লক্ষ্মীপুরে শাহীদ উদ্দিন চৌধুরী আনির, বিএনপি প্রার্থী ও যৌথ সচিব জেনারেল,ের ব্যক্তিগত সহকারীকে বুধবার সন্ধ্যায় ১৫ লাখ টাকা নগদে ধরা হয়। ঘটনাটি জুমুর মোড়ে গাড়ি থামিয়ে নিরাপত্তা দলটি অনুসন্ধান করার সময় ঘটে।
সেই গাড়িটি আনিরের নির্বাচনী প্রচারণার জন্য দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হয়ে আসছে। গাড়ির চালক বদরুল আলম শ্যামল, যিনি আনিরের চাচা ও ব্যক্তিগত সচিব, তাকে নিরাপত্তা চেকপয়েন্টে থামিয়ে নগদ টাকা বের করে নেওয়া হয়।
শো-কার্স নোটিশ পেয়ে শ্যামল ৩০ মিনিটের মধ্যে সিভিল জজের সামনে উপস্থিত হয়ে তহবিলের উৎস ও ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, টাকা নির্বাচনী কর্মীদের মধ্যে বিতরণ করার উদ্দেশ্যে বহন করা হচ্ছিল।
শহরের পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট মোহাম্মদ আবু তারেক ও ডেপুটি কমিশনার এস.এম. মেহেদি হাসান গাড়ি থামানোর সময় উপস্থিত ছিলেন। তারা শ্যামলকে আটক করে, পরে শো-কার্স নোটিশের ভিত্তিতে জজের কাছে হস্তান্তর করেন।
আর্মি ক্যাম্পের মেজর রাহাত খান জানান, সেনাবাহিনী শ্যামলকে নগদসহ আটক করেছে, তবে সঠিক পরিমাণ গণনা করেননি। শ্যামল ও নগদ উভয়ই সিভিল জজের হেফাজতে নেওয়া হয় এবং শ্যামলকে শো-কার্স নোটিশের উত্তর দেওয়ার পর মুক্তি দেয়া হয়।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মেজবাউল হক ভূঁইয়া উল্লেখ করেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে জানেন, তবে রিটার্নিং অফিসারের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়নি।
দ্য ডেইলি স্টার এই ঘটনার পর আনিরের সঙ্গে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করে, তবে কোনো উত্তর পায়নি। তাই বর্তমানে আনিরের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই ধরণের আর্থিক তহবিলের গমনাগমন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আইনগত দিক থেকে প্রশ্ন উত্থাপন করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি প্রেরণ করা হলে, নির্বাচনী কমিশন বা অন্যান্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে।
বিএনপি প্রার্থী ও তার প্রচার দল এই ঘটনার পরবর্তী আইনগত ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নির্ধারণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচনের নিকটবর্তী সময়ে এ ধরনের ঘটনা পার্টির কৌশল ও জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, লক্ষ্য করা যায় যে নিরাপত্তা বাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতি এবং দ্রুত শো-কার্স নোটিশের প্রতিক্রিয়া এই ধরণের আর্থিক লেনদেনের উপর নজরদারি বাড়িয়ে তুলেছে। ভবিষ্যতে একই রকম ঘটনা প্রতিরোধে প্রক্রিয়াগত শৃঙ্খলা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হবে।



