দ্বিতীয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোটদান বৃহস্পতিবার নির্ধারিত, তবে তিনজন প্রার্থী জেল থেকে প্রার্থিতা করছেন। গোপালগঞ্জের দুইটি আসন ও বরিশাল‑৩ আসনে এই তিনজনের নাম তালিকায় রয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন ফরিদপুর কারাগারে এবং একজন কেরানীগঞ্জের বিশেষ কারাগারে আটক, তবে তারা এখনও নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিতে পারবে।
এই নির্বাচনে মোট ২৯৯টি আসনে ২,২৮০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। শেরপুর‑৩ আসনে এক প্রার্থীর অকাল মৃত্যুর কারণে ভোটদান স্থগিত, ফলে ওই আসনে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে পুনরায় নির্ধারিত হবে।
প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে জাতীয় পার্টির প্রাক্তন সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী কবির মিয়া এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম শিমুল। টিপু পূর্বে বরিশাল‑৩ আসনে নির্বাচিত ছিলেন এবং এবারও লাঙল চিহ্ন ব্যবহার করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। কবির মিয়া ও শিমুল দুজনই গোপালগঞ্জের মকসুদপুর এলাকায় ভিত্তিক, তবে দুজনই ফরিদপুর কারাগারে আটক। টিপু কেরানীগঞ্জের বিশেষ কারাগারে রয়েছেন।
কবির মিয়ার বিরুদ্ধে জেলা কাশিয়ানীতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা এবং রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যার মামলা দায়ের রয়েছে। একই সময়ে শিমুলের বিরুদ্ধে উত্তরা‑পশ্চিম থানায় একটি হত্যার মামলা রয়েছে। টিপুর ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট অপরাধের উল্লেখ না থাকলেও তিনি বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন এবং বর্তমানে কেরানীগঞ্জের কারাগারে রয়েছেন।
গোপালগঞ্জ‑১ (মকসুদপুর) আসনে কবির মিয়া গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যেখানে শিমুল স্বতন্ত্রভাবে ফুটবল প্রতীক ব্যবহার করে ভোট সংগ্রহের প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। দুজনেরই অপরাধমূলক মামলার উপস্থিতি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন তুলেছে, তবে আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে জেল থেকে প্রার্থিতা করা সম্ভব বলে নির্বাচন কমিশন অনুমোদন করেছে।
নির্বাচন কমিশনের মহাপরিদর্শক ও সহকারী মহাপরিদর্শক উভয়ই নিশ্চিত করেছেন যে জেলে থাকা এই তিনজন প্রার্থী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে আইন অনুযায়ী জেল থেকে প্রার্থিতা করা নিষিদ্ধ নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত প্রার্থী নির্বাচনী শর্ত পূরণ করেন।
এই পরিস্থিতি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে নির্বাচনী প্রতিযোগিতার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গোপালগঞ্জের দুইটি আসনে অপরাধমূলক মামলার সঙ্গে প্রার্থীদের উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে, আর বরিশাল‑৩-এ টিপুর পুনরায় প্রার্থী হওয়া তার পার্টির কৌশলগত অবস্থানকে প্রভাবিত করবে। তদুপরি, শেরপুর‑৩ আসনের স্থগিত ভোটদান নির্বাচনের সামগ্রিক সময়সূচিকে কিছুটা পিছিয়ে দিতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট অবস্থান এবং আইনগত ভিত্তি নিশ্চিত করেছে যে জেল থেকে প্রার্থিতা করা কোনো বাধা নয়, ফলে ভোটদান প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হবে।
ভবিষ্যতে এই তিনজনের পারফরম্যান্স এবং তাদের মামলার অগ্রগতি রাজনৈতিক গতি পরিবর্তন করতে পারে। যদি কোনো প্রার্থী জেল থেকে মুক্তি পেয়ে ভোট জিতে নেন, তবে তা দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের আলোচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করবে। অন্যদিকে, যদি তাদের বিরুদ্ধে চলমান মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়, তবে তা তাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে শেষ করে দিতে পারে। নির্বাচনের ফলাফল এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।



