ইরান সরকারের ৪৭তম ইস্লামিক বিপ্লবের বার্ষিকী তেহরানে মঙ্গলবার রাত ৯ টায় ব্যাপকভাবে উদযাপিত হয়। শহরের ছাদ ও জানালার থেকে “আল্লাহু আকবর” নারা শোনা যায়, আর রঙিন আতশবাজি আকাশে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে উদযাপনের মাঝে অন্ধকারে “মৃত্যু হোক স্বৈরশাসক” শ্লোগানও শোনা যায়, যা শহরের কিছু ঘরে নিরাপদে গুঞ্জরিত হয়। এই বিরোধপূর্ণ সুরটি গত মাসে তেহরান ও অন্যান্য শহরে বিস্তৃত প্রতিবাদ আন্দোলনের ধারাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
গত মাসে তেহরানের কিছু রাস্তা ও চত্বরে ব্যাপক প্রতিবাদে সশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র হস্তক্ষেপ দেখা যায়। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণ ও গ্যাস ব্যবহার করে প্রতিবাদকারীদের দমন করা হয়, যার ফলে বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়, যা পূর্বের উত্থান-পতনে দেখা যায়নি।
প্রতিবাদ পরবর্তী সময়ে ইরান সরকার দেশের সর্ববৃহৎ ইন্টারনেট বন্ধের এক পর্যায় চালু করেছিল, যা ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘ ডিজিটাল শাটডাউন হিসেবে বিবেচিত। এখন ধীরে ধীরে সংযোগ পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে এবং সীমিত সংখ্যক আন্তর্জাতিক সাংবাদিককে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এই সফরটি জুন মাসে ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের পরের প্রথম ভ্রমণ থেকে ভিন্ন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। সেই সময়ে ১২ দিনের যুদ্ধের পর দেশটি ধ্বংসাবশেষে ঢাকা ছিল, এবং আমেরিকান বোমা হামলা ইরানের পারমাণবিক সুবিধাগুলোর ওপরও প্রভাব ফেলেছিল।
আজকের তেহরান, ডামাভাঁদ পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত, রঙিন পতাকা ও ব্যানার দিয়ে সজ্জিত, যা “দশ দিনের ভোর” নামে পরিচিত সময়কে চিহ্নিত করে। এই সময়টি ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের দশ দিন পরের উল্লাসের স্মরণে আয়োজন করা হয়।
১৯৭৯ সালে শাহী শাসনপদ থেকে সিংহাসন ত্যাগের মাধ্যমে ইস্লামিক বিপ্লব ঘটেছিল, যা ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে এবং অঞ্চলে “প্রতিরোধের অক্ষ” গঠন করে। এই অক্ষের মধ্যে ইরানের মিত্র দেশগুলো দীর্ঘদিনের বিরোধী শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
এই বছর উদযাপনকে ছায়া মেলে রেখেছে সাধারণ মানুষের জীবনের ব্যয়বহুলতা, দৈনন্দিন পণ্যের দাম বৃদ্ধির ফলে বাড়তি অসন্তোষ। গত মাসে রাস্তায় শোনা যায় এমন দাবি যে, জনগণ আর্থিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে সরকারকে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নিতে বলছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই ধরনের অসন্তোষ ও প্রতিবাদ ভবিষ্যতে ইরান সরকারের নীতি ও নেতৃত্বের ওপর চাপ বাড়াতে পারে। সরকার যদি অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান না করে এবং রাজনৈতিক দমন অব্যাহত রাখে, তবে বৃহত্তর সামাজিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
তেহরানের এই উদযাপন ও প্রতিবাদের মিশ্রণ ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের জটিলতা প্রকাশ করে। সরকার কীভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবে, তা দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে।



