মাইক্রোসফটের CoreAI বিভাগে কর্পোরেট ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করা আমান্ডা সিলভার, এআই প্রযুক্তির স্টার্টআপে প্রভাব নিয়ে সম্প্রতি বিশদ আলোচনা করেছেন। তিনি ২৪ বছরের বেশি সময় ধরে ডেভেলপারদের জন্য টুল তৈরি করছেন এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এআই-ভিত্তিক সমাধানে মনোনিবেশ করেছেন।
সিলভার গিটহাব কোপাইলট প্রকল্পে দীর্ঘ সময় কাজ করার পরে, এখন তিনি মাইক্রোসফটের Azure প্ল্যাটফর্মের Foundry সিস্টেমের উন্নয়নে যুক্ত। Foundry একটি একীভূত এআই পোর্টাল, যা এন্টারপ্রাইজ গ্রাহকদের জন্য বিভিন্ন এজেন্টিক সিস্টেম এবং অ্যাপ্লিকেশন ডিপ্লয় করার সুবিধা দেয়। এই পোর্টালের মাধ্যমে তিনি সরাসরি কোম্পানিগুলো কীভাবে এআই ব্যবহার করছে এবং কোথায় সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে তা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।
সিলভার উল্লেখ করেন, এআই স্টার্টআপের জন্য যে পরিবর্তন এনেছে তা পাবলিক ক্লাউডের আগমনের মতোই রূপান্তরমূলক। ক্লাউডের আগে স্টার্টআপগুলোকে নিজস্ব সার্ভার র্যাক ও হার্ডওয়্যার ক্রয় করতে হতো, যা বড় আর্থিক বোঝা তৈরি করত। ক্লাউডের মাধ্যমে এই খরচ কমে গিয়ে নতুন উদ্যোগের সূচনা সহজ হয়ে যায়।
এখন এজেন্টিক এআই সেই প্রবণতাকে আরও ত্বরান্বিত করছে। এআই এজেন্টগুলো সাপোর্ট, আইনি বিশ্লেষণ এবং অন্যান্য রুটিন কাজ দ্রুত ও কম খরচে সম্পন্ন করতে সক্ষম। ফলে নতুন ব্যবসা শুরু করার সময় প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ ও ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। সিলভার বিশ্বাস করেন, এই প্রবণতা স্টার্টআপের সংখ্যা বাড়াবে এবং উচ্চমূল্যায়নযুক্ত কোম্পানি কম কর্মী দিয়ে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
প্রায়োগিক দৃষ্টিকোণ থেকে, মাইক্রোসফটের Foundry-এ বহু-ধাপের এআই এজেন্টের ব্যবহার বাড়ছে। ডেভেলপাররা কোডিং, টেস্টিং এবং ডিবাগিংয়ের মতো কাজগুলোতে এজেন্টের সাহায্য নিচ্ছেন, যা কাজের গতি বাড়িয়ে দেয়। এই এজেন্টগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোডের সুপারিশ, ত্রুটি সনাক্তকরণ এবং সমাধান প্রস্তাব করতে পারে।
স্টার্টআপগুলো এখন এআই টুলকে মূল অবকাঠামো হিসেবে ব্যবহার করে পণ্য উন্নয়নের সময়সূচি কমিয়ে বাজারে দ্রুত প্রবেশ করতে পারছে। মাইক্রোসফটের Azure ভিত্তিক সমাধানগুলো স্কেলযোগ্য হওয়ায় ছোট দলও বড় পরিসরে সেবা প্রদান করতে সক্ষম। ফলে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে এআই গ্রহণের গতি ত্বরান্বিত হচ্ছে।
সিলভার আরও উল্লেখ করেন, এআই এজেন্টের মাধ্যমে সফটওয়্যার অপারেশন খরচের পুনর্গঠন সম্ভব। প্রচলিতভাবে সাপোর্ট টিম, আইটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং ডেটা ম্যানেজমেন্টে বড় বাজেট বরাদ্দ করতে হতো। এআই এই কাজগুলো স্বয়ংক্রিয় করে ব্যয় কমিয়ে দেয় এবং মানবসম্পদকে কৌশলগত কাজে কেন্দ্রীভূত করতে সাহায্য করে।
মাইক্রোসফটের CoreAI দল এই ধরনের এআই সমাধানকে স্টার্টআপের জন্য সহজলভ্য করতে বিভিন্ন প্রোগ্রাম চালু করেছে। ডেভেলপারদের জন্য টুলকিট, ডকুমেন্টেশন এবং প্রশিক্ষণ সামগ্রী সরবরাহ করা হয়, যাতে তারা দ্রুত এআই এজেন্টকে তাদের পণ্যে সংযুক্ত করতে পারে।
এই উদ্যোগের ফলে স্টার্টআপের পণ্য উন্নয়ন চক্রের সময় কমে এবং বাজারে প্রবেশের গতি বাড়ে। এআই-চালিত অটোমেশন ব্যবসার স্কেলিংকে সহজ করে, ফলে বিনিয়োগকারীর দৃষ্টিতে কোম্পানির মূল্যায়ন বাড়ে। সিলভার উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে এআই-ভিত্তিক স্টার্টআপের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং তাদের ব্যবসায়িক মডেল আরও লীন হবে।
মাইক্রোসফটের Azure Foundry সিস্টেমের লক্ষ্য হল এন্টারপ্রাইজ গ্রাহকদের জন্য এআই সমাধানকে একক পোর্টালে একত্রিত করা, যাতে তারা সহজে ডিপ্লয় এবং ম্যানেজ করতে পারে। এই পোর্টালটি ডেটা সিকিউরিটি, কমপ্লায়েন্স এবং স্কেলেবিলিটি নিশ্চিত করে, যা বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সিলভার জানান, এআই এজেন্টের ব্যবহার এখন কোডিংয়ের বাইরে অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রক্রিয়াতেও বিস্তৃত হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, গ্রাহক সাপোর্ট চ্যাটবট, ডকুমেন্ট অ্যানালাইসিস এবং রিস্ক ম্যানেজমেন্টে এআই এজেন্টের ভূমিকা বাড়ছে। এই বহুমুখী ব্যবহার স্টার্টআপকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে।
মাইক্রোসফটের এআই কৌশল স্টার্টআপের জন্য একটি নতুন অর্থনৈতিক মডেল তৈরি করছে, যেখানে কম খরচে উচ্চ মানের সেবা প্রদান সম্ভব। সিলভার বিশ্বাস করেন, এআই-চালিত এন্টারপ্রাইজ টুলের বিস্তৃতি স্টার্টআপের উদ্ভাবনী শক্তিকে ত্বরান্বিত করবে এবং প্রযুক্তি শিল্পের সামগ্রিক গতিপথকে পুনর্গঠন করবে।
সারসংক্ষেপে, মাইক্রোসফটের এআই উদ্যোগ স্টার্টআপের জন্য ব্যয় হ্রাস, দ্রুত পণ্য উন্নয়ন এবং উচ্চ মূল্যের সম্ভাবনা তৈরি করছে। এআই এজেন্টের বহুমুখী ব্যবহার এবং Azure Foundry-র একীভূত প্ল্যাটফর্ম এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।



