নির্বাচন কমিশন (ইসি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি চলাকালীন ভোট কেনাবেচা অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট করে জানিয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতের দিকে ইসির জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিকের স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভোট কেনাবেচার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে এবং এসব অভিযোগের প্রতি কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট – ভোট কেনাবেচা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কমিশন জোর দিয়ে বলেছে যে, এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপের সঙ্গে কোনো সংযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর শাস্তি আরোপ করা হবে।
বাংলাদেশের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, ভোট কেনাবেচা—যা অর্থ, সম্পদ বা অন্য কোনো মূল্যবান বিবেচনা দিয়ে ভোটারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা—দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এর জন্য কারাদণ্ড ও জরিমানা নির্ধারিত আছে। ইসি এই আইনগত কাঠামোর ভিত্তিতে সকল প্রকার লঙ্ঘনকে কঠোরভাবে মোকাবেলা করার দায়িত্ব বহন করে।
কমিশনের ঘোষণায় বলা হয়েছে যে, যদি কোনো প্রার্থী, দলের কর্মী বা স্বতন্ত্র ব্যক্তি ভোট কেনাবেচায় জড়িত থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক শাস্তি, দণ্ডমূলক মামলা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নির্বাচনী অযোগ্যতা আরোপ করা হবে। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট এলাকার নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য অতিরিক্ত তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযোগ উত্থাপনকারী রাজনৈতিক দল দাবি করে যে, ভোট কেনাবেচা নির্বাচনকে ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ করার প্রচেষ্টাকে ক্ষুন্ন করে এবং তাই ইসির দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপের আহ্বান জানায়। দলটি উল্লেখ করেছে যে, এই ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সংগ্রহ করা জরুরি, যাতে নির্বাচনের ফলাফলকে কোনোভাবেই বিকৃত করা না যায়।
ইসি এই দাবির প্রতি সাড়া দিয়ে জানিয়েছে যে, কমিশন নির্বাচনকে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ এবং নির্ভরযোগ্য করার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। তদুপরি, ভোটারদের কাছ থেকে প্রাপ্ত যে কোনো অভিযোগের দ্রুত তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে এই নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক চক্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। ইসি ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি, ভোটার শিক্ষা এবং নির্বাচন কর্মীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করেছে, যাতে ভোটদান প্রক্রিয়া কোনো অনিয়ম ছাড়াই সম্পন্ন হয়।
বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন যে, ভোট কেনাবেচার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি প্রয়োগের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোকে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং অবৈধ প্রভাব থেকে দূরে রাখতে উৎসাহিত করা হবে। ফলে, ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঠিক প্রতিফলন ঘটবে।
ইসির এই সতর্কবার্তা নির্বাচনী সময়ে ন্যায়বিচার রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কমিশন স্পষ্ট করে বলেছে যে, প্রমাণিত কোনো লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা অবিলম্বে কার্যকর করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল করা হবে।
অবশেষে, ইসি পুনরায় জোর দিয়ে বলেছে যে, ভোট কেনাবেচা শুধুমাত্র একটি অপরাধ নয়, এটি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য হুমকি স্বরূপ। তাই, সকল রাজনৈতিক দল, প্রার্থী এবং ভোটারকে আহ্বান জানানো হচ্ছে যে, তারা স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচনের জন্য একসাথে কাজ করবে এবং কোনো ধরনের অবৈধ প্রভাবের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকবে।



