অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের এক বছর অর্ধেক পর, আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ ভোটের মাধ্যমে সরকারী মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের পর নতুন সরকারের শপথের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বকাল সমাপ্ত হবে। এ প্রেক্ষাপটে গতকাল (মঙ্গলবার) থেকে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা শেষ কর্মদিবসে বিদায় অনুষ্ঠান শুরু করেছে, যদিও তাদের দায়িত্ব এখনও শেষ হয়নি।
উপদেষ্টা পরিষদে প্রধান উপদেষ্টা সহ মোট ২১ জন সদস্য রয়েছেন। এর পাশাপাশি বিশেষ সহকারী, বিশেষ দূত এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদে চারজন অতিরিক্ত কর্মকর্তা যুক্ত আছেন। প্রতিটি মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার অধীনে চারজন বিশেষ সহকারী নিয়োজিত, যা সরকারের কার্যকরী কাঠামোকে সমর্থন করে।
বিদায়ের সুর মঙ্গলবার থেকেই বাজতে থাকে; অনেক উপদেষ্টা মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক সমাপনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছেন। নির্বাচনের আগের দিন (বুধবার) সরকারি ছুটি হওয়ায় কিছু কর্মী বাড়িতে সময় কাটিয়েছেন, অন্যরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন, আর কেউ অফিসে উপস্থিত থেকেছেন। এই বিচিত্র উপস্থিতি সরকারের শেষ দিনগুলোতে কর্মশক্তির বৈচিত্র্যকে প্রতিফলিত করে।
প্রধান উপদেষ্টা, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আজও ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনসের (ANFRE) সাত সদস্যের একটি পর্যবেক্ষক দল, রোহানা হেট্টিরাচ্ছি নেতৃত্বে, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। একই সময়ে আরেকটি বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক প্রতিনিধিদলও তাকে দেখার সুযোগ পেয়েছে। তিনি আগামীকাল গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোটদান করবেন।
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, তিনি আজ বাড়িতে ছিলেন এবং আইন অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ দুইটি নথিতে স্বাক্ষর সম্পন্ন করেছেন। তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি পুনরায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেবেন, যেখানে তিনি পূর্বে কর্মরত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং তিনি কিছুদিন বিশ্রাম নিয়ে মার্চে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করছেন। সরকারি বাসায় না থাকায় বাড়ি ছাড়ার কোনো প্রশ্ন উত্থাপিত হয়নি।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও কর্মসূচি পরিবর্তন করছেন; আজ সকালে তিনি সংসদ সচিবালয়ে গিয়েছেন এবং শীঘ্রই শিক্ষক হিসেবে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার এই পদত্যাগের ফলে উপদেষ্টা পরিষদের কাঠামোতে আরেকটি শূন্যতা তৈরি হবে, যা নতুন সরকার গঠনের সময় পূরণ করা হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ দিনগুলোতে উপদেষ্টারা তাদের দায়িত্বের সমাপ্তি চিহ্নিত করতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে গঠিত নতুন সরকারে তাদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান নতুন দায়িত্বে স্থান পাবে, যা দেশের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় অবদান রাখবে।



