১৩ই জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এ অনুষ্ঠিত হবে এবং দেশের শাসন কাঠামোকে ৩৬ বছর পর পুরুষ প্রধানমন্ত্রীর দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে। এই নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত, যেখানে শীর্ষে কে দাঁড়াবে তা নির্ধারিত হবে।
১৯৯১ সালে স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের পতনের পর খালেদা জিয়া প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের শাসন ক্ষমতা প্রায় পাঁচ দশক ধরে দুই নারী নেতার মধ্যে ঘুরে বেড়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান সরকারকে অস্থির করে দেয়; এতে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে এবং দেশের বাইরে চলে যান। তার পদত্যাগের পর আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়, ফলে দলটি এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।
একই বছরই, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩-এ খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যু দুই নারী শাসনের যুগের কার্যত সমাপ্তি ঘটায় এবং রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন ভারসাম্য তৈরি করে।
বিএনপি-র বর্তমান চেয়ারপার্সন হিসেবে তারেক রহমান দায়িত্ব পালন করছেন। দলটির শীর্ষে কোনো নারী নেই এবং বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি বিএনপি জয়ী হয় তবে তারেক রহমানই সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হবেন।
জামায়াত-এ-ইসলামি নেতৃত্বাধীন একাদশ দলীয় জোটও নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে। এই জোটের নেতৃত্বেও পুরুষ শাসকই সরকারপ্রধান হবেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা রয়েছে।
পূর্বের নির্বাচনের প্রতি সমালোচনা অব্যাহত; ২০১৪ সালের নির্বাচনকে ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার’ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনকে ‘রাতের ভোটের’ বলা হয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনকে ‘ডামি ভোটের’ হিসেবে সমালোচকরা চিহ্নিত করেছেন।
এই প্রেক্ষাপটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধুমাত্র ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং গণতন্ত্রের গ্রহণযোগ্যতা পুনর্গঠনের একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভোটের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও শাসন পদ্ধতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক কাজী মোহাম্মাদ মাহবুবুর রহমান উল্লেখ করেন, গত তিন দশকে নারী নেতৃত্ব দেশের রাজনীতিতে শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলেছিল, তবে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতি ও খালেদা জিয়ার মৃত্যুর ফলে পুরুষ নেতৃত্বের পুনরাবির্ভাব এখন স্বাভাবিক।
স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ বহু রাজনৈতিক উত্থান-পতনের সাক্ষী হয়েছে; তবে ‘দুই নেত্রী’ যুগ ছিল সর্বাধিক দীর্ঘ ও প্রভাবশালী সময়কাল। এখন দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট নতুন রূপ নিতে চলেছে।
ভোটারদের সিদ্ধান্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নীতি, অর্থনৈতিক দিক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে। পুরুষ প্রধানমন্ত্রীর শাসন কীভাবে দেশের উন্নয়নকে প্রভাবিত করবে, তা ভোটের পরই স্পষ্ট হবে।
সংক্ষেপে, ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশকে ৩৬ বছর পর পুরুষ প্রধানমন্ত্রীর দিকে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।



