বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) সভাপতি আমিনুল ইসলাম আগামী রবিবার কলম্বোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ভারত‑পাকিস্তান টি২০ বিশ্বকাপ ম্যাচের সময় ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (BCCI) সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি এই ইঙ্গিতটি টুর্নামেন্টের মাঝামাঝি সময়ে দিলেন, যেখানে দুই প্রতিবেশী দেশের দল একে অপরের মুখোমুখি হবে।
অধিকাংশ বিশ্লেষকরা মনে করেন, আমিনুল ইসলাম লাহোরে অনুষ্ঠিত ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে পাকিস্তানকে ভারতবিরোধী সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে রাজি করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সেই বৈঠকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) এবং ICC-এর সঙ্গে আলোচনা হয়, যেখানে পাকিস্তান শেষমেশ ভারতবিরোধী ম্যাচটি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল ICC-কে ভারতীয় মাটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলো অন্য দেশে সরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা, যা BCB-কে নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকে রক্ষা করার জন্য নেওয়া একটি পদক্ষেপ।
ICC-র এই প্রত্যাখ্যানের পর, BCB লাহোরে অনুষ্ঠিত ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে PCB-কে সমর্থনকারী একটি জোট গঠন করে। ভোটের ফলাফলে দেখা যায়, যদি বাংলাদেশ ভারত ভ্রমণ না করে তবে টি২০ বিশ্বকাপে তাদের অংশগ্রহণ বাতিল করা হবে। ফলে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং স্কটল্যান্ডকে পরিবর্তে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
স্কটল্যান্ডের দলকে বাংলাদেশকে বদলে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা আর্থিক ও লজিস্টিক দিক থেকে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে বাধ্য করে। তবে এই পরিবর্তনটি টুর্নামেন্টের সময়সূচি ও গ্রুপ গঠনেও প্রভাব ফেলে, কারণ স্কটল্যান্ডের উপস্থিতি পূর্বে নির্ধারিত ম্যাচের কাঠামো পরিবর্তন করে।
ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের পর ICC স্পষ্ট করে জানায় যে, বাংলাদেশকে কোনো শাস্তি আরোপ করা হবে না। এই ঘোষণাটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নীতি অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো দেশ নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে অংশ না নেওয়ার ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হয়।
ইন্ডিয়া‑পাকিস্তান ম্যাচটি ১৫ ফেব্রুয়ারি রবিবার কলম্বোর আন্তর্জাতিক ক্রীড়া কেন্দ্রের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। এই ম্যাচটি টি২০ বিশ্বকাপের অন্যতম উচ্চ প্রত্যাশিত মুখোমুখি, যেখানে দুই দলই টুর্নামেন্টের শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সংগ্রহ করতে চায়।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। উভয় সংস্থার মধ্যে সম্পর্ক মসৃণ হলে দু’দেশের খেলোয়াড়দের জন্য এক্সচেঞ্জ ট্যুর, যৌথ প্রশিক্ষণ ও শেয়ার্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার উন্নয়নের সুযোগ বাড়বে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ এখনও টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারছে না, তাই আমিনুল ইসলামের ইঙ্গিতটি মূলত ভবিষ্যৎ সহযোগিতার দিকে মনোনিবেশ করে। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা বিষয়ক উদ্বেগ সমাধান হলে দুই সংস্থা একে অপরের সঙ্গে কাজ করার নতুন পথ খুঁজে নিতে পারে।
এই ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জটিলতা ও কূটনৈতিক দিককে উন্মোচন করে, যেখানে ক্রীড়া কেবল মাঠে নয়, কূটনৈতিক মঞ্চেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আগামী সপ্তাহে ভারত‑পাকিস্তান ম্যাচের ফলাফল ও তার পরবর্তী প্রভাবের ওপর নজর থাকবে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ‑ভারত ক্রিকেট সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে সহায়ক হবে।



