20 C
Dhaka
Thursday, February 12, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধটেক্সাসে বাবার গুলিতে ব্রিটিশ তরুণীর মৃত্যু, ট্রাম্প‑সংক্রান্ত তর্কের পর ঘটেছে

টেক্সাসে বাবার গুলিতে ব্রিটিশ তরুণীর মৃত্যু, ট্রাম্প‑সংক্রান্ত তর্কের পর ঘটেছে

২৩ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক লুসি হ্যারিসন, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে তার বাবার বাড়িতে গিয়ে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ নিয়ে তীব্র তর্কের পর বাবার হাতে গুলি হয়ে নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি গত বছর ১০ জানুয়ারি ডালাসের নিকটবর্তী প্রসপার শহরে ঘটেছে, যেখানে লুসি বুকে গুলি পেয়ে মারা যান।

লুসি যুক্তরাজ্যের চেশায়ার জেলার ওয়্যারিংটনে বসবাস করতেন এবং তার বাবা ক্রিস হ্যারিসন, যিনি পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সময় মদ্যপানের সমস্যায় পড়ে পুনর্বাসন কেন্দ্রের সেবা নিয়েছিলেন, তার বাড়িতে তাকে স্বাগত জানাতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। ঘটনাস্থলে গুলির ধ্বনি শোনা মাত্রই লুসি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

লুসির প্রেমিক স্যাম লিটলার জানান, তর্কের সময় লুসি তার বাবাকে প্রশ্ন করেন, যদি তিনি যৌন নির্যাতনের শিকার হন তবে তার অনুভূতি কী হবে। ক্রিস হ্যারিসন উত্তর দেন, তার আর দুইটি মেয়ে আছে, তাই তিনি তেমন উদ্বিগ্ন হবেন না। এই কথায় লুসি মর্মাহত হয়ে ঘরে থেকে বেরিয়ে যান।

বাতাসে গলায় গলায় গিয়ে লুসি আবার বাড়িতে ফিরে আসে। বিমানবন্দরে রওনা হওয়ার আগে ক্রিস হ্যারিসন তাকে শোবার ঘরে নিয়ে গিয়ে ৯ মিমি সেমি-অটো ম্যাটিক পিস্তলটি দেখাতে চেয়েছিলেন। গুলি দেখানোর জন্য বন্দুক তোলার মুহূর্তে হঠাৎ একটি তীব্র শব্দ শোনা যায় এবং লুসি গুলি পায়। ক্রিস হ্যারিসন দাবি করেন, তিনি বন্দুকটি দেখানোর সময় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি তা বুঝতে পারেননি।

স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্ত চালু করে এবং লুসির শ্বাসে মদের গন্ধ পাওয়া যায়। ক্রিস হ্যারিসন স্বীকার করেন, গুলির দিন তিনি পুনরায় মদ্যপান করেছিলেন। যদিও গ্র্যান্ড জুরি লুসির বাবার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না তোলার সিদ্ধান্ত নেয়, তবু যুক্তরাজ্যের চেশায়ার করোনার আদালত লুসি হ্যারিসনের মৃত্যুর বিষয়ে নিজস্ব তদন্ত শুরু করে।

অধিক তদন্তে প্রকাশ পায়, লুসির ছোটবেলায় তার বাবা যুক্তরাষ্ট্রে চলে গিয়েছিলেন এবং মদ্যপানের সমস্যার কারণে পুনর্বাসন কেন্দ্রে ছিলেন। লুসির প্রেমিক লিটলারও জানান, লুসি তার বাবার বন্দুকের উপস্থিতি নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করতেন এবং যখনই ক্রিস হ্যারিসন তাকে বন্দুক দেখানোর কথা বলতেন, লুসি বিরক্ত হতেন।

ব্রিটিশ আদালতে লুসির মা জেন কোটসের আইনজীবী উল্লেখ করেন, গুলির সময় ঘরে কেবল ক্রিস হ্যারিসনই উপস্থিত ছিলেন, অন্য কোনো ব্যক্তি ছিলেন না। এই বিষয়টি মামলার আইনি দিককে জটিল করে তুলেছে।

বর্তমানে টেক্সাসের স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং যুক্তরাজ্যের করোনার আদালত উভয়ই ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ লুসির মৃত্যুর কারণ, গুলির সঠিক সময় ও পরিস্থিতি, এবং ক্রিস হ্যারিসনের মদ্যপানের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে। আদালতও ক্রিস হ্যারিসনের গুলির দায়িত্ব এবং সম্ভাব্য অপরাধমূলক দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য প্রমাণ সংগ্রহে মনোনিবেশ করেছে।

এই ঘটনার পর, যুক্তরাষ্ট্রে গৃহহিংসা ও গুলির নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আলোচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ হয়েছে, বিশেষ করে গৃহে অস্ত্রের নিরাপদ সংরক্ষণ এবং মদ্যপানের প্রভাব সম্পর্কে। লুসি হ্যারিসনের পরিবার ও বন্ধুদের শোক প্রকাশের পাশাপাশি, আইনগত প্রক্রিয়ার ফলাফলকে ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments