প্রাক্তন ইংল্যান্ড আন্তর্জাতিক ফুটবলার এনি আলুকো সম্প্রতি 90s Baby Show পডকাস্টে দুইটি সাক্ষাৎকারে আইয়ান রাইট এবং নেডুম ওনুহোকে 2025 নারী ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল কভারেজে বিবিসি ও ITV-এর ছয়জন বিশ্লেষক দলের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তার এই মন্তব্যের ফলে মিডিয়া বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং আলুকোর নিজস্ব উত্তরাধিকারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
আলুকো ইংল্যান্ডের হয়ে 105 ম্যাচে 33 গোল করে আন্তর্জাতিক ফুটবলে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অর্জন করেছেন। তিনি পাঁচটি প্রধান আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নেন, চারটি FA কাপ, তিনটি WSL শিরোপা এবং ইতালির Serie A ও Coppa Italia-তে মেডেল জিতেছেন। এই সাফল্যগুলো তাকে ইংল্যান্ডের নারী ফুটবলের অন্যতম আইকন করে তুলেছে।
খেলোয়াড় হিসেবে তার সাফল্যের পাশাপাশি তিনি বর্ণবাদ ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে লড়াই করেছেন। আলুকো মার্ক সাম্পসনের নেতৃত্বে ইংল্যান্ডের ফেডারেশনের বর্ণবাদ অভিযোগের পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, যদিও পরে সেই অভিযোগগুলো বাতিল হয়। তাছাড়া, জোয়ি বার্টনকে তার এবং সহ-বিশ্লেষক লুসি ওয়ার্ড ও ব্রডকাস্টার জেরেমি ভাইনকে আপত্তিকর বার্তা পাঠানোর জন্য সাসপেন্ডেড কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যা আলুকোর সমর্থনমূলক প্রচেষ্টার ফলাফল হিসেবে উল্লেখ করা যায়।
বিশ্লেষক হিসেবে আলুকোর পথচলা নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ২০১৪ সালে তিনি “ম্যাচ অফ দ্য ডে”তে প্রথম নারী বিশ্লেষক হিসেবে উপস্থিত হন, যা নারী ফুটবলের মিডিয়া উপস্থিতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি মোট ১১ বছর ধরে টেলিভিশন ও রেডিওতে কাজ করে নিজের বিশ্লেষণ দক্ষতা প্রমাণ করেছেন।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বিশ্লেষক দলের শীর্ষস্থান থেকে পিছিয়ে পড়ার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি নিজেকে এবং অন্যান্য নারী বিশ্লেষকদের জন্য সমান সুযোগের দাবি জানিয়ে, তার ১১ বছরের অভিজ্ঞতাকে তার গুণের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। এই প্রেক্ষাপটে তিনি রাইট ও ওনুহোর অন্তর্ভুক্তিকে “একটি পুরুষ-প্রধান প্যানেল” হিসেবে সমালোচনা করেন, যা তার মতে নারী বিশ্লেষকদের স্বীকৃতি কমিয়ে দেয়।
আলুকোর এই সমালোচনা মিডিয়ার মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করেছে। কিছু বিশ্লেষক তার অবস্থানকে নারীবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে সমর্থন করেন, অন্যদিকে কিছু তাকে “নিজের ক্যারিয়ার রক্ষা করার জন্য অতিরিক্ত আক্রমণ” হিসেবে দেখেন। তবে স্পষ্ট যে তার মন্তব্যের ফলে তার পূর্বের অর্জন ও সামাজিক কাজের মূল্যায়ন পুনরায় বিবেচনা করা হচ্ছে।
ইংল্যান্ডের ফুটবলে আলুকোর অবদান অস্বীকার করা যায় না; তার ক্যাপ সংখ্যা, গোল, টুর্নামেন্ট অভিজ্ঞতা এবং ক্লাব সাফল্য সবই তার ফুটবলের প্রতি অবদানের প্রমাণ। তদুপরি, বর্ণবাদ ও লিঙ্গ বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার সক্রিয় ভূমিকা ইংল্যান্ডের ফুটবলের কাঠামোতে দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন এনেছে।
এখন প্রশ্ন রয়ে গেছে, আলুকোর সাম্প্রতিক মন্তব্য তার দীর্ঘমেয়াদী উত্তরাধিকারকে কীভাবে প্রভাবিত করবে। তার সমালোচনা যদি মিডিয়া নীতিতে পরিবর্তন আনে, তবে তা তার দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের ফলস্বরূপ হতে পারে। অন্যদিকে, যদি তার মন্তব্যকে অতিরিক্ত আক্রমণ হিসেবে দেখা হয়, তবে তা তার পূর্বের সাফল্যকে ছাপিয়ে যেতে পারে না।
ভবিষ্যতে বিবিসি ও ITV কীভাবে বিশ্লেষক দল গঠন করবে এবং নারী বিশ্লেষকদের জন্য কী সুযোগ সৃষ্টি হবে, তা এই বিতর্কের মূল বিষয় হয়ে থাকবে। আলুকোর অবস্থান এবং তার সমর্থকদের দাবি মিডিয়া নীতি গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে, যা নারী ফুটবলের দৃশ্যমানতা ও সমতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
এই ঘটনায় আলুকোর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার এবং ইংল্যান্ডের নারী ফুটবলের সামগ্রিক অগ্রগতি উভয়ই কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে। তার সমালোচনা এবং তার পূর্বের অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে, ফুটবলের ভবিষ্যৎ গঠনে সকল পক্ষের দায়িত্ব স্পষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে।



