো সময়কাল কাটবে।
ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠিত ফ্রেন্ডলিগুলো ইংল্যান্ডের নতুন কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ, যা কোচ থমাস টুচেলের নেতৃত্বে গৃহীত হয়েছে। টুচেল দলকে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে চান, যাতে মূল টুর্নামেন্টের আগে শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়। ফ্লোরিডা থেকে ক্যানসাস সিটিতে স্থানান্তরটি টুর্নামেন্টের মাঝামাঝি সময়ে হবে, যাতে দলটি কেন্দ্রীয় অবস্থান থেকে পরবর্তী গ্রুপ ম্যাচগুলোতে সহজে পৌঁছাতে পারে।
ইংল্যান্ডের ক্যানসাস সিটিতে ভিত্তি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে স্যোয়াপ সকার ভিলেজ, যা স্পোর্টিং ক্যানসাস সিটির প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং এমএলএস একাডেমি দলের ঘর। ২০০৭ সালে উদ্বোধন করা এই কমপ্লেক্সটি পূর্বে ন্যাশনাল ও ক্লাব স্তরের দলগুলোকে স্বাগত জানিয়েছে, যার মধ্যে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ম্যানচেস্টার সিটি অন্তর্ভুক্ত। ফেডারেশন এই স্থানের কেন্দ্রীয় অবস্থান এবং সংক্ষিপ্ত ভ্রমণ দূরত্বকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
টুচেলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের কিছু খেলোয়াড় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালেও অংশ নিতে পারে, যা ৩০ মে বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিত হবে। ফাইনাল শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দলটি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাবে, যাতে দ্রুত অভিযোজনের কাজ শুরু করা যায়। এই সময়সূচি টিমকে ফ্লোরিডায় ফ্রেন্ডলি ম্যাচের আগে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ সময় নিশ্চিত করবে।
ইংল্যান্ডের গ্রুপ পর্যায়ের প্রথম ম্যাচটি ১৭ জুন টেক্সাসের আর্লিংটনে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে হবে। এর পরের দুইটি ম্যাচ হবে ২৩ জুন ফক্সবোরোতে ঘানা এবং ২৭ জুন নিউ জার্সিতে পানামার সঙ্গে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য দলটি ক্যানসাস সিটির ভিত্তি থেকে ভ্রমণ করবে এবং ম্যাচ শেষে আবার ফিরে আসবে। এই পদ্ধতি ভ্রমণজনিত ক্লান্তি কমিয়ে পারফরম্যান্স বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
নিউজিল্যান্ড, বর্তমানে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ৮৫ নম্বরে, তৃতীয়বার ওয়ার্ল্ড কাপের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছে, ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো। দলের ক্যাপ্টেন হিসেবে নটিংহাম ফরেস্টের স্ট্রাইকার ক্রিস উড রয়েছে, যিনি ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। নিউজিল্যান্ডের এই উপস্থিতি টুর্নামেন্টে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করবে।
কোস্টা রিকা, র্যাঙ্কিংয়ে ৫১ নম্বরে, এখনও ফাইনাল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেনি, তবে ফ্রেন্ডলি ম্যাচে ইংল্যান্ডের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করবে। উভয় দলের সঙ্গে ম্যাচটি ইংল্যান্ডের কৌশলগত প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত।
ইংল্যান্ডের ফ্লোরিডা ফ্রেন্ডলির আগে, দলটি ২৭ ও ৩১ মার্চ ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে যথাক্রমে উরুগুয়ে এবং জাপানের সঙ্গে দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে। এই ম্যাচগুলো টিমকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শারীরিক প্রস্তুতি ও ট্যাকটিক্যাল সামঞ্জস্য বজায় রাখতে সহায়তা করেছে।
ফেডারেশন অফ ফুটবল (FA) ক্যানসাস সিটিকে কেন্দ্রস্থল হিসেবে বেছে নেওয়ার মূল কারণ হল যুক্তরাষ্ট্রের ভৌগোলিক কেন্দ্রীয়তা, যা টুর্নামেন্টের বিভিন্ন শহরে ভ্রমণকে সহজ করে। স্যোয়াপ সকার ভিলেজের আধুনিক সুবিধা এবং পূর্বে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ম্যানচেস্টার সিটি দলের ব্যবহার এটিকে আদর্শ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র করেছে।
সামগ্রিকভাবে, ইংল্যান্ডের এই প্রস্তুতি পরিকল্পনা টিমকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রাখে। ফ্লোরিডায় ফ্রেন্ডলি ম্যাচের মাধ্যমে দলটি প্রতিপক্ষের সঙ্গে সাময়িক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে, আর ক্যানসাস সিটিতে ভিত্তি স্থাপন করে টুর্নামেন্টের পুরো সময়কালে স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে। টুচেল এবং তার স্টাফের এই সমন্বিত কৌশলই ইংল্যান্ডের ২০২৬ বিশ্বকাপের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হতে পারে।



