সিলেটের শাহীজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল ও কলেজে নির্বাচনী কেন্দ্রের দরজা খুলে যাওয়ার পর রাত প্রায় দশটায় তিনজন ব্যক্তি, যারা নিজেদেরকে নির্বাচন পর্যবেক্ষক বলে দাবি করছিলেন, পুলিশ গ্রেফতারে নিয়ে যায়। ঘটনাটি মিরাবাজার এলাকার শাহীজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল ও কলেজের ভোটদান কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে ঘটেছে, যা সিলেট‑১ সংসদীয় এলাকার আওতায় পড়ে।
সন্ধ্যা দশটায় এই তিনজন ব্যক্তি পর্যবেক্ষক কার্ড হাতে কেন্দ্রের প্রবেশদ্বারে উপস্থিত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের উপস্থিতি দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং দ্রুতই গোষ্ঠী গঠন করে দরজার সামনে থামিয়ে রাখে। উপস্থিতদের মতে, পর্যবেক্ষক কার্ডের উপস্থিতি এবং অচেনা পরিচয় নিয়ে লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে, ফলে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিনজনকে আটক করে।
পুলিশের হস্তক্ষেপের আগে, স্থানীয় জনগণই তিনজনকে কেন্দ্রের প্রবেশদ্বার থেকে বের করে নিয়ে যায় এবং তাদেরকে গৃহস্থালীর নিরাপত্তা রক্ষার জন্য সাময়িকভাবে আটক রাখে। পরে পুলিশ এসে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং গ্রেফতারকৃত তিনজনকে কোটওয়ালি থানা-এ নিয়ে যায়। গ্রেফতারের সময়কাল এবং প্রক্রিয়া সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
কোটওয়ালি থানা-র অফিসার‑ইন‑চার্জ খান মোঃ মাইনুল জাকির জানান, গ্রেফতারকৃত তিনজনকে ইতিমধ্যে থানায় নেওয়া হয়েছে এবং একটি মোবাইল আদালতে বিষয়টি পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মামলার দায়িত্বে থাকা ম্যাজিস্ট্রেট তাদের পরিচয় যাচাই করার পরই যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেবেন।
অফিসার‑ইন‑চার্জের মতে, মোবাইল আদালত এই ধরনের জরুরি বিষয় দ্রুত সমাধানের জন্য গৃহীত হয় এবং সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে গ্রেফতারকৃতদের পরিচয় ও প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থার তথ্য নিশ্চিত করা হবে। বর্তমানে তিনজনের নাম বা তারা যে সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করে তা প্রকাশ করা হয়নি, ফলে তদন্তের পরিধি এখনও অনির্ধারিত।
নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসেবে অনুমোদিত সংস্থা ও ব্যক্তিরা নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন পত্র ও পরিচয়পত্র বহন করতে বাধ্য। অনুমোদন ছাড়া পর্যবেক্ষক কার্ড প্রদর্শন করা আইনগতভাবে অবৈধ এবং তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা হুমকির কারণ হতে পারে। এ কারণে স্থানীয় জনগণ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সতর্কতা ও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
মোবাইল আদালতে বিষয়টি উপস্থাপনের পর, সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ দায়ের করা হতে পারে। সম্ভাব্য অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অনুমোদনহীন পর্যবেক্ষক হিসেবে ভোটদান কেন্দ্রে প্রবেশ, জনসাধারণের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টিকর কাজ এবং আইনবিরুদ্ধ পরিচয়পত্র প্রদর্শন। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই তাদের মুক্তি বা জেল শাস্তি নির্ধারিত হবে।
এই ঘটনা নির্বাচনী সময়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে আবারও তীব্র করে তুলেছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে স্বীকৃত সংস্থা ও ব্যক্তিদের সঠিক অনুমোদন প্রাপ্তি এবং তাদের পরিচয়পত্রের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে ভোটদান কেন্দ্রের শৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
অধিক তদন্তের পরে, পুলিশ ও নির্বাচনী কমিশন সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়িত্বশীলদের সনাক্ত করার পরিকল্পনা করেছে। বর্তমান পর্যায়ে, গ্রেফতারকৃতদের আইনি অবস্থান ও সম্ভাব্য শাস্তি সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশিত হলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।



