অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক পিটার উইলিয়ামস, ৩৯ বছর বয়সী, যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপক, হ্যাকিং টুল চুরি করে রাশিয়ান ব্রোকারকে বিক্রি করার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। এই অপরাধের ফলে বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ কম্পিউটার ও ডিভাইসের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। ফেডারেল আদালতে তার দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য শাস্তি নির্ধারণের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ২৪ ফেব্রুয়ারি, ওয়াশিংটন ডি.সি. ফেডারেল কোর্টে।
উইলিয়ামসের পূর্বে কর্মরত প্রতিষ্ঠানটি Trenchant, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কন্ট্রাক্টর L3Harris-এর একটি শাখা। এই শাখা মার্কিন সরকার ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্রদের জন্য নজরদারি ও সাইবার অপারেশন সরঞ্জাম সরবরাহ করে। কোম্পানির সফটওয়্যার সাধারণত সফটওয়্যারের দুর্বলতা ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুর সিস্টেমে অননুমোদিত প্রবেশাধিকার অর্জনের জন্য ডিজাইন করা হয়।
অক্টোবর মাসে, উইলিয়ামস আদালতে স্বীকার করেন যে তিনি ২০২২ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত আটটি হ্যাকিং টুল চুরি করে রাশিয়ান সংস্থাকে বিক্রি করেছেন। এই বিক্রয় থেকে তিনি ক্রিপ্টোকারেন্সিতে প্রায় ১.৩ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিভাগ (Justice Department) নিশ্চিত করেছে। বিক্রয়কৃত টুলগুলো মূলত সফটওয়্যারের নিরাপত্তা ফাঁক ব্যবহার করে সিস্টেমে প্রবেশের সুযোগ দেয়।
ফেডারেল প্রসিকিউটররা উল্লেখ করেছেন যে উইলিয়ামসের কাজ সরাসরি মার্কিন গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি যে রাশিয়ান কোম্পানিকে টুল বিক্রি করেছেন, তার গ্রাহকদের মধ্যে রাশিয়ান সরকারও অন্তর্ভুক্ত। এই তথ্য প্রকাশের আগে, সংশ্লিষ্ট রাশিয়ান সংস্থার পরিচয় গোপন রাখা হয়েছিল, তবে এখন স্পষ্ট যে টুলগুলোকে বৃহৎ পরিসরে সরকারী নজরদারি, সাইবার অপরাধ এবং র্যানসমওয়্যার আক্রমণের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
প্রসিকিউটরদের মতে, এই আটটি এক্সপ্লয়েটের মাধ্যমে রাশিয়ান ব্রোকার এবং তার গ্রাহকরা বিশ্বব্যাপী, যুক্তরাষ্ট্রসহ, লক্ষ লক্ষ কম্পিউটার ও ডিভাইসে অননুমোদিত প্রবেশাধিকার পেতে পারত। এমন ক্ষমতা যদি দুষ্প্রয়োগে ব্যবহৃত হয়, তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও জাতীয় নিরাপত্তা উভয়ই বিপন্ন হতে পারে। এই টুলগুলোকে একাধিক ধরণের সাইবার আক্রমণে ব্যবহার করা সম্ভব, যার মধ্যে রয়েছে তথ্য চুরি, সিস্টেম ধ্বংস এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি।
শাস্তি নির্ধারণের নথিতে, ন্যায়বিচার বিভাগ উইলিয়ামসের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে। তারা আদালতকে নয় বছর কারাদণ্ড, ত্রিশ বছরের তত্ত্বাবধায়িত মুক্তি, ৩৫ মিলিয়ন ডলারের বাধ্যতামূলক ক্ষতিপূরণ এবং সর্বোচ্চ ২৫০,০০০ ডলারের জরিমানা আরোপের অনুরোধ করেছে। এই শর্তগুলোকে ভিত্তি করে, বিচারককে যথাযথ শাস্তি নির্ধারণের জন্য প্ররোচিত করা হয়েছে।
শাস্তি সম্পন্ন হওয়ার পর, উইলিয়ামসকে অস্ট্রেলিয়ায় প্রত্যর্পণ করা হবে বলে নথিতে উল্লেখ আছে। তার ডিকমিশন প্রক্রিয়া শেষ হলে, অস্ট্রেলিয়ান কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধের প্রতিরোধে একটি সতর্কতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই মামলাটি সাইবার নিরাপত্তা ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। হ্যাকিং টুলের অবৈধ বাণিজ্য শুধুমাত্র এক দেশকে নয়, পুরো বৈশ্বিক ইন্টারনেট অবকাঠামোকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। ন্যায়বিচার বিভাগের এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধের প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে।



